ইরানের দক্ষিণে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক হামলা, রাতভর হরমুজ প্রণালিতে বিস্ফোরণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৩

ব্যাপক বিমান হামলা ও আতঙ্কের আরেকটি রাত কাটালেন ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের অধিবাসীরা। গতকাল বুধবার রাতভর দেশটির দক্ষিণ উপকূল ঘেঁষে কৌশলগত বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একের পর এক বিস্ফোরণ হয়েছে হরমুজ প্রণালিতেও।
এদিকে গত কয়েক দিনের মার্কিন হামলায় ইরানে অন্তত ৩৫ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
হরমুজ প্রণালির সবচেয়ে বড় দ্বীপ কেশমে একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। বিস্ফোরণ হয়েছে বন্দর আব্বাস নগরীতে। হরমুজ প্রণালির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী সিরিকেও হামলা হয়েছে। ইরানের দক্ষিণ–পূর্বাঞ্চলের সিস্তান প্রদেশের বন্দরনগরী চাবাহার, কোনারাক এবং রাস্ক থেকেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, খোররামাবাদের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহরে অন্তত দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রাজধানী তেহরান থেকে এটি প্রায় ৪৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ–পশ্চিমে অবস্থিত। হামলার প্রেক্ষাপটে তেহরানে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
দক্ষিণ–পশ্চিমের আন্দিমেস্ক শহরের আকাশে ‘শত্রুপক্ষের’ এমকিউ–৯ ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। দেশটির তাসনিম সংবাদ সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে তাদের সর্বশেষ দফার হামলা সম্পন্ন হয়েছে। বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনী বন্দর আব্বাসসহ বিভিন্ন স্থানে ইরানের কমান্ড সেন্টার, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র–ড্রোন সক্ষমতা ও উপকূলীয় নজরদারি স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করেছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ৯০ মিনিটের এক অভিযানে গ্রেটার টুনব দ্বীপের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোয় হামলা চালিয়েছে বলে জানায় সেন্টকম।
গত কয়েক দিন ধরেই ইরানে লাগাতার হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। হামলায় দেশটিতে অন্তত ৩৫ জন নিহত এবং তিন শতাধিক লোকের আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের গত কয়েক দিনের হামলার জবাবে উপসাগরীয় দেশগুলোয় বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। আজ বৃহস্পতিবার বাহরাইন ও কুয়েতে বিমান হামলার সতর্ক সাইরেন বাজানো হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধ পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। মার্কিন ঘাঁটি থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোতে একের পর এক পাল্টা আঘাত হানছে ইরান। জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিধিনিষেধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামও বেড়ে গেছে।
যুদ্ধ বন্ধে দুপক্ষের সমঝোতা স্মারক সই হলেও ইরানে ৭ জুলাই নতুন করে হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ হামলা আরও চলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
নিউইয়র্ক টাইমসের খবর অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর কথা ১০ জুলাই মার্কিন কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এখন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই ট্রাম্প প্রশাসন ৬০ দিন ইরানে হামলা চালিয়ে যেতে পারবে।
সই হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী, যুদ্ধ বন্ধে ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের। এখন হামলা আর পাল্টা হামলা চলতে থাকলেও ইরানের সঙ্গে এখনো একটি ‘চুক্তি হওয়া সম্ভব’ বলে জানিয়ে রেখেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বাংলাদেশ জার্নাল/জে










