ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ১৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০১৯, ১৭:১৩

প্রিন্ট

সিলেটে রবীন্দ্রনাথের শতবর্ষ স্মরণোৎসবে ‘খালেদা জিয়া’, তোলপাড়!

সিলেটে রবীন্দ্রনাথের শতবর্ষ স্মরণোৎসবে ‘খালেদা জিয়া’, তোলপাড়!
সিলেট প্রতিনিধি

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সিলেট আগমনের শতবর্ষ স্মরণ উপলক্ষে ‘সিলেটে রবীন্দ্রনাথ : শতবর্ষ স্মরণোৎসব’ আয়োজন করা হয়েছে। এ উৎসবের সমাপনীতে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই উৎসবকে কেন্দ্র করে জোর প্রস্তুতি চলছে সিলেটে।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার দুপুরে নগরীর ধোপাদিঘীরপাড়স্থ হাফিজ কমপ্লেক্সে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন, অনুষ্ঠান উদযাপন পর্ষদের আহবায়ক ও সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।

সভার এক পর্যায়ে বক্তব্যে রাখেন, উৎসব কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম লিটন। এসময় তিনি বলেন, ‘সময় যেহেতু আছে সেজন্য আমরা সবার উপস্থিতির কথা নিশ্চিত করছি না। কিন্তু এটা নিশ্চিত করছি যে সমাপনী অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া উপস্থিত থাকবেন।’ একথা বলার সাথে সাথে সভায় হট্টগোল শুরু হয়। অনেকেই তাকে নিয়ে আপত্তি তুলে স্লোগান দিতে থাকেন। কেউ কেউ বলেন যে তিনি বিএনপির মানুষ তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হোক।

এসময় আমিনুল ইসলাম লিটন বলেন, ভুল মানুষের হয়। আজ সবাই এতো কথা বলছেন, জনতার মঞ্চে যখন বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়, তখন সেখানে আমিনুল ইসলাম লিটন বদর উদ্দিন কামরানের নেতৃত্বে উপস্থিত ছিল। এ কারণে বিএনপি আমাদের পাঁচ বছরের জন্য গায়েব করেছিল। এখানে যারা আছেন অনেকেই জানেন বিএনপি আমাকে পাঁচ বছরের জন্য গায়েব করেছিল। এরপরও হট্টগোল না থামলে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত সবাইকে থামার অনুরোধ করেন।

এসময় সাবেক অর্থমন্ত্রী বলেন, শোনেন শোনেন, মানুষেরই ভুল হয়। দিস ওয়াজ আ গ্রেট মিসটেক অফকোর্স। বিকজ এখন খালেদা জিয়াকে নিয়ে কনফিউশন করা সংসদেও খুব বেশি নেই। কারণ শেখ হাসিনা এখন থার্ড কনজিকিউটিভ টার্ম। তার আগেও একবার ছিলেন। এখন বোধ হয় শেখ হাসিনার প্রাইম মিনিস্টারশিপ খালেদা জিয়ার থেকে বেশি সময় হয়ে গেছে। সুতরাং এটা আপনারা ক্ষমা করে দেন।

এসময় আবার লিটন বলেন, ‘আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমি আগেই বলেছি…’ বলার পর আবার গোলযোগ শুরু হলে সাবেক অর্থমন্ত্রী তাকে থামিয়ে দেন। পরে মুহিত বলতে থাকেন, ‘ভুল মানুষের হয়। অনেক সময় মানুষের বড় বড় ভুল হয়ে যায়। আই শুড টেল ইউ এভাউট ওয়ান অব মাই মিসটেক।’

এ ব্যাপারে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আশফাক আহমদ চৌধুরী বলেন, এখানে একটা জিনিস আমার কাছে আশ্চর্য লাগছে। আগে একবার আওয়ামী লীগ কিন্তু পরের বার বিএনপি ক্ষমতায় আসছে। কিন্তু বর্তমানে টানা ১১ বছর থেকে আমাদের প্রধামনন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাস্তাঘাটেও কিংবা সাধারণ মানুষের মুখেও এটা আসছে না। এখানে কী করে এতো বড় একটা ভুল হলো এটাই আশ্চর্যের বিষয়।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের যুগ্ম-সম্পাদক বাদশা গাজী বলেন, জামায়াত-বিএনপির সমর্থনপুষ্ট সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট সিলেটে সব সময় কাজ করছে। যারা এখন বিএনপির হয়ে কাজ করছে। বিএনপির সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও বিএনপি ঘরানার মানুষ আমিনুল ইসলাম লিটন অনুষ্ঠান ঘোষণার সময় বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া নাকি এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। কারণ উনার আদর্শ যেটা সেটাই উনার মুখ দিয়ে বের হয়ে আসছে। এই বের হয়ে আসার কারণেই আমরা প্রতিবাদ করেছি। একই সাথে আমরা দাবি করেছি বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে এই উৎসব আয়োজন করার।

তিনি আরো বলেন, যারা মনে করে রবীন্দ্রনাথ হিন্দুদের কবি, রবীন্দ্রনাথের জাতীয় সংগীত পরিবর্তন করা দরকার- এমন বিশ্বাসে বিশ্বাসী, তাদের বাদ দিয়ে এই আয়োজন করার আহবান জানিয়েছি।

আর সংস্কৃতিকর্মীরা বলছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে যিনি মানপত্র উপহার দিয়েছিলেন, তিনি জাসাসের উপদেষ্টা ও বিএনপির মাস্টারমাইন্ড খ্যাত আমিনুল ইসলাম লিটন।

এর আগে গত ১০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাতে সাবেক অর্থমন্ত্রী ১৪ দল নেতাদের বাসায় ডাকেন। এ সময় এক সভায় মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরানসহ ১৪ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা উৎসব কমিটির সদস্য সচিব বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরীর ব্যাপারে জোরালো আপত্তি তোলেন। এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি পুনর্গঠনের জন্য দু’দিনের সময় নেন আবুল মাল আব্দুল মুহিত। মুহিতকে উদ্দেশ্য করে কামরান বলেন, আপনি একজন প্রাজ্ঞ লোক। আপনি যে কমিটির আহ্বায়ক সেই কমিটিতে আপনার সঙ্গে মানানসই কাউকে সদস্য সচিব করা উচিত।

কামরানের পর প্রায় একই ধরনের বক্তব্য দেন, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সুজাত আলী রফিক, বিজিত চৌধুরী, জয়বাংলা সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক এনামুল মুনিরসহ কয়েকজন। তারা কমিটি পুনর্গঠনের দাবি জানান।

কামরানের বক্তব্যের জবাবে মেয়র আরিফ উৎসব কমিটির সচিব হিসেবে সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের নাম প্রস্তাব করেন। তবে এমন প্রস্তাবে আপত্তি জানান কামরান।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত