ঢাকা, রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬ আপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৯:০৪

প্রিন্ট

রামগঞ্জে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, আহত ৩

রামগঞ্জে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, আহত ৩
রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা

রামগঞ্জ উপজেলার হযরত শাহ মিরান (রহ.) আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে আন্দোলন করায় সোমবার সকালে অর্তকিত হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর শেষে ৩ শিক্ষার্থীদের পিটিয়ে আহত করে বহিরাগত একদল সন্ত্রাসী। পরে শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির পদত্যাগের চেয়ে বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করে প্রতিষ্ঠানের মাঠে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন প্রত্যাহার করে।

সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউপির হযরত শাহ মিরান (রহ.) আলিম মাদ্রাসার আরবি প্রভাষকের পদোন্নতি নিয়ে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নুরুজ্জামান খানের সাথে অধ্যক্ষ এ.টি.এম আবদুল্লাহ ভুইয়ার বিরোধ চলে আসছে। ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে সভাপতি ১ ডিসেম্বর-২০১৯ রোববার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা ডেকে অধ্যক্ষকে শোকজ নোটিশ করে এবং সাথে সাথে সাময়িক বহিস্কার করে প্রভাষক নাজমুল আলমকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেয়া হয়।

এর প্রতিবাদে সোমবার সকালে শিক্ষার্থীরা বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করে মাঠে অবস্থান কর্মসুচি শুরু করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সভাপতি নুরুজ্জামানের ভাতিজা পুটুন ও মামুনের নেতৃত্বে বহিরাহত এক দল সন্তাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাংচুর করে। এ সময় আন্দোলরত দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ, আলেমের মোহাম্মদ উল্যাহ, নবম শ্রেণির সাকিল হোসেনসহ আরো কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়। স্থানীয়ভাবে তাদের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষক জানান, রোববার সভাপতি পুর্বে তৈরী করা রেজুলেশনে কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর নিয়ে অধ্যক্ষের হাতে শোকজ ও সাময়িক বহিস্কারপত্র এবং প্রভাষক নাজমুল আলমের হাতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কপি তুলে দেন।

হযরত শাহ মিরান (রহ.) আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এ.টি.এম আবদুল্লাহ বলেন, প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির খাম-খেয়ালিপনায় সহযোগিতা না করায় পরিকল্পিতভাবে আমাকে একই দিনে শোকজ ও সাময়িক বহিস্কারপত্র হাতে ধরিয়ে দেয়।

ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নুরুজ্জামান বলেন, বিগত ১০ বছরে আর্থিক হিসাব না দেয়া এবং আরবি প্রভাষক আব্দুস ছাত্তারের পদোন্নতিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় অধ্যক্ষকে শোকজ ও সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে। অধ্যক্ষকে বহিস্কার করায় তার অনুগত শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করায় আমার ভাইপোরা গিয়ে আন্দোলন বন্ধ করতে বলেছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) হুমায়ুন রশিদ বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারে নির্দেশে আমি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করে তা স্থগিত করেছি। আহতদের চিকিৎসা নিতে বলেছি এবং আগামীকাল থেকে পরীক্ষা অব্যাহত থাকবে। এক সপ্তাহ পর বহিরাগতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং সভাপতি কোন ক্ষমতার বলে অধ্যক্ষকে একই সাথে শোকজ ও বহিস্কার করছে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত