ঢাকা, রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ আপডেট : ২ মিনিট আগে
শিরোনাম

সংকটের মধ্যেও রপ্তানি আয়ে ১৫% প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য সরকারের

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬, ১৭:৩৯  
আপডেট :
 ২৬ জুলাই ২০২৬, ১৮:০২

সংকটের মধ্যেও রপ্তানি আয়ে ১৫% প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য সরকারের
ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্রের ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের একের পর শুল্ক আরোপে যখন বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক ধারায় চলছে তখন চলতি অর্থবছরের জন্য রপ্তানি আয়ে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরেছে সরকার।

বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলার রপ্তানি আয়ের চেয়ে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকার ৭০০ কোটি বা ৭ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় বাড়াতে চায়।

এই অর্থবছরে ৫ হাজার ৫০০ কোটি বা ৫৫ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে বিএনপি সরকার, যা শতাংশের হিসেবে বিদায়ী অর্থবছরের আয়ের চেয়ে ১৫ শতাংশ বেশি।

রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে চলতি অর্থবছরের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, “এই অর্থবছরে যেটা আমাদের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা, সেটি হচ্ছে পণ্যের ক্ষেত্রেও ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এবং সেবার ক্ষেত্রেও ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। যদি আমরা সেটা অর্জন করতে পারি, তাহলে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৬৩ দশমিক ৪০ বিলিয়ন।

“তাতে পণ্য হবে ৫৫ দশমিক ২ বিলিয়ন এবং সেবা হবে ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন। পণ্য এবং সেবা মিলিয়ে ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন হচ্ছে আমাদের এই অর্থবছরের রপ্তানির ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা।”

বিদায়ী অর্থবছরে সেবা খাতে রপ্তানি আয় ৭ বিলিয়ন ডলার হওয়ার তথ্য দিয়েছেন তিনি।

বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে বিদায়ী অর্থবছরে রপ্তানি আয় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও কমে যায় প্রায় ১৩ শতাংশ।

গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় এসেছিল ৪ হাজার ৮২৮ কোটি ৩৯ লাখ ডলার। আর সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ৫০০ কোটি ডলার।

এক অর্থবছর পরই রপ্তানি আরও কমে যেত পারত যদি অর্থবছরের শেষ মাস জুনে ২৫ দশমিক ৯১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি না হতো। এ মাসে ৪২০ কোটি ২৭ লাখ ডলার আয় করেছেন রপ্তানিকারকরা। আগের অর্থবছরে একই মাসে তারা আয় করেছিলেন ৩৩৩ কোটি ৭৯ লাখ ডলার।

এর আগে টানা আট মাস কমার পর গত এপ্রিলে বেড়েছিল অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক। তবে মে মাসে এসে ফের হোঁচট খায় রপ্তানি আয়।

এমন পরিস্থিতিতেও বাণিজ্যমন্ত্রী রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য অর্জনে আশার কথা শোনান।

তিনি বলেন, “এই যে অচল অবস্থা বা রপ্তানির ক্ষেত্রে একটা মন্দা অবস্থা, আশা করি এই অর্থবছরে সেটা কিছুটা হলেও আমরা এই বৃত্ত ভেঙে বেরিয়ে আসতে পারব।”

এর ব্যাখ্যায় মন্ত্রী বলেন, “নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরে যদিও বিশ্বে দুইটা যুদ্ধ চলমান এবং উন্নত অনেক দেশেই ভোগের পরিমাণ কিছুটা নেতিবাচক বা প্রবৃদ্ধি শ্লথ, তারপরও গত বাজেটে আমরা বেশ কিছু উৎসাহব্যঞ্জক কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি।

আমরা আগামী দিনে ব্যবসা শুরুর বা ব্যবসা পরিচালনা করার প্রক্রিয়াগুলোর সময় ব্যাপকভাবে কমিয়ে নিয়ে আসছি এবং এই যে ব্যবসাবান্ধব একটা পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে, সেটির অবিলম্বে একটা ফল আমরা ঘরে তুলে আনতে পারব বলে আমাদের বিশ্বাস।”

সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরসচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

'লোক দেখানো' লক্ষ্য?

লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে থেকে রপ্তানি আয় বিদায়ী অর্থবছর শেষ করেছে। দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে অসংখ্য কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

যখন বাংলাদেশের অর্থনীতি নানা ধরনের সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, বিশেষ করে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট রয়েছে।

এছাড়াও মূল্যস্ফীতি ও সামগ্রিকভাবে রাজনীতির প্রভাব থাকার মধ্যে সরকার কেন রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রাটা চলতি অর্থবছরে বাড়িয়ে ধরল? এটা কি ‘লোক দেখানো’?

জবাবে মন্ত্রী বলেন, “ভালো প্রশ্ন। গত অর্থবছরে একটা বড় অনিশ্চয়তা ছিল। আপনি, মানে ‘ইউ আর রাইট’, ব্যবসা তার প্রসারের জন্য একটা স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ চায়।

“দ্বিতীয়ত হচ্ছে, তখন একটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছিল, সেই অনিশ্চয়তা। ‘পলিসি স্টেবিলিটি’, ‘পলিসি প্রেডিক্টিবিলিটি’, এই অনিশ্চয়তার ধাপগুলি পেরিয়ে এখন একটা নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। ‘সো, পলিসি প্রেডিক্টিবিলিটি’ এখন আরও বাড়বে।

“এই সরকার ক্ষমতায় আসার পরে অর্থনীতির বাধাগুলি দূর করার, ব্যবসাবাণিজ্যের প্রসারের জন্য, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে নিয়ে প্রথম দিন থেকেই নিবিড়ভাবে কাজ করছে।”

তার ভাষ্য, “আমরা এই বাজেটে, এই অর্থনীতির প্রসারের জন্য সুনির্দিষ্ট অনেকগুলি পদক্ষেপ নিয়েছি। আমরা বিসিকের এরিয়া বাড়ানোর জন্য অনেকগুলি জেলাতে নতুন নতুন প্রকল্প নিচ্ছি।

“বিদ্যামান প্লটগুলি যেন সদব্যবহার হয়, সেটার জন্য অঞ্চল ভিত্তিতে আমরা স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সাথে যোগাযোগ করছি।”

এছাড়াও বৈশ্বিক পরিমণ্ডলের সঙ্গে মিলিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা ছিল, তাও কেটে যাওয়ার কথা, বলেন মন্ত্রী।

তার ভাষ্য, “আমাদের আরেকটি বড় অনিশ্চয়তা ছিল যে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনটা হবে বা হবে না। সেই অনিশ্চয়তাটা দূর করে ইতোমধ্যেই এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের তিনটা ধাপের মধ্যে ইউএনসিডিপি এবং ইকোসক, এই জাতিসংঘের স্টাফ লেভেলের, টেকনিক্যাল লেভেলের এই দুইটা ধাপ আমরা ইতোমধ্যে অতিক্রম করেছি।

“তার মানে, ক্রেতারা জানে এখন যে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন হচ্ছে, অন্তত এই ক্ষেত্রে, মার্কেট অ্যাকসেসের ক্ষেত্রে আগামী তিন বছর আমাদের পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হবে না।”

মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ নিয়ে আলোচনা চলার কথা তুলে ধরে আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘‘এই বছরেই অন্তত পাঁচটি দেশের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর সম্পন্ন হবে। আরও অনেকগুলি দেশের সাথে সেই আলোচনা চলছে। সেটি আগামী বছর সম্পন্ন করবে সরকার। তিনি বলেন, “ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন আমাদের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। তারা ইতোমধ্যেই আমাদের জানিয়ে দিয়েছে, তারা এফটিএ করতে চায় এবং সেজন্য আলোচনা শুরু হবে অতি দ্রুত।

“তো এই যে অনেকগুলি গ্রিন সিগন্যাল যে বাংলাদেশ একটা কাঙ্ক্ষিত ব্যবসার পার্টনার বিশ্বের জন্য, গ্লোবাল বিজনেস পার্টনার, গ্লোবাল ইকোনমিক পার্টনার, এই বার্তাটা অনেক ইম্পর্টেন্ট তাদের আস্থার জন্য। তো সেটার প্রতিফলন আগামী দিনে ইনশাআল্লাহ আপনারা দেখতে পাবেন।”

এর প্রেক্ষিতে আশার কথা ফের পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “এই জন্যই যে টার্গেটটা আমরা ধরেছি, আমার বিশ্বাস, যে যে প্রতিবন্ধকতার কথা আপনি বললেন, এগুলি কোনোটাই আমি উপেক্ষা করছি না।

“কিন্তু এই সমস্ত প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব।”

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত