অর্থ লোপাট হলে বড় বাজেটে লাভ নেই: অ্যাটর্নি জেনারেল
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৬, ১৪:০৬

জাতীয় বাজেটের আকার বৃদ্ধির চেয়ে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ ও সুশাসন নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, খুব বড় বাজেটের মাধ্যমে যদি আবার কোনো কারণে ৩০ শতাংশ বা ২০ শতাংশ লোপাট হয়ে যায়, তাহলে যত বড় বাজেটই করা হোক না কেন, তার কোনো লাভ নেই।
সাংবাদিকদের কাছে তিনি বাজেট, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং তার নিজস্ব কার্যালয়ের মিতব্যয়িতা ও সততার বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরেন। বাজেট যে যে কাজে ব্যবহার করা হবে, সততার সঙ্গে যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু যেন স্ব-স্ব বিভাগ ব্যবহার করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসেও ‘বাজেট সংকট ও বাজেট স্বল্পতা রয়েছে’ জানিয়ে রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, আমি নিজেও তো অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে এখানে বসে তার প্রয়োজনের তো অনুভব করছি। অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের আমাদের আনুষঙ্গিক যে সমস্ত খরচ, এমনকি মামলা করা, মামলা মানে সেগুলো অনেক ক্ষেত্রে আমাদের আইন কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত পকেট থেকে করতে হয়। কিন্তু আমরা এত সত্ত্বেও রাষ্ট্রের প্রয়োজনে কাজ করে থাকি।
‘জুন ক্লোজিংয়ের’ নামে অর্থবছর শেষে তড়িঘড়ি করে টাকা খরচের যে চিরাচরিত সরকারি সংস্কৃতি রয়েছে, তার বিপরীতে নিজের অফিসের একটি অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
‘এই অফিসে সরকারের পক্ষ থেকে যখন বরাদ্দ দেওয়া হয়, বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়। আমাদের এখানে আসবাবপত্রের একটা খাত আছে কেনার। বাজেট ক্লোজিং হয় জুন মাসের ৩০শে জুনের পর, অর্থাৎ যে প্রয়োজনীয় টাকা আপনি খরচ করবেন, সেই টাকাটি খরচ করবেন আপনার ৩০শে জুনের মধ্যে, তা না হলে এই বাজেটটা ল্যাপস হয়ে যাবে।’
অফিসের কর্মকর্তাদের বরাতে তিনি বলেন, আমার অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেছেন, স্যার, এই টাকাগুলো তো আমাদের বাজেটের মধ্যে ৩০শে জুনের মধ্যে খরচ না করলে এই টাকাটা ল্যাপস হয়ে যাবে, ফেরত চলে যাবে স্যার।' তো যাবে, তো অসুবিধা কী? এখন আমার টাকা ফেরত চলে যাবে বলে কী আমি নয়-ছয় করে টাকাপয়সা দিয়ে আসবাবপত্র কিনব নাকি? আমার তো নিজে...১৯ লাখ টাকা ফেরত দিচ্ছি। যেটা যদি কোনো কারণে আইনগতভাবে ইচ্ছা করলে এই ১৯ লাখ টাকা আমরা বিভিন্নভাবে খরচ...তো আমি দেখছি এই অফিসের ১৯ লাখ টাকার আসবাবপত্র কেনার মত কোনো প্রয়োজনীয়তা এই মুহূর্তে নেই।
সরকারি অর্থের অপচয় রোধে সশরীরে দোকানে গিয়ে আসবাবপত্র কেনার একটি উদাহরণ দিয়েছেন তিনি।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আমি যে চেয়ারটিতে বসি, আমি এই চেয়ারটি নিজে কিনতে গিয়ে একটা দোকানে গিয়ে দেখছি এর দাম বেশি। আমি নিজে সশরীরে হাতিলে গেছি। হাতিলে গিয়ে ওখানে গিয়ে তাদের সঙ্গে বার্গেনিং করছি। বার্গেনিং করে তাদের...পাবলিশড প্রাইজ রিডিউস করাইছি। রিডিউস করানোর পরে আমার অফিসকে বলেছি আমি রিডিউস করে এত টাকা আসছি, আপনারা সেভাবে করে এটা কিনে নিয়ে আসবেন।
অর্থের যথাযথ ব্যবহারের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের এই টাকাটা তো আকাশ থেকে আসে নাই। জনগণের কষ্টের টাকা, ঘামের টাকা। এর প্রত্যেকটা টাকার একেবারে যথাযথ ব্যবহার হবে, প্রয়োগ হবে, দেশের জন্য, মানুষের জন্য, কল্যাণের জন্য।
রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের মিতব্যয়িতার উদাহরণ টেনে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আপনারা তো দেখছেন আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নিজেই তো ৮০ টাকা ৯০ টাকা দিয়ে দুপুরে লাঞ্চ করেন। এটা তো আমি নিজেও আমার দুইদিনের সৌভাগ্য হয়েছে। আমরা যদি এই যথাযথ সম্পদের সদ্ব্যবহার করতে পারি, অর্থটা যদি অপচয় রোধ করতে পারি, তাহলে তো আমার মনে হয় যে বাংলাদেশের বাজেটের আকারের সঙ্গে নির্ভর করবে না, নির্ভর করবে এর যথাযথ ব্যবহারের ওপর।
অতীতের অনিয়মের সমালোচনা করে কাজল বলেন, আমি চাই না যে দেশের টাকা নানা রকমভাবে অতীতের সময়কালের মধ্যে আমরা দেখেছি যেভাবে নয়-ছয় করা হয়, আগামী দিনের বাংলাদেশের কোনো মানুষ প্রত্যাশা করে না রাষ্ট্রের একটা কানাকড়িও কেউ নয়-ছয় করে। এবং আমরা সেটা সুনিশ্চিত করতে চাই আমাদের যার যার অবস্থান থেকে। এ অফিসে আমি আছি, আমার অফিসে এটা সুনিশ্চিত করতে চাই।
তার কথায়, নতুন সরকারের সময়ে নতুন প্রত্যাশা নিয়ে ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত’ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছে, সেখানে সবাই দেশপ্রেম নিয়ে, সততা নিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম










