ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ৮ আষাঢ় ১৪২৮ আপডেট : ১১ মিনিট আগে

প্রকাশ : ১৩ মে ২০২১, ১৬:০০

প্রিন্ট

হামীম গ্রুপের কারখানায় ‘গোলযোগ’

গুলিও খেলো শ্রমিক, মামলাও খেলো শ্রমিক!

গুলিও খেলো শ্রমিক, মামলাও খেলো শ্রমিক!
ছবি- প্রতিনিধি

জার্নাল ডেস্ক

গাজীপুরের টঙ্গীর মিলগেট এলাকায় হামীম গ্রুপের পোশাক কারখানায় ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ এনে টঙ্গী পশ্চিম থানায় দুটি মামলা হয়েছে। দুই মামলায় আসামি করা হয়েছে ৭৩৪ জন শ্রমিককে।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ্ আলম জানান, মঙ্গলবার রাতে হামীম গ্রুপের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশিকুর রহমান ওরফে আশিক বাদী হয়ে কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনায় ৪৪ জন শ্রমিকের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ২৯০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন। অপরদিকে, সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে অপর একটি মামলা করেন টঙ্গী পশ্চিম থানার এসআই মো. নাজমুল হুদা। এ মামলায় ৩০০ থেকে ৪০০ জন অজ্ঞাত শ্রমিককে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বিষয়ে জানতে হামীম গ্রুপের এজিএম (টঙ্গী জোন) মিজানুর রহমান খানের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এর আগে গত সোমবার (১০ মে) ছুটি বাড়ানোর দাবিতে হামীম গ্রুপের ওই কারখানার শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করে। এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের রাবার বুলেটে আহত ২০ জন শ্রমিককে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয় শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে। ওই হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ও করোনা ফোকাল পারসন মো. পারভেজ হোসাইন ঘটনার দিন জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় রাবার বুলেটে আহত ২০ জন শ্রমিককে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এছাড়া আহত একজন পুলিশ সদস্যকেও প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

এছাড়া আহত শ্রমিকদের মধ্যে মামুন (২৭), রবি (২১), লতিফ (১৯), ইমরান (১৯), রুবেল (২২), রুবেল (২৪), রনি (২২), এহসানুল হক (৩৫), রাজীবুল (২৬), হাসান (২৬) কলি (২৪), নিজাম উদ্দিন (৩০), সমলা (২৫), ইয়াসমিন (২০), হাসিনা (৪০), সাব্বির (২২), সাবিনা (২৫), রিনা (২০) এর নাম জানা যায়। তাদের মধ্যে ১১ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।

হামীম গ্রুপের পোশাক শ্রমিক দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবেই বিক্ষোভ কর্মসূচি করছিলাম। হঠাৎ করে আমাদের ওপর নির্যাতন শুরু হয়। পুলিশ গিয়ে গুলি ও লাঠিপেটা করে। এতে আমাদের বেশ কয়েকজন শ্রমিক গুলিবিদ্ধ হন।

গাজীপুর শিল্পা পুলিশ (জোন-২) এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন ঘটনার দিন জানিয়েছিলেন, হামীম গ্রুপের পোশাক শ্রমিকরা সোমবার সকালে ছুটির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। এক পর্যায়ে দুপুরের দিকে তারা কারখানায় ভাঙচুর করে পাশের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করে।

এ সময় পুলিশ তাদের সরাতে গেলে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুঁড়তে থাকে। এ সময় প্রায় ২০ মিনিটের মতো ওই মহাসড়কে যান চলাচল বিঘ্নিত হয়। তিনি বলেন, এক পর্যায়ে পুলিশ কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং প্রায় আধঘণ্টা পর মহাসড়কে যানবাহন চলাচল শুরু করে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত