ঢাকা, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ আপডেট : ১৭ মিনিট আগে
শিরোনাম

ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের ‘বিতর্কিত’ ধারা বাতিল: সংসদে অর্থমন্ত্রী

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৬, ১৯:১৭  
আপডেট :
 ২৯ জুন ২০২৬, ১৯:২৩

ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের ‘বিতর্কিত’ ধারা বাতিল: সংসদে অর্থমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের ‘বিতর্কিত’ ১৮(ক) ধারা বাতিল করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে নিজের দেওয়া বাজেটের উপর সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেছেন, “অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে সরকার ধারাটি বিলোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

“আমাদের বার্তা স্পষ্ট - যারা জনগণের সম্পদ লুট করেছেন, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যদিকে আমানতকারীদের আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।”

গত ১১ জুন সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তাতে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৬ শতাংশে উন্নীত করার পাশাপাশি রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্য ধরা হয়েছে, তার পক্ষে নিজের যুক্তি তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।

সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে অনিয়ম ও পাচারের অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কিছু মন্তব্য এসেছে। আমি আজ দেশবাসীকে এ সংক্রান্ত দুটি বিষয়ে আশ্বস্ত করতে চাই।

“প্রথমত, চুরি করা সম্পদ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আমাদের অবস্থান হলো— জনগণের টাকা যারা আত্নসাৎ করেছে বা পাচার করেছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত ১১টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলায় দেশে ও বিদেশে প্রায় ৭২ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ বা ফ্রিজ করা হয়েছে।”

দ্বিতীয় বিষয় হিসেবে তিনি বলেন, “একীভূত পাঁচটি শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে আমি আমানতকারীদের আশ্বস্ত করতে চাই— সাধারণ মানুষের আমানত রক্ষাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

“একীভূত পাঁচ ব্যাংকের ব্যক্তিগত আমানতকারীরা তাদের চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাব থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত তোলার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাকি অর্থ ধাপে ধাপে ফেরত দেওয়া হবে।”

গত ১০ এপ্রিল বিএনপি সরকার অন্তর্বর্তী সরকারের করা ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত করে। আইনটি সংসদে পাসের আগে ১৮(ক) নামে একটি নতুন ধারা যুক্ত করা হয়।

এই ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক রেজোল্যুশনের আওতায় যাওয়ার আগে যারা এর শেয়ার ধারক ছিলেন, তারা চাইলে পরে আবার সেই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায় নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করতে পারবেন। বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকেও এ সুযোগ দিতে পারবে।

ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনে নতুন ধারাটি যুক্ত করার পর বিতর্ক তৈরি হয়। সংসদে বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়, এস আলমসহ বিতর্কিত ব্যবসায়ীদের হাতে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দিতেই এ ধারা যুক্ত করা হয়েছে।

সংসদের বাইরেও এই ধারা নিয়ে সমালোচনা হয়। বেসরকারি ব্যাংক উদ্যোক্তা-মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) ও ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি) ধারাটি বাতিলের দাবি জানায়।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) তরফে বলা হয় রেজল্যুশন আইনে একীভূত হওয়া দুর্বল ব্যাংকের পুরনো শেয়ারধারীদের মালিকানায় ফেরার বিধান যুক্ত করার উদ্যোগ ‘আত্মঘাতীমূলক’।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসআইপি

  • সর্বশেষ
  • পঠিত