ঢাকা, বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ৯ আষাঢ় ১৪২৮ আপডেট : ৭ মিনিট আগে

প্রকাশ : ২৩ মে ২০২১, ১৬:০১

প্রিন্ট

উৎপাদন ভালো হওয়াতে খাদ্য সংকট হয়নি: কৃষিমন্ত্রী

উৎপাদন ভালো হওয়াতে খাদ্য সংকট হয়নি: কৃষিমন্ত্রী
সংগৃহীত।

জার্নাল ডেস্ক

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, গত আউশ আমনে চালের ফলন ভালো হয়নি। অন্যদিকে সরকারি ও বেসরকারিভাবে প্রয়োজনীয় চাল নানা কারণে আমদানি করা সম্ভব হয়নি। তারপরও আমাদের খাদ্যে সংকট হয়নি। আমরা যে খাদ্যে অনেকটা স্বয়ংসম্পূর্ণ সেটা প্রমাণ হয়েছে।

রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষ থেকে অনলাইনে বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পের (এডিপি) বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, গত আউশ আমনে বন্যার কারণে উৎপাদন কম হওয়ায় চালের দাম কিছুটা বেশি ছিল। এর ফলে স্বল্প আয়ের, সাধারণ মানুষের কিছুটা কষ্ট হয়েছে। কিন্তু করোনা মহামারি সত্ত্বেও দেশে এমনটা হয়নি যে, দেশে দুর্ভিক্ষ চলছে, বাজারে গিয়ে চাল পাওয়া যায়নি। দেশে চালের উৎপাদন ভালো হওয়াতেই খাদ্যের চরম সংকট দেখা দেয়নি।

তিনি বলেন, সবাই ধারণা করেছিলেন, করোনা মহামারির কারণে অর্থনৈতিক মন্দা ও স্থবিরতায় বাংলাদেশে চরম খাদ্য সংকট দেখা দেবে। হয়তো দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে। কিন্তু নিজস্ব উৎপাদন ভালো হওয়াতেই বাংলাদেশে খাদ্য নিয়ে কোনো ধরনের হাহাকার ও সংকট হয়নি।

এবছর বোরো আবাদ ভালো হয়েছে । বন্যা না হলে এবার আউশেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ার আশা প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, এ বছর আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছিলাম চালের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য। বেশি জমি চাষের আওতায় আনা ও হাইব্রিড জাতের ধান চাষে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়া হয়েছিল। বীজ, সারসহ নানা প্রণোদনা কৃষকদেরকে দেওয়া হয়েছে। আগামী আমনে উৎপাদন বাড়তেও পূর্বপ্রস্তুতি চলছে।

তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় এবছর প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। প্রায় ৩ লাখ ২৭ হাজার হেক্টর জমিতে হাইব্রিডের আবাদ বেড়েছে। বর্ধিত এরিয়া ও হাইব্রিডের চাষ দুটি মিলে আমরা আশা করছি গত বছরের তুলনায় ১০-১২ লাখ টন চাল উৎপাদন বেশি হবে। মাঠ থেকে যেসব তথ্য পেয়েছি তাতেও দেখছি চাষিরা ভালো ফলন পেয়েছে, তারা খুশি। ধানের দামও ভালো। আমাদের লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, চলমান ২০২০-২১ অর্থবছরের আরএডিপিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৮২টি প্রকল্পের অনুকূলে মোট ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ আছে। এপ্রিল ২০২১ পর্যন্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি হয়েছে ৫৯ শতাংশ, যেখানে জাতীয় গড় অগ্রগতি ৪৯ শতাংশ।

এ বছর বোরোতে ২ কোটি ৫ লাখ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা। গত বছর উৎপাদন হয়েছিল ১ কোটি ৯৬ লাখ টন।

সভাটি সঞ্চালনা করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম। এসময় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং সংস্থাপ্রধানসহ প্রকল্প পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এমএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত