ঢাকা, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ আপডেট : ৬ মিনিট আগে
শিরোনাম

চ্যাটজিপিটির ‘বড় পরিকল্পনার প্রথম ধাপ’ মিনি কি-বোর্ড

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৬, ১৬:০৪

চ্যাটজিপিটির ‘বড় পরিকল্পনার প্রথম ধাপ’ মিনি কি-বোর্ড
এ হার্ডওয়্যারটির কথা ওপেনএআইয়ের ডেভেলপার অ্যাকাউন্ট থেকে এক নাটকীয় পোস্টের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

কোডারদের জন্য মিনি কিবোর্ড নিয়ে আসছে চ্যাটজিপিটি’র নির্মাতা কোম্পানি ওপেনএআই, যার মাধ্যমে কোডার বা প্রোগ্রামাররা সরাসরি চ্যাটজিপিটির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।

আপাতদৃষ্টিতে কিবোর্ডটিকে সাধারণ গ্যাজেট মনে হলেও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মিনি কিবোর্ড কেবল ব্র্যান্ডিংয়ের লড়াই নয়, বরং স্মার্টফোনের বিকল্প হিসেবে বাস্তব দুনিয়ায় এআই হার্ডওয়্যার নিয়ে আসার পেছনে ওপেনএআইয়ের দূরদর্শী ও বড় পরিকল্পনার প্রথম ধাপ।

এ হার্ডওয়্যারটির কথা ওপেনএআইয়ের ডেভেলপার অ্যাকাউন্ট থেকে এক নাটকীয় পোস্টের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।

এ কিবোর্ডের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাদের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত বিভিন্ন শর্টকাট সংরক্ষণ করতে এবং কেবল একটি বাটন চাপার মাধ্যমেই প্রোগ্রামিং প্ল্যাটফর্ম ‘কোডেক্স’-এ সেগুলো দ্রুত ব্যবহার করতে পারবেন।

সাধারণভাবে মনে হতে পারে, ওপেনএআইয়ের মতো কোম্পানির হয়ত এর চেয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার রয়েছে। তবে ওপেনএআই এরইমধ্যে দাবি করছে, তারা ‘আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স’ বা এজিআই বা মানুষের মতোই সাধারণ সক্ষমতাওয়ালা এআই তৈরির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে এবং এ লক্ষ্যে পৌঁছাতে তাদের ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার ও পারমাণবিক ফিউশন থেকে পাওয়া বিশাল পরিমান শক্তিরও প্রয়োজন হবে।

ওপেনএআইয়ের এমন পদক্ষেপ কোম্পানিটির আগের বেশ কিছু আপডেটের সঙ্গে বেশ মেলে, যার পেছনে তাদের দুটি মূল লক্ষ্য থাকে। প্রথম লক্ষ্যটি বেশ সহজ ও সাধারণ। তবে দ্বিতীয়টি বেশ জটিল।

ওপেনএআইয়ের এ হার্ডওয়্যারটি বাজারে আনার প্রথম কারণ হচ্ছে, তাদের ব্র্যান্ড তৈরির ও নিজেদের আধুনিক বা ‘কুল’ হিসেবে জাহিরের তীব্র প্রচেষ্টা, বিশেষ করে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অ্যানথ্রপিক-এর মতো ওপেনএআইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী বিভিন্ন কোম্পানি ব্র্যান্ডিং বা প্রচারের দিক থেকে তাদের ছাড়িয়ে গেছে। ফলে ঝলমলে ভিডিওর মাধ্যমে ওপেনএআইয়ের নতুন এ পণ্যটির ঘোষণা দেওয়া সেই হারিয়ে যাওয়া অবস্থান ফিরিয়ে নেওয়ারই একটি চেষ্টা হতে পারে।

কার্যকারিতা বা পারফরম্যান্সের দিক থেকে বর্তমানে বড় বিভিন্ন এআই মডেল ও বিভিন্ন পণ্যের মধ্যে খুব একটা তফাত নেই। এ কারণে অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআইয়ের মতো শীর্ষ এআই কোম্পানিগুলো এখন ব্র্যান্ডিং বা নিজেদের প্রচারের লড়াইয়ে মেতেছে।

ব্র্যান্ডিংয়ের কিছু অংশ বেশ অর্থপূর্ণ ও গভীর, যেমন তাদের নৈতিক অবস্থান ও বিভিন্ন এআই টুল কীভাবে কাজ করবে সে সম্পর্কিত নান্দনিক সিদ্ধান্ত। আবার কিছু কৌশল একেবারেই বাহ্যিক বা লোকদেখানো, যেমন কোম্পানির নিজস্ব মার্চেন্ডাইজ বা বিভিন্ন সামগ্রী বাজারে আনা।

মিনি কিবোর্ডটি বাজারে আনার পেছনে ওপেনএআইয়ের আরও গভীর কারণ থাকতে পারে। তারা হয়ত এমন হার্ডওয়্যার তৈরির প্রথম ধাপ হিসেবে কাজ করছে, যা চ্যাটজিপিটিকে বাস্তব দুনিয়ায় আরও সক্রিয়ভাবে নিয়ে আসবে।

এখন পর্যন্ত তাদের এ এআই অ্যাসিস্ট্যান্টটি ফোন বা কম্পিউটারের স্ক্রিনের ভেতরেই সীমিত রয়েছে। তবে কোম্পানিটি এখন এই চেনা সমীকরণটি বদলে দিতে চাইছে।

গেল বছরের এ সময়ে ওপেনএআই ঘোষণা করেছিল, তারা অ্যাপলের সাবেক ডিজাইনার জনি আইভের সঙ্গে মিলে এআইভিত্তিক নতুন হার্ডওয়্যার তৈরির কাজ করছে। সেই পণ্যটি আসলে দেখতে কেমন বা কী হবে, সে বিষয়ে তারা তখন খুব কম তথ্যই প্রকাশ করেছিল।

প্রযুক্তি বাজারে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জন অনুসারে, এটি হতে পারে গলায় ঝোলানোর মতো ছোট কোনো লকেট বা টেবিলের ওপর রাখার মতো কোনো ডিভাইস, যা সহজেই সঙ্গে নিয়ে ঘোরা যাবে। একইসঙ্গে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে সরাসরি কথা বলার জন্য এতে ক্যামেরা, মাইক্রোফোন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিও যোগ থাকতে পারে।

বাস্তবে এমন কোনো ডিভাইস তৈরি করতে হলে কোম্পানিটিকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নতুন সক্ষমতা পেতে বা অন্য কোনো অভিজ্ঞ কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করতে হবে। যার মধ্যে রয়েছে সাধারণ গ্রাহকদের উপযোগী হার্ডওয়্যার ডিজাইন ও তৈরি করা এবং সেই পণ্য মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বড় এক সরবরাহ ব্যবস্থা বা পরিকাঠামো গড়ে তোলা।

সেই তুলনায় ছোট কিবোর্ড তৈরি করা ওপেনএআইয়ের জন্য বড় অভিযানের আগে চমৎকার প্রাথমিক প্রস্তুতি বা পরীক্ষামূলক ধাপ হতে পারে। কারণ, মিনি কিবোর্ড নিয়ে বাজারে সমালোচনা বা চুলচেরা বিশ্লেষণের ঝুঁকি কম ও যার গ্রাহক সংখ্যাও কিছুটা সীমিত।

মানুষ যাতে আরও সহজে এআই ব্যবহার করতে পারে সেজন্য ওপেনএআই ছাড়াও আরও প্রযুক্তি কোম্পানি হার্ডওয়্যারের নতুন কোনো রূপ বা মাধ্যম খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছে। হয়ত একদিন স্মার্টফোনের বিকল্প তৈরির দূরদর্শী লক্ষ্য নিয়েই তাদের এই পথচলা।

এ প্রচেষ্টার মধ্যে মেটা’র তৈরি এআই স্মার্ট চশমা থেকে শুরু করে অ্যাপলের ক্যামেরাওয়ালা এয়ারপডসের মতো বহু পণ্যের গুঞ্জন রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করলে, চ্যাটজিপিটি থেকে শুরু করে ক্লড সব ধরনের এআই টুল ব্যবহারের জন্য মানুষ এখনও তাদের কম্পিউটার বা স্মার্টফোনের ওপরই ভরসা করছেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসআইপি

  • সর্বশেষ
  • পঠিত