ঢাকা, শনিবার, ১৫ মে ২০২১, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ আপডেট : ৫ ঘন্টা আগে

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২১, ১৫:৩৭

প্রিন্ট

স্ক্রিণে না থাকলে কেউই মনে রাখে না: জেনি

স্ক্রিণে না থাকলে কেউই মনে রাখে না: জেনি
নওরিন হাসান খান জেনি

ইমরুল নূর

মাত্র আড়াই বছর বয়সেই শোবিজে যাত্রা তার। শিশুশিল্পী হিসেবে ‘তিব্বত ৫৭০’ সাবানের বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে প্রথম কাজ করেন। প্রথম বিজ্ঞাপনেই ভালো সাড়া পান। যার কারণে টানা বেশকিছু বিজ্ঞাপনেও দেখা গিয়েছে তাকে। এরপর লম্বা সময় বিরতি নিয়ে তিনি ফিরেন ২০০৪ সালে লিভার ব্রাদার্স লিমিটেড ( বর্তমানে ইউনিলিভার) এর একটি বিজ্ঞাপন দিয়ে। একই বছরে ‘পন্ডস ফেইস ওয়াশ’ এর বিজ্ঞাপনে তাহসান খানের বিপরীতে মডেল হন তিনি। সেই দুটি বিজ্ঞাপনেই পরিচিতি পেতে শুরু করেন। বলছিলাম জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী নওরিন হাসান খান জেনি’র কথা। ‘রমিজের আয়না’ নাটক দিয়ে ২০০৬ সালে অভিনয়ে যাত্রা শুরু করে এখন পর্যন্ত উপহার দিয়ে বহু দর্শকপ্রিয় নাটক ও টেলিছবি। চিনিগুড়া প্রেম, উড়োজাহাজ, গল্পটা চাইলেই বদলে দেয়া যেতো নাটক দিয়ে দর্শকদের কাছে নিজেকে নন্দিত করে তুলেছেন এই অভিনেত্রী। অনেকদিন থেকে বিরতিতে থাকা এই অভিনেত্রী সম্প্রতি কথা বলেছেন বাংলাদেশ জার্নালের বিনোদন বিভাগে। কাজ, ক্যারিয়ার নিয়ে সেই আলাপচারিতার চুম্বকাংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

বাংলাদেশ জার্নাল: আজ আপনার জন্মদিন। এদিনটি কীভাবে উপভোগ করেন বা এবার বিশেষ কোন পরিকল্পনা আছে কী?

জেনি: জন্মদিন আমার কাছে আর দশটা দিনের মতোই। তবে এটা ভালো লাগে যে সবাই মনে করে বিভিন্ন মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন, এটা সবসময় ভীষণ উপভোগ করি। আর এবার জন্মদিন নিয়ে সত্যি বলতে তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই। কারণ, এখন প্রতিনিয়ত যে খারাপ খবর শুনছি এগুলোর জন্যই দিনের বেশিরভাগ সময়টাই মন খারাপ থাকে। কিছুদিন আগে মিতা হক মারা গেলেন। আন্টির সঙ্গে আমাদের একটা পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। খবরটা শুনে খুবই খারাপ লেগেছে। এছাড়াও তো প্রতিদিন কতো কতো মানুষের খারাপ খবর শুনছি, এগুলো নিতে পারছি না। এসব মন খারাপের মধ্য দিয়েই জন্মদিনটা কেটে যাবে।

বাংলাদেশ জার্নাল: এদিনটা নিয়ে বিশেষ কোনো মূহুর্ত বা স্মরণীয় ঘটনা আছে কী?

জেনি: জন্মদিনটা আমার কাছে আহামরী কিছুই নয়। আমার কাছে পারিবারিক একটা দিন মনে হয়, কারণ, এদিনে আমি কখনোই শুটিং রাখতাম না। আমার জন্মদিনের পরেরদিনই হয় পহেলা বৈশাখ। যার কারণে এ দুইদিন আমি পরিবারের সাথে সময় কাটাতে পছন্দ করি সবসময়। আর এসময়ে আমার পরিবার সবসময়ই বিভিন্নভাবে আমাকে সারপ্রাইজ দেয়। আমার কাছ থেকে লুকিয়ে কেক, গিফট নিয়ে আসে আরও অনেক আয়োজন করে। এসবের মধ্য দিয়ে আমাকে সারপ্রাইজ দিয়ে থাকে, যেটাতে আমি সবচেয়ে বেশি খুশি হই। আমার বয়স এখন অনেক বেড়ে গিয়েছে, এখনো তারা এসব করে। এই বিষয়গুলো আমার ভীষণ মিষ্টি লাগে।

বাংলাদেশ জার্নাল: সম্প্রতি নতুন করে অভিনয়ে ফিরেছেন। মাঝখানে দুই বছরেরও বেশি সময় আপনাকে পর্দায় দেখা যায়নি। হঠাৎ করে এই বিরতিটা কেন নিয়েছিলেন?

জেনি: সত্যি বলতে গত ৩/৪ বছরে আমি যেসব গল্প ও চরিত্রে কাজ করেছি সেসবই যখন আবার আমার কাছে ফিরে আসছিলো তখন কাজ করার আগ্রহটা হারিয়ে ফেলি। আমি সবসময়ই অনেক বেছে বেছে কাজ করতাম। সেই বেছে নেওয়ার মধ্যেও কিন্তু পছন্দের একটা ব্যাপার থাকে। সেরকম কিছুই পাচ্ছিলাম না আমি। সেই গৎবাঁধা গল্প, নতুনত্ব কিছু নেই। আমার কাছে মনে হয়েছে এর চেয়ে অনেক ভালো ভালো কাজ আমি আগে করে ফেলেছি। যার কারণে আর আগ্রহ পাইনি। আমার কাছে মনে হয়েছিলো যে শুটিং করতে হবে, করছি। কিন্তু এনজয়টা করছিলাম না একদমই। কাজ করতে হবে বলে শুটিংয়ে যাবো আর আসবো; এমন শিল্পী আমি না। এক কথায় যদি বলি, তৃপ্তি পাচ্ছিলাম না। মোটামুটি অনেকটা সময় তো কাজ করেছি। এত এত কাজের মধ্যে আমি সবসময় আত্মতৃপ্তিটা খুঁজতাম। মনের কিন্তু একটা তৃপ্তির ব্যাপার থাকে, সেটা পাচ্ছিলাম না।

তখন মনে করলাম যে কিছুদিন বিরতি নিই। এর মানে এই না যে আমাকে কেউ নিচ্ছে না বা ডাকছে না কিংবা আমি বলেছি কাজ করবো না। আমি শুধু অপেক্ষা করছিলাম ভালো কাজের।

বাংলাদেশ জার্নাল: এখন আবারও অভিনয়ে ফিরলেন। এরমধ্যে হঠাৎ কী পরিবর্তন দেখলেন, যার কারণে কাজে ফিরলেন...

জেনি: এখন অনেক ভালো ভালো কাজ হচ্ছে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে মনে হয়েছে এখনো সেই আগের গল্পই, শুধু পরিচালক পরিবর্তন হয়েছে। আর হ্যাঁ, এখন ইউটিউবের পাশপাশি ওটিটি প্লাটফর্মে ভালো কাজ আসছে দেখছি। আমি কিছু কাজ দেখেছি। ভালো কন্টেন্ট নির্মিত হচ্ছে।

আমি কিন্তু কখনোই বলি নি যে কাজ করবো না। আমি সবসময় বলেছি ভালো কাজ করতে চাই। সেটা নাটক হোক কিংবা সিনেমা। টেলিভিশন, ইউটিউব বা ওটিটি যাই হোক না কেন, আমার কোনো আপত্তি নেই; আমি সব প্লাটফর্মেই কাজ করতে চাই। একজন অভিনয়শিল্পীর কাজ অভিনয় করা। আমি সেটাই করতে চাই সবসময়। ভালো গল্প, ভালো চরিত্র আমার সবসময় পছন্দ। এগুলোর সঙ্গে মিললেই আমি যেকোনো প্লাটফর্মে কাজ করবো। এখন থেকে নিয়মিত কাজ করবো।

বাংলাদেশ জার্নাল: এই বিরতিটা কী শুধু তৃপ্তি না পাওয়ার কারণে নাকি ইন্ডাস্ট্রির প্রতি কোনো ক্ষোভও ছিলো?

জেনি: না না। আমার এখানে কারো প্রতি কোনো ক্ষোভ নেই। কারণ, এই জগতটাকে আমি আমার পরিবার মনে করি। পরিবারের সাথে আবার কিসের ক্ষোভ বা আক্ষেপ? এসব কিছুই নেই আমার।

তবে কিছু কিছু বিষয় তো আছে যেগুলো দেখলে অবাক হই। আমরা সবাইকে ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারি না। এটা বহু আগে থেকেই হয়ে আসছে। যেমন কেউ মারা যাওয়ার পর তাকে নিয়ে সবার কতো কতো আক্ষেপ! আক্ষেপের সুরে সবাইকে বলতে দেখি যে, আমরা তাকে ব্যবহার করতে পারলাম না! আপনি যখন তাকে ইউটিলাইজই করতে পারলেন না, মরে যাওয়ার পর তাকে নিয়ে এই কথাটা বলেন কীভাবে! এটাই মাথায় আসে না। এটা শোবিজ তো, খুব স্বার্থপর একটা জায়গা। এখানে যতক্ষণ পর্যন্ত স্ক্রিণে দেখা যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত মানুষ আপনার খোঁজ করবে। যখন স্ক্রিণে নাই সেই মূহুর্ত থেকেই মানুষের মাথা থেকেও নাই হয়ে যায়, ভুলে যায়। সহজ কথা, স্ক্রিণে না থাকলে কেউই মনে রাখে না। এটা খুবই দুঃখজনক, কিন্তু এটাই সত্যি।

বাংলাদেশ জার্নাল: সেই ছোটবেলাতে থেকেই সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়ে আসছেন। এতটা সময় পেরিয়ে গেলেও বড় পর্দায় আপনাকে দেখা যায়নি কেন? নাকি আগ্রহ কাজ করেনি কখনো?

জেনি: আমি যখন পঞ্চম অথবা ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ি তখন প্রথম সিনেমাতে অভিনয়ে প্রস্তাব পেয়েছিলাম। প্রখ্যাত নির্মাতা মতিন রহমান আমাকে সিনেমাতে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন। সেসময় আমি অনেক ছোট ছিলাম, অনেক কিছুই বুঝতাম না। তাছাড়া ওই সময়টা ছিল কাটপিসের যুগ। আর মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে তখন কেউ সিনেমাতে কাজ করবে এটা পরিবার কখনোই চাইতো না।

আর আমি খুব ছোট বয়সে শোবিজে কাজ শুরু করলেও টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির অনেক জায়গায় কমফোর্ট পেয়েছি। অনেকে আমার বাবার বন্ধু ছিলেন যার কারণে কাজ করতে সুবিধা হয়েছিলো। সেদিক থেকে এখানে আমার অনেকেই পরিচিত ছিলেন, পরিবারের মতো। যার কারণে একটা কমফোর্ট পেতাম। তখন তো আমি সিনেমার কাউকেই চিনতাম না ওভাবে। যেখানে কাউকে চিনি না সেখানে কাজ করতে আগ্রহী ছিলাম না। এখন অনেক ভালো সিনেমা হচ্ছে। আমাদের টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই কাজ করছে, ভালোও করছে। এখন ভালো প্রস্তাব পেলে সিনেমা করার ইচ্ছে আছে।

আমি সর্বশেষ মনে হয় সিনেমা হলে গিয়ে ঢাকা অ্যাটাক সিনেমা দেখেছিলাম। এরপর আর যাওয়া হয়নি। ছবিটা দেখার পর মনে হয়েছে, এই ছবিটার প্রস্তাব আমার কাছে আসলে আমি অবশ্যই করতাম।

বাংলাদেশ জার্নাল/আইএন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত