ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৬ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০১৯, ১৯:০৬

প্রিন্ট

জামালপুরে স্বামী-শাশুড়ির বিরুদ্ধে নির্যাতিতা গৃহবধূর মামলা

জামালপুরে স্বামী-শাশুড়ির বিরুদ্ধে নির্যাতিতা গৃহবধূর মামলা
জামালপুর প্রতিনিধি

যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের শিকার হয়ে বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচার না পেয়ে অবশেষে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলেন শারমিন আক্তার সন্ধ্যা।

রোববার জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে তিনি স্বামী সুলতান মাহমুদ জনি (৩২) শাশুড়ি আফসানা বেগম (৫২) ও ননদ জেনিফা জামান আলোকে (৩০) আসামি করে মামলা করেছেন।

নির্যাতিতা শারমিন আক্তার সন্ধ্যার সাথে কথা বলে জানা যায়, তার স্বপ্ন ছিল আকাশছোঁয়া। পড়ালেখা শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়াবেন। মানুষের সেবা করবেন। অথচ এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার ১ মাস পরেই বিয়ে দিয়ে দেন বাবা।

তিনি বলেন, গ্রাম্যসমাজে মেয়ে বড় হলে নানাজনে কটুদৃষ্টিতে দেখে। অন্যদিকে বাবা-মায়ের ভয়, আশপাশের পরিবেশ ভালো না বলে বিয়ে দিয়ে দিলেই তাদের সমস্ত উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দূর হবে। আমি লেখাপড়া করার জন্য গোঁ ধরলে বাবা-মা বলেন, ভালো পাত্র, পরিবারও ভালো। বিয়ের পর তোমাকে লেখাপড়া করাবেন তারা। বাবা-মায়ের মুখের দিকে চেয়ে রাজি হই। ২০১৪ সালের ১৪ এপ্রিল আমার বিয়ে হয় জামালপুর শহরের ইকবালপুর এলাকার জহুরুল ইসলামের ছেলে সুলতান মাহমুদ জনির সাথে।

বিয়ের সময় ছেলের পরিবার আমার বাবার কাছ থেকে ১ লাখ টাকা যৌতুক নেয়। এছাড়া হাত-কান-নাক-গলার গহনাও দেন বাবা। ৭০ হাজার টাকার আসবাবপত্রও দেন। তবু তাদের মন ভরেনি। বিয়ের বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ফের টাকার জন্য চাপ দেন আমার শ্বশুর-শাশুড়ি। একমাত্র ননদের বিয়ে হয়ে গেলেও স্বামী মাদকসেবী বলে বাপের বাড়িতেই থাকেন। তিনি সবসময় আমার শ্বশুর-শাশুড়ির টিক্কাটিপ্পনি ও ‘বাপের বাড়ি থেকে টাকা এনে দাও’ কথার মধ্যে ঘি ঢালেন। আমি মুখ বুজে সব সহ্য করি। এখন চায় ৫ লাখ টাকা। স্বামী বেসরকারি কোম্পানির চাকরি ছেড়ে ব্যবসা করবে।

স্বামীকে ভালোবেসে এই জীবনের পথ পাড়ি দিতে চেয়েছিলাম। বিনিময়ে পেয়েছি নির্মম নির্যাতন। আমার দোষ, আমি নাকি বন্ধ্যা। অনেক জোরাজুরি করে আমি ও সে ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম। ডাক্তার পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ওষুধপত্র দিলেও দু-একদিন খাবার পরে আর খেতে দেয় না। আমি কিনে আনলেও সেই ওষুধ ডাস্টবিনে ফেলে দেয়। আমি ডাস্টবিন থেকে কুড়িয়েও ওষুধ খেয়েছি বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন শারমিন আক্তার সন্ধ্যা।

মামলার সূত্র ও তার অভিযোগে জানা গেছে, বিয়ের পর সন্ধ্যা শ্বশুর বাড়িতেই থাকত। স্বামী প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করার কারণে সন্ধ্যাকে মাঝেমধ্যে ঢাকায় গিয়ে থাকতে হতো। কয়েক মাস আগে তার স্বামী সন্ধ্যাকে জামালপুরের বাড়িতে নিয়ে আসে। তারপর থেকে তিনি এখানেই বসবাস করছিলেন। সন্তান না হবার কারণে আগে থেকেই শাশুড়ি আফসানা ও ননদ জেনিফা জনিকে দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্য কু প্ররোচনা করে আসছিল। তাকে বাড়ি থেকে বিতাড়িত করার জন্য নানা সময় মানসিক ও শাররিক নির্যাতন চালাতো।

৯ অক্টোবর জনি, তার মা আফসান ও ননদ আলো মারধর করে সন্ধ্যাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। অসুস্থ হয়ে পড়লে পরদিন জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। এর আগেও সন্ধ্যা আর্ন্তজাতিক মানবাধিকার সংস্থ্যার আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ফাউন্ডেশন জামালপুর জেলা শাখায় যৌতুক ও নির্যাতনের সমাধান চেয়ে আবেদন করেছিলেন।

এ ব্যাপারে নির্যাতনকারী স্বামী সুলতান মাহমুদ জনি দাবি করেন, সন্ধ্যা নিয়মিত ফেসবুক ও ইমু চালাতো। এটা নিষেধ করলেও শুনতো না, তাই তালাক দিয়েছি। নির্যাতনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি এড়িয়ে যান।

নির্যাতিতা শারমিন আক্তার সন্ধ্যা বলেছেন, আমি তালাকের কাগজ বা নোটিশ পায়নি। সে ৭ তারিখে তালাক দিলো। আমি তাদের বাড়িতে থাকলাম অথচ তালাকের বিষয়ে কিছুই জানলাম না!

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত