ঢাকা, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ আপডেট : ৩৯ মিনিট আগে
শিরোনাম

তেহরানকে চরম হুঁশিয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের

  জাার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ১৯:০৮

তেহরানকে চরম হুঁশিয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের

ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় সমবেত ইরানিরা ডনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার দাবিতে প্রকাশ্য স্লোগান দেওয়ার পর তেহরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এর আগে ইসরায়েলও ট্রাম্পকে সতর্ক করে জানিয়েছিল, তেহরান প্রশাসন তাকে হত্যার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে সক্রিয় রয়েছে।

শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক আক্রমণাত্মক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের দিকে ১০০০ ক্ষেপণাস্ত্র তাক করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টকে, অর্থাৎ আমাকে হত্যার জন্য ইরান সরকার বিশ্বজুড়ে যে হুমকি দিচ্ছে, যদি তার বাস্তবায়ন হয় বা তারা চেষ্টা করে, তবে মুহূর্তের মধ্যে ইরানে আরও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানবে।

পোস্টে ট্রাম্প আরও লেখেন,ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশ জারি করা হয়েছে। আগামী এক বছর মেয়াদের মধ্যে (যা পরে বাড়ানো হতে পারে) ইরানের প্রতিটি অঞ্চল সম্পূর্ণ ধ্বংস ও গুঁড়িয়ে দিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী এখন পুরোপুরি প্রস্তুত ও সক্ষম। সকল প্রশংসা আল্লাহর!

মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ট্রাম্পকে হত্যার একটি নতুন এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করছে বলে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছিল ইসরায়েল।

এদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এর সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যে ইরানের একটি অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও সক্রিয় ষড়যন্ত্রের বিবরণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালও এই হুমকিকে ‘একেবারে নতুন’ বলে নিশ্চিত করেছে।

২০২০ সালে ট্রাম্পের নির্দেশে ড্রোন হামলায় ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর থেকেই তেহরান ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার শপথ করে আসছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হুমকির কারণেই চলতি সপ্তাহের শুরুতে তুরস্কে নেটো সম্মেলন থেকে ফেরার সময় মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস ট্রাম্পকে বিমান পরিবর্তন করার অনুরোধ করেছিল।

ডনাল্ড ট্রাম্পের এমন উগ্র বাগাড়ম্বর সত্ত্বেও তেহরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত করার আলোচনা এখনও চলছে বলে জানা গেছে।

বুধবার হরমুজ প্রণালির কাছে কাতার ও সৌদি আরবের ট্যাংকারে ইরানি হামলার পর দুই রাত ধরে ইরানে মার্কিন বিমান হামলা চলে। এর জবাবে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর ট্রাম্প দাবি করেন, তেহরানের সঙ্গে সাময়িক যুদ্ধবিরতির অবসান ঘটেছে।

ট্রাম্প তার পোস্টে লেখেন, ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান আমাদের ‘আলোচনা’ চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছে। আমরা তাতে রাজি হয়েছি, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, যুদ্ধবিরতির দিন শেষ!

ওয়াশিংটনের এই ক্রমবর্ধমান চাপের জবাবে ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ বলেছেন, তেহরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া সমঝোতা স্মারক থেকে ওয়াশিংটন পিছিয়ে গেলে ইরান আত্মরক্ষায় পুরোপুরি প্রস্তুত বলে জোর দেন তিনি।

কলিবফ বলেন, দেশ রক্ষার প্রস্তুতি আমরা কখনোই বন্ধ করিনি। আমেরিকানরা যদি কোনো মুহূর্তে এই সমঝোতা ভঙ্গ করে, তবে আমরা পূর্ণ মাত্রায় আত্মরক্ষামূলক লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। যুদ্ধ বন্ধ করা বিশ্বের দেশগুলোর অগ্রাধিকার হতে পারে, তবে সবার জানা উচিত যে, এই সংঘাত কখনোই ইরানের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে শেষ হবে না।

উভয় পক্ষের চরম হুঁশিয়ারি এবং ইরানের পাঁচটি প্রদেশে মার্কিন বিমান হামলার পরও পর্দার আড়ালে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ইতিমধ্যে তেহরান সফর করেছেন।

এরই মধ্যে ইরানের তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, কৌশলগত হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনার জন্য দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ওমানের রাজধানী মাস্কাটে অবস্থান করছেন।

এদিকে বর্তমান পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

থমকে যাওয়া আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করতে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও সাম্প্রতিক মার্কিন হামলা ও ট্রাম্পের হুমকির পর ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্য নিয়ে চরম সন্দিহান তেহরান।

অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট, চুক্তি করতে হলে ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত ও পারমাণবিক সামগ্রী হস্তান্তর করতে হবে। বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জেরে ইতিমধ্যে তেহরানকে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওয়াশিংটন।

বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত