ঢাকা, রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ আপডেট : ২ মিনিট আগে
শিরোনাম

কক্সবাজারে বন্যা-পাহাড় ধসে আরও দুজনের প্রাণহানি

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৫

কক্সবাজারে বন্যা-পাহাড় ধসে আরও দুজনের প্রাণহানি

টানা কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড় ধসে কক্সবাজারে আরও দুজনের প্রাণহানি হয়েছে। তাদের মধ্যে কক্সবাজার শহরে পাহাড় ধসে এক নারী এবং পেকুয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে ১৯ মাস বয়সি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

এ নিয়ে চলমান দুর্যোগে জেলায় বন্যা ও পাহাড় ধসে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ জনে।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম বলেন, শনিবার রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বলিরপাড়া এলাকায় বন্যার পানিতে ডুবে এক শিশু মারা গেছে। ১৯ মাস বয়সি মুশফিকুর রহিম ওই এলাকার প্রবাসী নাছির উদ্দীনের ছেলে।

স্থানীয় সাংবাদিক হিরো আলম বলেন, বন্যার পানিতে শিশুটির পরিবারের ঘরে হাঁটু পানি এবং উঠানে কোমরসমান পানি জমেছিল। এ সময় শিশুটিকে ঘরে রেখে বাইরে কাজ করছিলেন তার মা। একপর্যায়ে সবার অগোচরে শিশুটি পানিতে পড়ে স্রোতের সঙ্গে ভেসে যায়। পরিবার ও স্থানীয়রা অনেক খোঁজাখুঁজির পর ঘর থেকে প্রায় ১২০ ফুট দূরে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে ইউএনও রফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও অনেক এলাকায় এখনো পানি রয়েছে। তাই বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসাইন বলেন, শনিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে শহরের পূর্ব কলাতলীর ঝরঝরিপাড়ায় পাহাড় ধসে এক নারী নিহত হয়েছেন। অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন পরিবারের অন্য সদস্যরা।

নিহত রোজিনা বেগম (৪০) ওই এলাকার আব্দুল মজিদের স্ত্রী।

স্বজনদের বরাতে ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা সৈয়দ মোরশেদ হোসাইন বলেন,রাতের খাবারের প্রস্তুতির সময় রোজিনা বেগম পাহাড়ের পাশের রান্নাঘরে গেলে হঠাৎ পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে। এতে তিনি মাটিচাপা পড়েন।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর রোজিনা বেগমকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তার স্বামী আব্দুল মজিদও সামান্য আহত হয়েছেন।

আব্দুল মজিদ বলেন, তিনি স্ত্রীকে বারবার রান্নাঘরে না যেতে বলেছিলেন। কারণ টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ধসের আশঙ্কা ছিল।

সৈয়দ মোরশেদ হোসাইন বলেন, জেলার পাহাড়গুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিয়মিত মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হলেও অনেকেই জীবিকার তাগিদে আবারও ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে ফিরে আসছেন।

তিনি বলেন, টানা বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখনো পাহাড় ধস ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি রয়ে গেছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পাহাড় ঘেঁষা এলাকায় অবস্থান না করার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত