ঢাকা, রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ আপডেট : ১০ মিনিট আগে
শিরোনাম

জাতীয় পার্টির আয় ৪৫% কম, ব্যয় বেড়েছে

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬, ১৫:৫৮

জাতীয় পার্টির আয় ৪৫% কম, ব্যয় বেড়েছে
ছবি: সংগৃহীত

ভোটের বছরে বড় দলগুলোর আয় যেখানে বাড়ে, চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর বেকায়দায় থাকা জাতীয় পার্টির ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টোটা।

জাতীয় পার্টি রোববার নির্বাচন কমিশনে ২০২৫ সালের পঞ্জিকা বছরের যে হিসাব জমা দিয়েছে, সেখানে ১ কোটি ৮২ লাখ ৪২৭০ টাকা আয় তথ্য এসেছে।

সবশেষ ২০২৪ সালে জাতীয় পার্টির আয় ছিল ২ কেটি ৬৪ লাখ ৩৮ হাজার ৯৩৮ টাকা। সে হিসাবে এক বছরে দলটির আয় কমেছে ৪৫ শতাংশের বেশি।

আয় কমলেও ব্যয়ও বেড়েছে জাতীয় পার্টির। এবার দলটি ব্যয় দেখিয়েছে ১ কোটি ৮৭ লাখ ৯৩ হাজার ৪৩৩ টাকা, যা গতবারের চেয়ে ৪ শতাংশ কম। ২০২৪ সালে জাতীয় পার্টি ১ কোটি ৭৯ লাখ ৮৮ হাজার ৪৪ টাকা ব্যয় দেখিয়েছিল।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের স্বাক্ষরিত ওই নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে দলটির ব্যাংকে জমা আছে ৭৮ লাখ ৬১ হাজার ৭৩১ টাকা। গতবছর ব্যাংকে তাদের ৮৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৯৪ টাকা জমা ছিল।

দলের অতিরিক্ত মহাসচিব রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া এদিন আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে গিয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদের কাছে এ অডিট রিপোর্ট জমা দেন

তিনি বলেন, "এ বছর নির্বাচন হওয়ায় আমাদের খরচ বেশি হয়েছে। "

জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ১৯২ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল জাতীয় পার্টি। এ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল হিসেবে ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা ব্যয় করার তথ্য তারা হিসাব বিবরণীতে দিয়েছে।

নির্দলীয় স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও জাপা সমর্থিত প্রার্থীরা থাকবেন জানিয়ে রেজাউল ইসলাম বলেন, "এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলগতভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। তারপরও বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের বাইরে থাকে না, সমর্থন করে থাকে।

“গতবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী দিলেও, এবার আমাদের প্রার্থীরা যার যার মত অংশ নেবে এবং আমাদের তাতে সমর্থন থাকবে।"

কয়েকটি দল সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিচারের দাবি তুলেছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হয় জাতীয় পার্টির নেতা রেজাউল ইসলামকে।

জবাবে তিনি বলেন, "তিনি অসুস্থতাজনিত কারণে পদত্যাগ করেছেন। তিনি রাষ্ট্রপতি থাকাকালে সংবিধানবিরোধী কার্যক্রম করেছিলেন কিনা, সেটা দেখার বিষয়। ওই কার্যক্রম না করলে আমরা কেন তার গ্রেপ্তারের দাবি করব? এ বিষয়ে জাপার কোনো মন্তব্য নেই।"

আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর জাপায় নতুন করে ভাঙন ধরেছে, এর প্রভাব কতটা, তা জানতে চান সাংবাদিকরা।

জবাবে জি এম কাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির অতিরিক্ত মহাসচিব বলেন, "যারা দল ভেঙেছিল, তাদের অধিকাংশই জিএম কাদেরের নেতৃত্বে ফিরে এসেছে। আগামী নির্বাচনে (স্থানীয় সরকার) সারাদেশে আমরা ভালো করবো বলে বিশ্বাস করি এবং কিছু অঞ্চলভেদে আমাদের প্রার্থীরা ভালো রেজাল্ট করবে বলে প্রত্যাশা করি। এ ভাঙনের প্রভাব তৃণমূলে নেই।”

জাপা চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মো. খলিলুর রহমান খলিল, যুগ্ম মহাসচিব এবিএম লিয়াকত হোসেন চাকলাদার, দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম, নির্বাহী সদস্য বহ্নি বেপারী এ সময় অতিরিক্ত মহাসচিবের সঙ্গে ছিলেন।

বর্তমানে ইসিতে নিবন্ধিত দল রয়েছে ৫৯টি। ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সব দলকে অডিট রিপোর্ট জমা দিতে হবে। টানা তিন বছর প্রতিবেদন জমা না দিলে নিবন্ধন বাতিলের ক্ষমতা রয়েছে ইসির।

তবে নিবন্ধন স্থগিত থাকায় প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতার বাইরে রয়েছে আওয়ামী লীগ, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনেও অংশ নিতে পারেনি দলটি।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত