খাইবার শেকান: ইরানের যে ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪২

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলা সংঘাতে সফল ব্যাপক আলোচিত ইরানের তৈরি খাইবার শেকান মিসাইল। মধ্যপ্রাচ্যে একের পর এক তেহরানের সফল আঘাত হানার পেছনে রয়েছে এই বিধ্বংসী মিসাইলের অবদান। আর যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এই অত্যাধুনিক মিসাইল বিধ্বংসী প্রমাণিত হলো তাই উঠে এসেছে মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে।
মূলত, পাঁচ মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলা সংঘাতে একের পর এক সফলতা পেয়েছে ইরান। মার্কিনীদের হামলার জবাব দিয়েছে তেহরান। লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলি। এই যুদ্ধে সুনাম কুড়িয়েছে ইরানের বেশ কয়েকটি বিধ্বংসী মিসাইল। যার মধ্য অন্যতম খাইবার শেকান এখন শত্রুপক্ষের কাছে রীতিমতো আতঙ্ক হয়ে দাড়িয়েছে।
খাইবার শেকানের বিধ্বংসী চরিত্রের পেছনে রয়েছে বেশ কয়েকটি কারণ। ক্ষেপণাত্রটি সলিড ফুয়েল চালিত হওয়ায় আগে থেকেই প্রস্তুত করে রাখা যায়। আর সুবিধা মতো বাহনে চড়িয়ে যে কোনো জায়গা থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য। ফলে খুব সহজেই শত্রুপক্ষের নজরদারি এড়ানো যায়। তাছাড়া আঘাত হানার আগেই নিজের গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে এই ক্ষেপনাস্ত্র। এতে বিশ্বসেরা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমগুলোকেও বিভ্রান্ত হচ্ছে।
এই মিসাইলের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এটি তৈরিতে খরচ খুব কম। অথচ এই হামলা রুখতে বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রকে। তাতেই অর্থনৈতিকভাবেও ক্ষতির সম্মুখীন আগ্রাসনবাদীরা।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতো জনপ্রিয় পত্রিকার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাটিগুলোতে খাইবার শেকানের তাণ্ডবচিত্র। বলা হচ্ছে, অত্যাধুনিক মিসাইলের সাফল্যের পেছনে রয়েছে ইরানের বিজ্ঞানীদের নিরলস পরিশ্রম। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের প্রতিটি যুদ্ধ থেকেই তারা ডেটা সংগ্রহ করছে এবং নিখুতভাবে বিশ্লেষণ করেছে যুগের পর যুগ। এর ফলে শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ফাঁকি দেয়ার সব উপায় তাদের জানা।
২০২২ সালে আইআরজিসির সমরভাণ্ডারে যুক্ত হয় খাইবার শেকান। এই ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেডে থাকে ছোট ছোট অনেকগুলো বোমা। মূলত, মাটি থেকে ৭-৮ হাজার মিটার উচ্চতায় আকাশে থাকা অবস্থাতেই এগুলো বিভক্ত হয়ে আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। যেখান থেকে পরবর্তীতে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটে। ইসরায়েলের সাথে দুই দফা যুদ্ধেও খাইবার শেকান ক্লাস্টার মিসাইলের অত্যাধিক ব্যবহার করতে দেখা যায় ইরানকে।
ঐতিহাসিক খাইবার যুদ্ধের স্মরণে এই ক্ষেপণাস্ত্রের নাম রাখা হয়েছে। ৬২৮ সালে আরবের খাইবার মরূদ্যান মুসলিম বাহিনীর দখলে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এ নামকরণ।
একটি খাইবার শেকান তৈরিতে ঠিক কত ব্যয় হয়, তা প্রকাশ করেনি ইরান। তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যেসব ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে এগুলো প্রতিহত করার চেষ্টা করে, সেগুলোর তুলনায় খাইবার শেকান অনেক কম ব্যয়বহুল।
বাংলাদেশ জার্নাল/জে









