ঢাকা, সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ২২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৩:২০

প্রিন্ট

নতুন পেঁয়াজে কাটবে সংকট

নতুন পেঁয়াজে কাটবে সংকট
নাটোর প্রতিনিধি

অসময়ে বর্ষণের কারণে নাটোরে নষ্ট হয়েছে পেঁয়াজসহ শীতকালীন আগাম সবজি। জমি থেকে পানি নামার পর দেরিতে নতুন করে পেঁয়াজ লাগানো শুরু করেছেন কৃষকরা। ফলে শীত মৌসুমের শুরুর দিকে বাজারে না ওঠার সুযোগে নাটোরেও অস্বাভাবিক দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। স্থানীয়ভাবে চাষ করা এসব পেঁয়াজ বাজারে আসতে সময় লাগবে আরো অন্তত এক মাস। জেলার বাইরে থেকে সরবরাহ বৃদ্ধি না পেলে দাম কমার সম্ভাবনা দেখছেন না ভোক্তারা।

নাটোরের সদর, নলডাঙ্গা, বড়াইগ্রাম ও লালপুরের পদ্মার চরে হাজার হাজার জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়। তবে চলতি বছর ভারত ফারাক্কার বাঁধ খুলে দিলে পানি দিয়ে পদ্মা অববাহিকার বিস্তীর্ণ চর এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। এতে শীতের আগাম সবজির সাথে নষ্ট হয় আগাম চাষকৃত ক্ষেতের পেঁয়াজ।

সময় মতো ফলন তুললে বাজারে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পেঁয়াজ তুলনামূলক কম দামে ভোক্তাদের চাহিদা মেটাতে পারতো বলে মনে করেন স্থানীয়রা। এই অবস্থায় ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিলে আমদানি নির্ভর দেশের পেঁয়াজের বাজারে দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে। এ কারনে নতুন করে নাটোরের চাষীরা জমিতে পেঁয়াজ চাষ শুরু করেছেন। সংকট কাটাতে ইতোমধ্যে দুইদিন টিসিবির পেঁয়াজ বিক্রি করা হয়েছে নাটোর শহরে।

কৃষকদের মতে, মাসখানেক আগে বৃষ্টির পানিতে ডুবে নষ্ট হয়েছে পেঁয়াজের ক্ষেত। তাই শীতের শুরুতে বাজারে সরবরাহ নেই পেঁয়াজের। এই সুযোগে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। স্থানীয়ভাবে আবাদকৃত পেঁয়াজ মাঠে আসতে আরও মাসখানেক সময় লাগবে বলে জানান চাষীরা।

কৃষক জলিল মৃধা জানান, বৃষ্টিতে আগাম চাষ করা পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গেছে। তাই পরে চাষ করা পেঁয়াজ উঠতে এখনও ২০-২৫ দিন দেরি হবে।

কৃষাণী মাছুরা খাতুন জানান, বৃষ্টির কারনে পেঁয়াজ নামতে দেরি হচ্ছে।

কষক আব্দুল খালেক বলেন, বৃষ্টির কারনে এবার পেঁয়াজ উঠতে দেরি হচ্ছে। তবে বাজার এমন থাকলে এবার পেঁয়াজে লাভবান হওয়া যাবে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদুল ইসলাম জানান, অসময়ে বর্ষণ পেঁয়াজ আবাদে বিঘ্ন ঘটিয়েছে। তবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাজারে নতুন পেঁয়াজ উঠলে বিদ্যমান সংকট কেটে যাবে।

নতুন পেঁয়াজ বাজারে উঠলে দাম কমে যাবে, এমনটা প্রত্যাশা ভোক্তাদেরও।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সুব্রত কুমার জানান, চলতি মৌসুমে পেঁয়াজের আবাদ হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ৩৫৫০ হেক্টর জমিতে। ইতমধ্যে কন্দ (বীজ) বপন করা হয়েছে ৬৯০ হেক্টর জমিতে এবং চারা লাগানোর জন্য কৃষকরা চারা প্রস্তুত করছেন। গেল মৌসুমে ৪৮১০ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হলেও বাজারে পেঁয়াজের দাম কম থাকায় অর্জিত চাষাবাদ হয় ৩৩৮০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে কন্দ ১০৪৮ হেক্টর, চারা থেকে ২২৪৬ হেক্টর এবং কদম চাষ হয় ৮৬ হেক্টর জমিতে। এ বছর দাম ভাল থাকায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আবাদ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কন্দ (বীজ) থেকে লাগান পেঁয়াজ বৃষ্টিতে কিছুটা নষ্ট হয়, ফলে এ বছর আগাম চাষ করা হলেও সেসব পেঁয়াজ বাজারে আসতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসবি

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত