ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২০, ১ শ্রাবণ ১৪২৭ আপডেট : ৬ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২০, ১৮:৩৬

প্রিন্ট

তামাকজাত দ্রব্যের কর কাঠামো পরিবর্তনের অনুরোধ জানাল সংসদ সদস্যরা

তামাকজাত দ্রব্যের কর কাঠামো পরিবর্তনের অনুরোধ জানাল সংসদ সদস্যরা
জার্নাল ডেস্ক

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে বিভিন্ন সংসদ সদস্য প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর প্রতিক্রিয়া জানান এবং বাজেট পুন:বিবেচনায় এনে যথাযথ সংশোধনের জন্য অনুরোধ জানান। সম্প্রতি ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেটে উচ্চহারে তামাকের কর ও দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবনায় অর্থমন্ত্রী বরাবর বাজেট প্রতিক্রিয়াস্বরূপ পত্র প্রেরণ করেন গোপালগঞ্জ-০১ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান, রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রফেসর ডা. মো. হাবিবে মিল্লাত, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আয়েন উদ্দিন, মহিলা আসন-০৭ সংসদ সদস্য ওয়াসিকা আয়শা খান, মহিলা আসন-২০ সংসদ সদস্য অপরাজিতা হক এবং মহিলা আসন-৪৫ সংসদ সদস্য মাসুদা এম রশীদ চৌধূরী। বাজেট প্রতিক্রিয়া পত্রের মাধ্যমে সংসদ সদস্যগণ নিম্নোক্ত প্রস্তাবনাসমূহ অর্থমন্ত্রী নিকট পেশ করেন এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়নে সিগারেটের মূল্যস্তর ৪টি থেকে ২টি নির্ধারণ, একীভূত নতুন নিম্নস্তরের ১০ শলাকা সিগারটের খুচরা মূল্য ন্যূনতম ৬৫ টাকা নির্ধারণ করে ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং ১০ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ; একীভূত নতুন প্রিমিয়াম স্তরের ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য নূন্যতম ১২৫ টাকা নির্ধারণ করে ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং ১৯ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করার অনুরোধ জানান।

তারা ফিল্টারবিহীন ২৫ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য ৪০ টাকা নির্ধারণ করে ৫০% সম্পূরক শুল্ক ও ৬.৮৫ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ এবং ফিল্টারযুক্ত ২০ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য ৩২ টাকা নির্ধারণ করে ৫০% সম্পূরক শুল্ক এবং ৫.৪৮ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করার জন্য অর্থমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব পেশ করেন।

এ ছাড়াও সকল তামাকপণ্যের খুচরা মূল্যের ওপর ৩% কোভিড-১৯ সারচার্জ আরোপ করা ও ই-সিগারেটের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার কথা জানান।

এছাড়াও প্রতিক্রিয়ায় সংসদ সদস্যগণ আরো বলেন, সার্বিকভাবে প্রস্তাবিত তামাক কর ও মূল্য বৃদ্ধির পদক্ষেপ অতিরিক্ত রাজস্ব আহরণ, অকাল মৃত্যুরোধ এবং করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি হ্রাসে কোনো ভূমিকা রাখবে না, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। প্রস্তাবিত বাজেটে তামাকখাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় খুব বেশি বাড়বে না; বরং শুল্ক না বাড়িয়ে দাম বাড়ানোর ফলে তামাক কোম্পানিগুলো বিনা ব্যয়ে আরো বেশি মুনাফা করার সুযোগ পাবে। অন্যদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়ন না করলে সরকার অতিরিক্ত ১১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের সুযোগ হারাবে।

উল্লেখ্য, করোনা মহামারীর এই সময়ে জনস্বাস্থ্য রক্ষা ও সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ হতে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে তামাকজাত দ্রব্যের ওপর কর বৃদ্ধির মাধ্যমে রাজস্ব আয় বৃদ্ধির প্রস্তাবনা পেশ করা হয়েছিলো। যেখানে তামাকদ্রব্যে সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপ ও সিগারেটের মূল্যস্তর চারটি থেকে কমিয়ে দুইটিতে নামিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়। কিন্তু, প্রস্তাবিত বাজেটে সিগারেটের নিম্নস্তরের ১০ শলাকার প্যাকেটের দাম ২ টাকা (৫.৪%) ও সম্পূরক শুল্ক মাত্র ২% বৃদ্ধি করা হয়েছে। আর উচ্চস্তর ও প্রিমিয়াম স্তরে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে গত বছরের তুলনায় যথাক্রমে ৪.৩% ও ৪.০৬% দাম বৃদ্ধি করা হলেও শুল্ক বাড়ানো হয়নি। মধ্যম স্তরে দাম ও শুল্ক কোনটারই পরিবর্তন আসেনি। ফলে মাথাপিছু আয় ও মূল্যস্ফীতির তুলনায় দাম বৃদ্ধি না পাওয়ায় সিগারেট/তামাকজাত দ্রব্যের প্রকৃত মূল্য হ্রাস পাবে। তাছাড়া নিম্নস্তরে খুবই সামান্য শুল্ক বাড়ায় তা রাজস্ব আয়ে কিছুটা ভূমিকা রাখলেও, অন্য স্তরে শুল্ক না বাড়ায় তাতে তামাক কোম্পানিগুলো লাভবান হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মতে, ধূমপায়ীদের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি অনেকগুণ বেশি। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন অস্বাভাবিকহারে বাড়ছে। এখনই উপযুক্ত সময় সরকারের তামাক নিয়ন্ত্রণে শক্তিশালী পদক্ষেপ গ্রহণ করার, বিশেষত জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় সীমিত করা, তামাকের কর বৃদ্ধির মাধ্যমে এসকল দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি ও তামাকজাত দ্রব্য ক্রয়-ক্ষমতার বাহিরে নিয়ে যাওয়া। তাহলে এই মহামারিতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকবে এবং উল্লেখিত প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন করা হলে প্রায় ২০ লক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপায়ী ধূমপান ছেড়ে দিতে উৎসাহিত হবে এবং সরকারের অতিরিক্ত রাজস্ব আয় অর্জিত হবে ১১ হাজার কোটি টাকা।

এনএইচ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত
best