ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬ আপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:৪৬

প্রিন্ট

ক্লাবের নামে ক্যাসিনো

ক্লাবের নামে ক্যাসিনো
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর বিভিন্ন নামিদামি ক্রীড়া সংস্থার নামের আড়ালে গড়ে উঠেছে অবৈধ ক্যাসিনো। আধুনিক সাজসজ্জা আর কড়া নিরাপত্তায় এগুলো পরিচালিত হয়ে আসছে। পরিচালনার জন্য বিদেশ থেকে আনা হয়েছে প্রশিক্ষিত জনবল। সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন ক্লাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচালিত অভিযানে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসেছে।

রোববার রাজধানীর আরামবাগ ক্রীড়াসংঘ, দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাব, ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে একযোগে অভিযান পরিচালনা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ ক্যাসিনো-জুয়ার সামগ্রী, মাদকদ্রব্য, নগদ টাকা ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এই ক্লাবগুলোয় ক্যাসিনো রয়েছে বলে প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে এটি পরিচালিত হয়। চারটি ক্লাবেই ক্যাসিনোর সামগ্রী পাওয়া গেছে।

অভিযান চলাকালে আনোয়ার হোসেন জানান, যেসব ক্লাবে ক্যাসিনো জুয়া হয় বলে আমাদের কাছে অভিযোগ আছে, সেগুলোতেই আমরা অভিযান চালাচ্ছি। এটা চলমান প্রক্রিয়া। আমরা এখানে চারটি ক্লাবে অভিযান চালিয়েছি। সকালে গোপীবাগের ব্রাদার্স ইউনিয়নেও আমরা গিয়েছিলাম। তবে সেখানে ক্যাসিনো কিংবা অবৈধ কিছু পাওয়া যায়নি।

অভিযান শেষে ভিক্টোরিয়া ক্লাব থেকে বিভিন্ন ধরনের জুয়া খেলার ৯টি বোর্ড, এক লাখ টাকা, বিপুল পরিমাণ তাস, জুয়ায় ব্যবহৃত চিপস ও মদ পাওয়া গেছে।

মোহামেডানে পাওয়া গেছে দুটো রুলেট টেবিল, ৯টি বোর্ড, বিপুল পরিমাণ কার্ড, ১১টি ওয়্যারলেস সেট ও ১০টি বিভিন্ন ধরনের ছুরি।

আরামবাগ ও দিলকুশা ক্লাবেও বাকারা ও রুলেট টেবিলসহ বিভিন্ন জুয়ার সরঞ্জাম পেয়েছে পুলিশ। তবে সব ক্লাবই বন্ধ ছিলো বলে জানিয়েছে পুলিশ কর্মকর্তারা।

গত সপ্তাহে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে যুবলীগ নেতাদের নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ঢাকায় যুবলীগ নেতাদের ‘৬০টি ক্যাসিনো চালানোর’ খবর আসে সংবাদমাধ্যমে। এ নিয়ে আলোচনার মধ্যেই গত বুধবার বিকেলে গুলশান ২ নম্বরের ৫৯ নম্বর সড়কে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া বাসা এবং ফকিরাপুল ইয়ংমেনস ক্লাবে একযোগে অভিযান চালায় র‌্যাব। ফকিরাপুলের ওই ক্লাবের সভাপতিও ছিলেন খালেদ।

কয়েক ঘণ্টার অভিযানে ওই ক্লাবে ক্যাসিনো বসিয়ে জুয়ার আড্ডা চালানোর বিপুল আয়োজন পাওয়া যায়। সেখান থেকে ২৪ লাখ টাকাও উদ্ধার করা হয়। আর গুলশানের বাসা থেকে খালেদকে গ্রেপ্তারের পর তার বাসায় ৫৮৫টি ইয়াবা, বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা এবং অবৈধ অস্ত্র পাওয়ার কথা জানায় র‌্যাব।

ফকিরাপুল ইয়ংমেনস ক্লাবের পাশাপাশি ওই এলাকার ওয়ান্ডারার্স ক্লাব, বঙ্গবন্ধু এভিনিউর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্র এবং বনানীর আহমেদ টাওয়ারে গড়ে তোলা একটি ক্যাসিনোতেও র‌্যাবের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। পুলিশের নাকের ডগায় কীভাবে এসব ক্যাসিনো এত দিন চলে আসছে সেই প্রশ্ন ওঠে ইয়ংমেনস ক্লাবে র‌্যাবের অভিযানের পর।

যুবলীগ নেতা খালেদ আটক হওয়ার পর শুক্রবার যুবলীগের অপর আলোচিত নেতা জি কে শামীমকে নিকেতনের নিজ কার্যালয় থেকে আটক করা হয়। রাজধানীর সবুজবাগ, বাসাবো, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত যুবলীগ নেতা এসএম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমকে আটক করে র‍্যাব। শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে জি কে শামীমের নিকেতনের ডি ব্লকের ৫ নম্বর রোডের ১৪৪ নম্বর বাসা ঘিরে ফেলে র‍্যাব। এর আগে নিকেতন এলাকায় জি কে শামীমের আরেকটি বাসা থেকে তাকে ডেকে আনা হয়। পরে তাকে আটক করেই অভিযান চালায় র‍্যাব। অভিযান শেষে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে শামীমকে র‍্যাব কার্যালয়ে নেয়া হয়। শামীমের সঙ্গে তার সাত দেহরক্ষীকেও আটক করা হয়। এ সময় বেশ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা হয় এক কোটি ৮০ লাখ নগদ টাকা, ১৬৫ কোটি টাকার ওপরে এফডিআর (স্থায়ী আমানত)। এর মধ্যে তার মায়ের নামে ১৪০ কোটি টাকা ও ২৫ কোটি টাকা তার নামে।

একই দিন সন্ধ্যায় ঢাকার কলাবাগান ক্রীড়াচক্র ও ধানমন্ডি ক্লাবেও অভিযান চালায় র‌্যাব। কলাবাগান ক্রীড়াচক্র থেকে ক্লাবের সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সদস্য শফিকুল আলম ফিরোজসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়। উদ্ধার করা হয় অস্ত্র, গুলি, ইয়াবা এবং ক্যাসিনো খেলার সরঞ্জাম। পরদিন শনিবার চট্টগ্রামের পাঁচটি ক্লাবে একযোগে অভিযান পরিচালিত হয়। সেখানেও তিনটি ক্লাবে জুয়ার আসর চালানোর প্রমাণ পাওয়ার কথা জানায় র‌্যাব।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত