ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি ২০২০, ৮ মাঘ ১৪২৭ আপডেট : ১৮ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৩৩

প্রিন্ট

‘শ্যামদেশে’ নীলা হারুনের একদিন

‘শ্যামদেশে’ নীলা হারুনের একদিন
ছবি: পাতায়া বিচ, থাইল্যান্ড

নীলা হারুন

সুবর্ণভূমি এয়ারপোর্টে নেমেই আমার কেমন লজ্জা লজ্জা করতে লাগলো। চারপাশে প্রায় সবাই সাদা, ইমিগ্রেশনে আমাদের লাইনের পাশেই বিদেশিদের লাইন যাদের বেশিরভাগই লম্বা এবং চিকন। নিজেকে মনে হচ্ছিল ফুলের বাগানে ঘুরে বেড়ানো হাঁসের ছানা। বেশিরভাগ বিজ্ঞাপনেই গায়ের রং উজ্জ্বল করার ক্রিমের বিজ্ঞাপন, মনে হতে লাগল সেগুলো যেন আমাদের লক্ষ্য করেই দেয়া হচ্ছে।

ইমিগ্রেশন অফিসার একবারো না তাকিয়ে, মাথা নিচু করে ঝটপট সীল দিয়ে দিলে সবুজ পাসপোর্ট হাতে বেরিয়ে আসি। গাইড মেয়েটি আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিল, সে ই প্রবেশপথের ধারে নিয়ে গেল। গাড়ি আসতে একটু দেরী হওয়ায় সে খুব অপ্রস্তুত স্বরে বারবার ‌‘দুঃখিত’ বলছিল। আমি হেসে সাথেরজনকে বাংলায় ফিসফিসিয়ে বললাম, ‘কোন সমস্যা নেই, আমরা দেরীর দেশের মানুষ এমন একটু দেরীতে অভ্যস্ত!’

গাড়ি করে প্রথমে পাতায়া যাওয়া হবে, সেখানে কিছুদিন কাটিয়ে ব্যাংকক। বিশাল বড় সূর্য যেন জমিন ছুঁই ছুঁই করছে, ডিমের কুসুমের মত রং তার। যেন একটু কাঁটাচামচের খোঁচায়-ই গলে যাবে। আমি চারপাশ দেখা বাদ দিয়ে অভিভূত হয়ে সূর্যের দিকেই তাকিয়ে থাকি। পাতায়ার হোটেলটা সুন্দর। বারান্দা থেকে সমুদ্র দেখা যায় এমন একটা ঘর আমাদের জন্য বরাদ্দ ছিল। যখন শহর দেখা হল তখন বুঝলাম দু'দিনের বেশি এ শহরে আমি থাকতেই পারব না, কেবল যৌনতা কে কেন্দ্র করে যে শহরের ভিড় বেড়ে চলেছে সেখানে থাকা আমার জন্য সম্ভব না।

পরিচ্ছন্ন, ভাল ব্যবহারের হিজড়া বা পতিতাদের এর আগে আমি কখনো দেখিনি। পথ হারিয়ে ফেললে ‘সিস্টার বা ডিয়ার’ ডাকলেই তারা সাহায্য করে রেস্টুরেন্টের খাবারের মেনুর মত যৌন কর্মকাণ্ডের জন্য কোথায় কত বাথ গুনতে হবে, সেসব লিফলেট উড়ে উড়ে যায়। আমরা পানি আর জুস খেতে খেতে বিয়ার খেতে থাকা বিদেশিদের পাশ কাটিয়ে হাঁটি।

ওয়াকিং স্ট্রীটে প্রতিরাতে একই গান গায় ব্যান্ডগুলো, কেবল শ্রোতা পাল্টে যায়। প্রতিরাতে রং মেখে দাঁড়িয়ে হাসতে থাকা মানুষগুলোকে আমার ক্লান্ত মনে হয়। এরা যেন নিজেরাও জানেনা এরা কোথায় কি করছে! এরা যেন জীবনমৃত। বয়ফ্রেন্ড এর হাত ধরে বা বাচ্চা কোলে বিদেশি নারীরা আসলে এরা কাতর চোখে হয়তো ভাবে, ‘আহা! আমি যদি তুমি হতাম! পর্যটক হয়ে এখানে আসতাম!’ আমরা বাচ্চাদের সামনে ‘ডার্লিং’ জাতীয় শব্দ উচ্চারণ না করলেও বিদেশিরা কিন্তু বাচ্চাদের নিয়েই সব দেখে বেড়াচ্ছে। পাতায়া সী বীচে যাওয়া হল পরদিন। সমুদ্র দেখেই ঝাঁপ দিলাম, ভুলে গেলাম ব্যাগে রয়েছে ডলার, বাথ, পাসপোর্ট, মোবাইল!

তবে, মজার ব্যাপার হল হোটেলের সুইমিংপুলে যেতেই সাদারা এমনভাবে নিজেদের মাঝে কথা থামিয়ে (যারা শোয়া ছিল তারা তড়াক করে বসে) তাকিয়ে রইলেন। এমন নিশ্চুপ তাকানো দেখে মনে হল এই প্রথম তারা বাদামী চামড়ার মানুষ দেখছে! আমি অস্বস্তি নিয়ে পালিয়ে আসি পুল থেকে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত