ঢাকা, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০, ২৯ আষাঢ় ১৪২৭ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২০, ১২:০০

প্রিন্ট

দপ্তরির থেকেও কম প্রাইমারির ৩ শিক্ষকের বেতন

দপ্তরির থেকেও কম প্রাইমারির ৩ শিক্ষকের বেতন
ফাইল ফটো
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের কালিয়াচাপড়া সুগার মিল প্রাইমারি স্কুলে মাত্র তিন হাজার টাকা করে বেতনে চাকরি করছেন তিন শিক্ষক। তাদের সম্মিলিত বেতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন দপ্তরির বেতনের থেকেও কম। ৪৩ বছর আগে স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হলেও এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি।

অবজ্ঞা ও অবহেলার শিকার স্কুলটির হাল ধরে দাঁড়ানো শিক্ষকদের বেতন এবার করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। স্কুল পরিচালনা কমিটি নিয়ে মামলা আর দলাদলির কারণে ঐতিহ্যবাহী স্কুলটি ধ্বংসের পথে।

১৯৭৫ সালে কালিয়াচাপড়া সুগার মিল হাইস্কুল কাম প্রাইমারি স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রাইমারি স্কুলের জন্য ৩৫ শতাংশসহ তিন একর জমি বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে মিল কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় প্রতিষ্ঠানটি চলে আসছিল। ১৯৮২ সালের দিকে হাইস্কুল এমপিওভুক্ত হলেও অদৃশ্য কারণে প্রাইমারি স্কুলটি এমপিওভুক্তির বাইরে থেকে যায়। এরপর ২০০৪ সালে সুগার মিল বেসরকারি মালিকানায় দেয়া হলে স্কুলটি অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে। এরপর স্কুলটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সংখ্যাও জ্যামিতিক হারে কমতে থাকে।

বর্তমানে ৬৫ জন শিক্ষার্থীকে সামলাচ্ছেন তিন নারী শিক্ষক। স্কুল কমপ্লেক্সের তিনটি শ্রেণি কক্ষে চলে পাঁচটি শ্রেণির পাঠদান কার্যক্রম। সুগার মিল প্রতিষ্ঠার ১০ বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালে কালিয়াচাপড়া সুগার মিল প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়। এর দুই বছর পর ১৯৭৭ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে স্কুলটি হাইস্কুলে পরিণত হয়। স্কুলটির শিক্ষার্থীরা চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হয়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন।

কালিয়াচাপড়া সুগার মিল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. আমজাদ হোসেন বলেন, স্কুল পরিচালনা কমিটি নিয়ে মামলা এবং দলাদলির কারণে স্কুলটির রেজিস্ট্রেশন এবং এমপিওভুক্তকরণ বিষয়ে উদাসীন ছিলেন কমিটির লোকজন।

প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক রীনা আক্তার জানান, অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী স্কুল ছেড়ে চলে গেছেন। বর্তমানে তারা তিন নারী শিক্ষক এখনও হাল ধরে আছেন। মাসে মাত্র তিন হাজার টাকা করে তারা বেতন পান।

এসময় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমরা তিন শিক্ষক মিলে ৯ হাজার টাকা বেতন পাই। অথচ জাতীয়করণের আওতায় আসা সরকারি প্রাইমারি স্কুলের একজন দপ্তরি বেতন পান সাড়ে ১৪ হাজার টাকা।

এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বণিক জানান, ২০১৪ সালের মধ্যে তালিকাভুক্ত ও চালু সব প্রাইমারি স্কুলই জাতীয়করণের আওতায় এসেছে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) ও পুলিশের সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি জানান, দলাদলি কিংবা অবজ্ঞা-অবহেলার শিকার হয়ে ৪৫ বছরের প্রতিষ্ঠান এভাবে ধ্বংসের মুখে দাঁড়ানো খুবই দুঃখজনক। খোঁজ নিয়ে এমপিওভুক্তকরণের বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশ জার্নাল/ওয়াইএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত
best