ঢাকা, রোববার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭ আপডেট : ২৫ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২১, ১৭:৪২

প্রিন্ট

ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে দেয়া হবে না অটোপাস

ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে দেয়া হবে না অটোপাস
ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইঞ্জিনিয়ারদের অটোপাস দেয়া যায় না বলে মন্তব্য করেছেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, হঠাৎ তৈরি হওয়া নতুন সংগঠন ‘বাংলাদেশ পলিটেকনিক ছাত্র পরিষদ’র দাবি করার আগেই সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। তারা এখন কোনো ভিন্ন উদ্দেশ্যে আন্দোলন করছে। ইঞ্জিনিয়ারদের অটোপাস দেয়া হবে না।

রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে শনিবার (১৬ জানুয়ারি) কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বৈঠকে পরীক্ষার নম্বর ও সময় কমিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সিদ্ধান্তে বলা হয়, প্রতিটি বিষয়ের মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে পরীক্ষা দিতে হবে ৫০ নম্বরের। আর ৩ ঘণ্টার পরীক্ষা ২ ঘণ্টা এবং ২ ঘণ্টার পরীক্ষা দিতে হবে দেড় ঘণ্টায়।

এই সিদ্ধান্তের পরও রোববার রংপুর ও বরিশালে সড়ক অবরোধ করা হয় ‘বাংলাদেশ পলিটেকনিক ছাত্র পরিষদ’র ব্যানারে।

আন্দোলন বিষয়ে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান বলেন, সিলেবাস কমিয়ে দেয়াসহ শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়ার পরও আন্দোলন করা হচ্ছে ভিন্ন উদ্দেশে।

সচিব বলেন, তারা চার দফা দাবির প্রথম দাবিতে বলছে—তাদের এক বছর লস পুষিয়ে দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে যে পরীক্ষাগুলো হয়নি, সেগুলোর ছয় মাসের সেমিস্টার চার মাসে করে দুই বছর করলে এক বছরের লস এডজাস্ট হবে।

দ্বিতীয় দাবি—যেসব পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে সেগুলো শর্ট সিলেবাসে পরীক্ষা নেয়ার কথা বলছে তারা। আমরা দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ পর্বের তাত্ত্বিক পরীক্ষার আগেই সংক্ষিপ্ত সিলেবাস করেছি। সেখানে তারা সংক্ষিপ্ত পরীক্ষা দিতে পারবে। অর্থাৎ যেখানে ১০টি প্রশ্নের উত্তর দেয়ার প্রয়োজন হতো সেখানে ৫টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। এই প্রশ্নের ক্ষেত্রে যে গ্রুপ ছিল সেগুলোও ফ্লেক্সিবল করে দিয়েছি। যেকোনো গ্রুপ থেকে নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে তারা। এ ক্ষেত্রে অটোপাস দেয়া সম্ভব নয়, কারণ যে রিকয়ার কম্পিটেন্সি প্রয়োজন হবে তা থাকতে হবে। এ জন্য আমরা পরীক্ষা পদ্ধতি রিডিজাইন করেছি।

তৃতীয় দাবিতে শিক্ষার্থীরা বলছে—অতিরিক্ত ফি গ্রহণ না করা এবং প্রাইভেট পলিটেকনিকে সেমিস্টার ফি মওকুফ। আমরা ইতোমধ্যেই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছি। সেখানে টিউশন ফি ও পরীক্ষার ফি ছাড়া সরকারি পলিটেকনিকে অন্য ফি মওকুফ করেছি। বেসরকারি পলিটেকিনিকগুলোকে অনুরোধ করেছি, তারাও এই ধরনের ফি (টিউশন ও পরীক্ষার ফি ছাড়া অন্য ফি) মওকুফ করেছে। আপনারা জোনেন প্রাইভেট পলিটেকিনিকগুলোতে শিক্ষকের বেতন, ঘরভাড়া ল্যাবরেটরির জন্য খরচ রয়েছে। তারপরও তারা রজি হয়েছে। তারা বলেছে, ফিসের কারণে যেন কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়। তারা অতিরিক্ত ফি দাবি করছে না।

চতুর্থ দাবি—প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের জন্য আসন বরাদ্দ করা। আমরা জানি, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কারিগরি শিক্ষার্থীরা ডিপ্লোমা পাস করার পর ভর্তি হতে পারে। পর্যায়ক্রমে ঠাকুরগাঁও, নওগাঁ, নড়াইল ও খাগড়াছড়িতে চারটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হচ্ছে। সেখানে ৫০ শতাংশ ডিপ্লোমা এবং ৫০ শতাংশ সরাসরি ভর্তি হতে পারবে। এটা বুয়েট আর আমরা করবো। এর ফলে প্রচুর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করা শিক্ষার্থীরা বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিয়ে পড়ার সুযোগ পাবে।

সচিব বলেন, এই দাবি নিয়ে রাজপথে আন্দোলন করা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা, মোটেই সমীচীন নয়। আমরা বিশ্বসি করি, তারা ঘরে ফিরে আসবে। যথা নিয়মে ফেক্সিবল পদ্ধতিতে শর্ট সিলেবাসে তারা পরীক্ষায় অংশ নেবে। যদি তারা ফিরে না আসে, তাহলে আমাদের ধরে নিতে হবে শিক্ষার বাইরেও তাদের অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে। অস্থিতিশীলতা, বিভ্রান্তি-এগুলো সৃষ্টির অপচেষ্টা রয়েছে। এটা সরকার যথা নিয়মে মোকাবিলা করবে। আমি মনে করি, আমাদের সন্তানতুল্য আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীরা বিষয়টি উপলদ্ধি করবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি নতুন তৈরি হওয়া বাংলাদেশ পলিটেকনিক ছাত্র পরিষদ- এই ব্যানারে চার দফ দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়েছে। রোববার রংপুর ও বরিশালে সড়ক অবরোধ করা হয় সংগঠনটির ব্যানারে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত