ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১, ৩ আষাঢ় ১৪২৮ আপডেট : ৪৬ মিনিট আগে

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪:৩৫

প্রিন্ট

কেন খাবেন তেলে জলে নারকেল

কেন খাবেন তেলে জলে নারকেল

অনলাইন ডেস্ক

দেশের অন্যতম অর্থকরী ফসল নারিকেল। নারকেল বিভিন্ন ছোট-বড় শিল্পের কাঁচা মাল, হরেকরকম মুখরোচক নানা পদের সুস্বাদু খাবার তৈরির উপকরণ, পুষ্টিতে সমৃদ্ধ, সুস্বাদু পানীয়, রোগীর পথ্য এসব গুণে গুণান্বিত। নারিকেল কেশতেল, ভোজ্য তেল, কোকো মিল্ক, শাঁস দিয়ে তৈরি মোরব্বা, পাপড়ি, মোয়া, নানাভাবে তৈরি পিঠা, পায়েস, হালুয়া, কোকো মিল্ক দিয়ে নানা পদের সুস্বাদু খাবার সবাইকে আকৃষ্ট করে।

নারকেলের জল থেকে শুরু করে শাঁস- এর গুণ অনেক। কেন খাবেন তেলে-জলে নারকেল একে একে তা জানার পালা এবার-

ভিটামিনস ও মিনারেলস

নারকেল এমনই এক ফল, যার কোনো অংশই ফেলে দেওয়ার নয়। জল আর শাঁস তো বটেই নারকেল তেলও রান্নায় বিভিন্ন ভাবে ব্যবহার করা হয়। নারকেলের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন আর মিনারেল রয়েছে। মানব শরীরের ইমিউনিটি বাড়াতে ভিটামিন ‘বি’ এর প্রয়োজন। নারকেল থেকে ভিটামিন বি-৫ আর বি-৬ পাওয়া যায়। খাদ্যতালিকায় অল্পবিস্তর নারকেল রাখতে পারেন। স্যালাডের উপরে ড্রেসিং করে বা এমনিই এক টুকরো খেতে পারেন ব্রেকফাস্টের ফাঁকে। নারকেলে থাকে ম্যাঙ্গানিজ়, যেটা হাড়ের কার্যক্ষমতা বাড়াতেও সহায়ক।

নারকেলে থাকা অন্য একটি উপাদান হল, সেলেনিয়াম। এটি অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট। মানবশরীরের কোষে থাকা দূষিত পদার্থকে জমতে না দিয়ে শরীর থেকে বার করে দিতে সাহায্য করে। কোভিড পিরিয়ডে চিকিৎসক এবং ডায়াটিশিয়ানরা সাধারণত তিনটি মিনারেল সকলকে নিয়মিত খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন— জ়িঙ্ক, ম্যাঙ্গানিজ় এবং সেলেনিয়াম। সে দিক থেকেও নারকেল কিন্তু উপকারী।

এছাড়াও নারকেলে প্রচুর পটাশিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, কপার থাকে। অনেক সময়ে লো পটাশিয়াম ডায়েটের কারণে আমাদের শরীরে ইলেক্ট্রোলাইট ইমব্যালান্স দেখা দেয়। পটাশিয়ামের মাত্রা তখন কমে গিয়ে হাত-পা ঝিমঝিম করতে থাকে, হাঁটাচলার ক্ষমতা কমে যায়। সেই সময়েও চিকিৎসকেরা ডাবের জল খাওয়ার পরামর্শ দেন। ডাবের জলে হরেক মিনারেলের উপস্থিতি শরীরে ইলেক্ট্রোলাইট ইমব্যালান্স হলে, তাকে সমতায় ফেরাতে সাহায্য করে। নারকেলে থাকা আয়রন আবার রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রাও বাড়ায়।

বিস্মৃতি রুখতে

ডাবের জলে থাকে এমসিটি অর্থাৎ মিডিয়াম চেন ট্রাইগ্লিসারাইডস । মস্তিষ্কের কাজ ক্ষুরধার করতে আর স্মৃতিশক্তি জোরদার করতে এমসিটির জুড়ি নেই। বাড়তি এনার্জিরও জোগান দেয় এই উপাদান। হয়তো সেই কারণেই সন্তানের পরীক্ষা চলাকালীন বা শরীরের দুর্বলতা কাটাতে অনেকেই ডাবের জল খাওয়ান। একই কারণে যারা অ্যালজ়াইমার্সের রোগী, তাদেরও ডাবের জল খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

রান্নায় নারকেল তেল

নারকেল তেল ব্যবহারের ফল ভাল, না খারাপ— তা নিয়ে রয়েছে নানা মত। সুবর্ণা রায় চৌধুরী বললেন, নারকেল তেলের ব্যবহার নিয়ে এখনও যথেষ্ট গবেষণা হয়নি। তাই সর্ষের তেল, রাইস ব্র্যান অয়েল ও অলিভ অয়েলের গুণাগুণ যেমন নির্দ্বিধায় বলা যায়, নারকেল তেলের ক্ষেত্রে অতটা নিশ্চিত হওয়া যায় না। এই তেলে প্রচুর স্যাচুরেটেড ফ্যাট রয়েছে। নতুন গবেষণা বলছে, স্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরের পক্ষে ভাল। এটি খারাপ কোলেস্টেরল আর ট্রাইগ্লিসারাইডকে কমিয়ে এইচডিএল বা ভাল কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে। সে দিক থেকে দেখলে নারকেল তেলের রান্না খেলে শরীরের উপকারই হয়।

ভালমন্দ মিশিয়ে

তবে, নারকেলের সমস্ত কিছুই যে খুব ভাল, তা নয়। আর পাঁচটা খাদ্যের মতোই নারকেলও দোষে-গুণে ভরা। যেমন, কেউ যদি ওজন কমানোর চেষ্টা করেন, তা হলে তার নারকেল বা নারকেলের তৈরি খাবার এড়িয়ে চলাই ভাল। কারণ, নারকেলে ফ্যাটের পরিমাণ যথেষ্ট বেশি। তাই বেশি খেলে ওজন বাড়বেই।

অন্য দিকে চুলের স্বাস্থ্যের জন্যও কিন্তু নারকেল খুব উপকারী। চুল মসৃণ, উজ্জ্বল ও মজবুত করতেও নারকেল তেলের জুড়ি নেই। তবুও নারকেল তেল বা নারকেল খাবারে রাখবেন কি না, সে বিষয়ে নিজের স্বাস্থ্য অনুযায়ী ডায়াটিশিয়ানের পরামর্শ নিয়ে নিন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত