ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ আপডেট : ৫ মিনিট আগে
শিরোনাম

অস্ট্রেলিয়ার শিশু সুরক্ষা আইন মানেনি, জরিমানা ‘এক্স’কে

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৬, ১৭:০৪

অস্ট্রেলিয়ার শিশু সুরক্ষা আইন মানেনি, জরিমানা ‘এক্স’কে
ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার শিশু সুরক্ষা আইন অমান্য করা ও অনলাইনে শিশু নির্যাতন ঠেকাতে নেওয়া পদক্ষেপের তথ্য দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ইলন মাস্কের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’কে জরিমানা করেছে দেশটির একটি আদালত।

দীর্ঘ তিন বছরের আইনি লড়াই শেষে এক্স নিজেদের দোষ স্বীকার করায় আদালত তাদের এই অর্থদণ্ড দিয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘ তিন বছরের এক আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটল বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।

অনলাইনে শিশু নির্যাতন ও শোষণ রোধে এক্স কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে, সে বিষয়ে ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ই-সেইফটি’ কিছু তথ্য চেয়েছিল।

তবে মাস্কের কোম্পানিটি যথাযথ তথ্য দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সে সময়ই তাদের জরিমানা করা হয়।

টুইটার থেকে ‘এক্স কর্পোরেশন’-এ রূপান্তরিত হওয়ার আইনি ফাঁকফোকর দেখিয়ে এক্স যুক্তি দিয়েছিল, এ নোটিশটি টুইটার থাকা অবস্থায় দেওয়া হয়েছিল এবং যেহেতু এখন টুইটার নামে কোনো কোম্পানির অস্তিত্ব নেই ফলে তারা এ তথ্য দিতে বাধ্য নয়।

তবে আদালত কোম্পানিটির এ যুক্তি নাকচ করে দিয়েছে। অবশেষে বৃহস্পতিবার এক্স নিজেদের ভুল স্বীকার করে নেয় এবং আদালত তাদের প্রায় ৪ লাখ ৬৩ হাজার ডলার জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার আইনি খরচের জন্য আরও ১ লাখ ডলার পরিশোধ করতে বলা হয়েছে।

রায়ে বিচারক মাইকেল হুইলাহান বলেছেন, “এক্স-এর মতো বড় কর্পোরেট কোম্পানির জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির কাছাকাছি জরিমানা হওয়াই যুক্তিসঙ্গত, যাতে এমনটা কেবল ব্যবসা পরিচালনার সাধারণ খরচ হিসেবে গণ্য না হয়ে ভবিষ্যতে একই ভুল করার ক্ষেত্রে সতর্কতা হিসেবে কাজ করবে।”

অস্ট্রেলিয়ার ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে এক্স-এর দ্বন্দ্ব অবশ্য নতুন কিছু নয়।

এর আগে, ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে অস্ট্রেলিয়ার নিষেধাজ্ঞা ও সিডনির এক গির্জায় ঘটে যাওয়া ছুরিকাঘাতের ভিডিও প্ল্যাটফর্ম থেকে সরাতে অস্বীকৃতি জানানোর ঘটনাতেও কোম্পানিটির সঙ্গে সংস্থাটির তীব্র বিরোধ তৈরি হয়েছিল।

২০২৪ সালে ‘ই-সেইফটি’ কমিশনার জুলি ইনম্যান গ্র্যান্ট বলেছিলেন, মাস্ক তার ১৯ কোটি ৬০ লাখ ফলোয়ারের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক পোস্টে নিজেকে ‘সেন্সরশিপ কমিশনার’ বলে বর্ণনা দেওয়ার পর তিনি নিজে মৃত্যুর হুমকি পেয়েছিলেন এবং তার সন্তানদের ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে ফাঁস হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে কমিশনার গ্র্যান্ট বলেছেন, “বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানিকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার জন্য অর্থপূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।”

২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনলাইনে শিশু যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়া রোধে এ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে তা জানতে চেয়ে টুইটার কর্তৃপক্ষের কাছে প্রথম নোটিশটি পাঠিয়েছিল অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষ।

গত বছর আদালত আগের এক রায় বহাল রেখে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, এ স্বচ্ছতা বিষয়ক নোটিশের জবাব দিতে এক্স বাধ্য।

অবশেষে বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষ এ জরিমানার পরিমাণের বিষয়ে একমত পোষণ করে, যা আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসআইপি

  • সর্বশেষ
  • পঠিত