‘ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা কেন, এখনই ফিরুন’
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ২১:৫২

দেশে আসার আগ্রহ থাকলে ‘ডিসেম্বর পর্যন্ত’ অপেক্ষা না করে শেখ হাসিনাকে ‘এখনই’ ফিরতে বলেছেন বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। কিন্তু ফিরে আসার ‘বাস্তব পরিকল্পনা’ না থাকলে বারবার ঘোষণা দিয়ে নেতাকর্মীদের ‘ঝুঁকিতে’ না ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১১ জুলাই) নিজের ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ নজরুল এসব কথা বলেন।
মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা আসিফ নজরুলের আমলেই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গঠন থেকে শুরু করে সাজার রায় আসে।
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছিলেন শেখ হাসিনা, জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর একই অপরাধে সেই আদালতেই মৃত্যুদণ্ডের সাজা হয়েছে ক্ষমতাচ্যুত এই প্রধানমন্ত্রীর।
সম্প্রতি বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরে নেতাকর্মীসহ আদালতে আত্মসমর্পণ করার কথা বলেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি, যিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।
রয়টার্সকে দেওয়া এ সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ ধরে আসিফ নজরুল লেখেন, স্বাগতম, শেখ হাসিনা। অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করেছিল। বর্তমান বিএনপি সরকারও একই উদ্যোগ নিয়েছে। সরকার বলছে, তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার করতে চায়। অন্যদিকে, শেখ হাসিনাও দেশে ফেরার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। যদি সেটিই সত্য হয়, তাহলে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা কেন? শেখ হাসিনা, আপনি এখনই দেশে ফিরে আসুন।
অভ্যুত্থানে প্রাণহানির বিষয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য জানতে চেয়ে পোস্টে আসিফ নজরুল লেখেন, বাংলাদেশের জনগণের সামনে এবং আদালতের সামনে আপনার অনেক প্রশ্নের জবাব দেওয়ার আছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শত শত মানুষের প্রাণহানির দায় নিয়ে আপনার বক্তব্য কী? আপনার শাসনামলে বিডিআর হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, আয়নাঘর, ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ—এসব বিষয়ে আপনার ব্যাখ্যা কী? কেন দীর্ঘ সময় ধরে দেশের জনগণ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল? কেন আমরা ভারতের আজ্ঞাবহ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিলাম? এসব প্রশ্নের উত্তর ইতিহাসও খুঁজবে, আদালতও শুনতে চাইবে।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, আপনি জুলাই গনঅভূত্থানকালে আপনার পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে আগেই বিদেশে পাঠিয়েছেন। কিন্তু আপনার সরকারের কর্মকাণ্ডের রাজনৈতিক ও আইনি পরিণতির ভার বহন করতে হয়েছে আওয়ামী লীগের অসংখ্য সাধারণ নেতা-কর্মীকে। তাদের অনেকেই আজও বিভিন্ন মামলার মুখোমুখি বা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তাই, যদি সত্যিই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তাহলে আর বিলম্ব করবেন না। ফিরে আসুন, আইনের মুখোমুখি হোন এবং আদালতে আপনার অবস্থান তুলে ধরুন। আর যদি দেশে ফেরার বাস্তব পরিকল্পনা না থাকে, তাহলে বারবার ফেরার ঘোষণা দিয়ে নিজের দলের সাধারণ নেতা-কর্মীদের বিভ্রান্ত বা অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকির মধ্যে ফেলবেন না।
বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম










