ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬ আপডেট : ৭ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৪ জুন ২০১৯, ১৩:৪১

প্রিন্ট

অঝোরে কাঁদলেন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা

অঝোরে কাঁদলেন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

রনধীর দত্ত। বয়স ৮০ বছর। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় তার ভূমিকা ছিল অপরিসীম। তিনি সব সময় মুক্তিযোদ্ধাদের খোঁজ খবর রাখতেন। যোদ্ধাদের বিভিন্ন রকমের সহযোগিতা করতেন। এছাড়া ৭১ থেকে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের দুর্দিনের কান্ডারী ছিলেন তিনি। কিন্তু আজ তিনি অবহেলিত, ভুগছেন বার্ধক্য রোগে।

রোববার আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর দিন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন প্রচার সম্পাদক থাকায় তাকে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানান উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। সম্মাননার ক্রেস্ট হাতে পেয়ে খুশিতে কেঁদে দেন তিনি।

প্রবীণ এই নেতা রনধীর দত্ত বলেন, ৭৫ পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের কোন অফিস ছিলোনা কলাপাড়ায়। সুতাপট্টিতে তার দোকানই ছিল আওয়ামী লীগের মিনি অফিস। তখন তার রাজনীতি সহযোদ্ধা ছিলেন ডা.কাসেম, হাসেম মির সাহেব, ইসমাইল তালুকদার, আনোয়ার উল ইসলাম, ননী সেন, রব মিয়া, হাবলু বিশ্বাস, নাজিম মিরা, মাহাতাব মৃধা, খালেক মিরা, মোতালেব খলিফা, জামাল বেপারিসহ আরো অনেক নেতা।

তৎকালীন সময় তারা সবাই তাকে বানিয়েছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। সব সভা সমাবেশের সিদ্ধান্ত হত তার দোকান থেকেই। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অনেক বার তিনি লাঞ্চিতসহ মারধরের শিকার হয়েছি। আজ আমাকে সম্মাননা তারা জানিয়েছে। আমি আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীকে ধন্যাবাদ জানাই।

তিনি আরো বলেন, ৭ই মার্চ বঙ্গপিতা নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রত্যেক গ্রামে প্রত্যেক মহল্লায় সংগ্রাম কমিটি গঠন করার। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সভাপতি ছিলেন ডা.কাসেম ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ইসমাইল তালুকদার। তাদের নিয়ে আমি গঠন করেছিলাম সংগ্রাম কমিটি।

৮০’র দশকে কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক দায়িত্ব পালন করি। এরপর ৯০ থেকে ৯৬ সাল পর্যন্ত উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। বর্তমানে উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য। আজীবন আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নিজেকে আওয়ামী লীগের কর্মী বলে গর্ববোধ করেন তিনি।

বরিশাল বিএম কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন এই প্রবীণ নেতা। এর পর কলাপাড়ার স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পরেন।

পরিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তার পিতা গঙ্গা সাগর দত্ত। বর্তমানে এক ছেলে, তিন মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে বসবাস। ছেলে মেয়েদের সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুললেও তাদের ভাগ্যে জোটেনি চাকরি। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো আওয়ামী লীগ ক্ষমতার দশ বছরেও কোন নেতা খবর নেননি এই প্রবীণ নেতার।

শেষ বয়সে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার একটাই দাবি, তিনি যেন মৃত্যুর আগে মুক্তিযোদ্ধা সনদ পান। সবশেষে তিনি মুজিবকন্যা শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

প্রবীণ নেতা রনধীর দত্ত’র ছেলে দেবরাজ দত্ত বাংলাদেশ জার্নালকে জানান, আমার বাবার রাজনীতির শেষ বয়সে উপজেলা আওয়ামী লীগ আজ যে সম্মান দিয়েছে এতেই আমরা খুশি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম রাকিবুল আহসান বাংলাদেশ জার্নালকে জানান, রনদা অত্যন্ত ভাল মনের মানুষ। তিনি প্রতিষ্ঠাকালীন আওয়ামী লীগের দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক ছিলেন। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর দিন তার হতে সম্মাননা দিয়েছি। প্রতিবছরই এভাবে দলের প্রবীণ ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়িত করা হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/টিপিবি

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত
close
close