ঢাকা, শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬ আপডেট : ৪ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০১৯, ১৭:৪৭

প্রিন্ট

ভুয়া ভাউচারে প্রাথমিকের কোটি টাকা লুটপাট

ভুয়া ভাউচারে প্রাথমিকের কোটি টাকা লুটপাট
প্রতীকী ছবি
রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ১৬১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে শিক্ষা উন্নয়নের ১ কোটি ৭৯ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দ লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দৌলতর রহমানের নেতৃত্বে উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী তৌহির উদ্দিনসহ তাদের পছন্দের ২/৪জন প্রধান শিক্ষককে নিয়ে ওই বরাদ্দের টাকা লুটপাট করা হয়েছে।

শিক্ষা কর্মকর্তার এমন নৈরাজ্যকর কর্মকাণ্ডের কারণে উপজেলাব্যাপী শিক্ষকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-২০১৯ সালের সরকারের রাজস্ব তহবিল ও পিইডি-৪ এর আওতায় ৫টি প্রকল্পের মাধ্যমে ১৬১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৃথকভাবে বরাদ্দ দেয়া হয় ১কোটি ৭৯ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। উপজেলার ১৬১টি বিদ্যালয়ে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে স্লিপ প্রকল্পে ৯০ লাখ ৫ হাজার টাকা, এছাড়াও ২৩টি স্কুলে ২ লাখ টাকা করে ৪৬ লাখ টাকা, ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য ৫ স্কুলে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, রুটিন ম্যান্টেইনেন্স বাবদ ১৬১ স্কুলের জন্য ৪০ হাজার টাকা করে ৬৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা, ওয়াশব্লকের নামে ২০টি স্কুলের জন্য ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা, প্রাক প্রাথমিকের ১০ হাজার টাকা করে ১৬১ স্কুলের জন্য ১৬ লাখ ১০ হাজার টাকা করে ৫টি প্রকল্পের জন্য সর্বমোট ১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ৪৫ হাজার টাকার বরাদ্দ দেয়া হয়।

বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, উপজলা শিক্ষা অফিসার দৌলতর রহমান ও উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী স্কুল ভিজিট করে বরাদ্দকৃত কাজের তদারকির মাধ্যমে প্রত্যয়নপত্রের নাম করে ১৬১ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছ থেকে লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বিগত ১৮-১৯ অর্থবছরে বরাদ্দের ওই অর্থ ৩০ জুনের আগে কাজ শেষ করার কথা। এছাড়া স্ব-স্ব বিদ্যালয়ের একাউন্টে দেয়ার নিয়ম থাকলেও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দৌলতর রহমান তা না করে সব টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নিজ একাউন্টে রেখে দেন। পরে নিজের ইচ্ছা মাফিক বরাদ্দ অনুযায়ী ২৩টি স্কুলের হেডমাস্টারদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ও উপজেলা সহকারী ইঞ্জিনিয়ার তৌহির উদ্দিন ১০ হাজার টাকা, এভাবে ক্ষুদ্র মেরামত, স্লিপ, রুটিন ম্যান্টেইনেন্স, প্রাকপ্রাথমিক, ওয়াশব্লকসহ প্রত্যেকটি প্রকল্প থেকে ১৬১টি স্কুলের কাছ থেকে ভুয়া বিল ভাউচার দুর্বলতার সুযোগে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

এদিকে হয়রানির ও চাকরি হারানোর ভয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রধান শিক্ষক জানান, শিক্ষা কর্মকর্তা দৌলতর রহমান এক বছর ধরে যোগদানের পর থেকে স্কুল ভিজিট ফি থেকে শুরু করে শিক্ষক বদলি বাণিজ্য, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিতরণ বাণিজ্যসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত। মোট কথা টাকা ছাড়া তিনি কোনো কথাই বলতে রাজি নন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী তৌহির উদ্দিন বলেন, এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলবো না। কারণ আপনিতো আমার অফিসের কেউ না।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দৌলতর রহমান বলেন, বরাদ্দকৃত টাকা যাতে ফেরত না যায় সেজন্য জুন মাসে টাকা উত্তোলন করে নিজ ব্যাংক একাউন্টে জমা রাখা হয়েছে। বিদ্যালয়গুলোর শতভাগ কাজ সম্পন্ন করার পরেই বিল পরিশোধ করা হয়েছে। সরকারি টাকা লুটপাটের কোনো সুযোগ নেই। আমার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সঠিক নয়। তবে প্রকৌশলীর সাথে শিক্ষকদের কিছু হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির জাহান বলেন, আমি রামগঞ্জে নতুন এসেছি। তবে এ ব্যাপারে আমার কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। এরপরও বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি। সত্যতা পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত
close
close