ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬ আপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:৫৮

প্রিন্ট

খিচুড়িসহ পাতিল ছিনতাই করলো ছাত্রলীগ

খিচুড়িসহ পাতিল ছিনতাই করলো ছাত্রলীগ
অনলাইন ডেস্ক

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে গোলাম রাব্বানীর পদচ্যুতির ঘটনায় মিষ্টির চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রলীগের একাংশের বিরুদ্ধে। চাঁদা না পেয়ে মারধরসহ খিচুড়ির পাতিল ছিনতাইয়ের অভিযোগও পাওয়া গেছে তাদের বিরুদ্ধে।

সোমবার মারধর ও লুটপাটের ঘটনায় সব দোকান বন্ধ রাখেন দোকানিরা।

জবির সামনের ফাঁকা জায়গার (টিএসসি নামে পরিচিত) দোকানে এ ঘটনা ঘটে রোববার রাতে। জবি ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি তরিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক জয়নুল আবেদীন রাসেলের কর্মীদের এ ঘটনায় অভিযুক্ত করে দোকানিরা।

জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শীর্ষপদে রদবদলের ফলে ‘আমরা পুনরায় বহাল’ ঘোষণা দিয়ে এক দিনে বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি’র দোকানদারদের থেকে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন তারা। চাঁদার টাকা কম দেয়ায় খিচুড়ির পাতিল ছিনতাই ও মারধর করেন ছাত্রলীগের একাংশের কর্মীরা।

জানা যায়, শনিবার কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কমিটি রদবদলের রাতে ক্যাম্পাসে আনন্দ মিছিল করেন তারা। রোববার মিষ্টি খাওয়ার নাম করে টিএসসিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তরিকুল ইসলামের একান্ত আস্থাভাজন কর্মী তরিকুল রিমন, অ্যাকাউন্টিং বিভাগের ৭ম ব্যাচের (অছাত্র) মাসুম বিল্লাহ, ৯ম ব্যাচের আলমগীর মুন্সী, বাংলা বিভাগ ৭ম ব্যাচের সাইফ আহমেদ লিখন, ম্যানেজমেন্ট ১০ম ব্যাচের সামিউল তাছাহাব শিশির, সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নুল আবেদিন রাসেলের একনিষ্ঠ কর্মী ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ৭ম ব্যাচের আব্দুল্লাহ আল মামুন, ইংরেজি বিভাগ ৯ম ব্যাচের এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কৃত কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে ১২-১৫ জন গিয়ে দোকানদারদের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দোকানিরা চাঁদা কম দেওয়ায় এ সময় তাদের কয়েকজনকে হুমকি ও মারধর করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দোকানি জানান, টাকা দিতে না চাওয়ায় এক খিচুড়ি দোকানির পাতিল ছিনতাই করে নিয়ে যায় ছাত্রলীগের কর্মীরা। এরপর তারা ক্যাশ থেকে প্রায় অর্ধ লাখ টাকা নিয়ে চলে যায়।

জবি ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক কমিটির সভাপতি তরিকুল ইসলাম এবিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি প্রথমে চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেন।

এরপর তিনি বলেন, টিএসসিতে যারা চাঁদাবাজির করে তারা একসময় আমার কর্মী ছিল এখন নেই।

এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ যারা জড়িত তাদের নাম পেলেই আমরা ব্যবস্থা নেব।

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল বলেন, র‌্যাব ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে চাঁদাবাজদের একটি তালিকা চাওয়া হয়েছে। আমরা বিভিন্ন মাধ্যম থেকে চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি করছি। খুব শিগগিরই আমরা এদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্তও নেব। এ বিষয়ে সবার সহযোগিতা দরকার।

সুত্রাপুর থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, টিএসসিতে চাঁদাবাজির বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ দেয়নি। চাঁদাবাজির বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স রয়েছি। এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা নেব।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত