ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২০, ২৫ আষাঢ় ১৪২৭ আপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২১ জুন ২০২০, ২০:২৩

প্রিন্ট

হাসপাতালে ঘুরে ঘুরে বেদনার মৃত্যু

হাসপাতালে ঘুরে ঘুরে বেদনার মৃত্যু
মালেকা আক্তার চৌধুরী

বিষয় বিন্যস্তকরণে এলোমেলো ভাবনার ছড়াছড়ি, কোনটা লিখি আর কোনটা ছাড়ি। এর মাঝে কোভিডকে উৎরাতে পারছি না কোনোভাবেই। একদিকে মৃত্যুর কালো সমুদ‌্রে করোনার বিভীষিকাময় ভয়াবহতা অন্যদিকে করোনা বাণিজ্যে খন্ডিত চিকিৎসা সেবার নিত্যদিনকার চালচিত্রে ছিন্নভিন্ন পত্রিকার পাতা।

সরকারি নানামুখী উদ্যোগ, কঠোর নির্দেশনা সত্ত্বেও থামছে না করোনাকালের জীবন জটিলতা। হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরে ঘুরে রোগীদের বেদনাদায়ক মৃত্যু, স্বজনদের অসহায়ত্ব, স্বাভাবিক চিকিৎসা ব্যাহত, অক্সিজেন বাণিজ্য, চারদিকে অনিয়ম- অসঙ্গতির এক ভয়ানক পরিস্থিতি মানব অস্তিত্বকে বড়ো বিপন্ন করে তুলেছে।

মুমূর্ষু রোগী ভেন্টিলেটর, আইসিইউ দূরে থাক পাচ্ছেন না অক্সিজেন সুবিধা। অপ‌্রতুল অক্সিজেন ব্যবস্থায় চলছে কৃত্রিম সংকটও। সাধারণ মানুষ না জেনে বুঝেই নিজের এবং পরিবারের সুরক্ষার জন্য যত্রতত্র অক্সিজেন সিলিন্ডার তিনগুণ চড়ামূল্যে নিজের সংগ‌্রহে রাখছেন অথচ প‌্রশিক্ষিত ডাক্তার - স্বাস্থ্যসেবাকর্মী ব্যতিরেকে ওই সিলিন্ডারের ব্যবহার ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

তবুও মানুষ নিশ্চিতির প‌্রশ্নে থেমে নেই; সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা মানুষকে জিম্মি করে, করোনাকে পুঁজি করে দেদারসে মুনাফা লুটছেন। খবরে প‌্রকাশ, হাসপাতালগুলিতে অক্সিজেনের একটি বোতল রোগীর স্বজনেরা মহামূল্যবানজ্ঞানে আঁকড়ে ধরে থাকেন যাতে করে অন্য কেউ সেটি না নিয়ে যেতে পারে। নিজ দেশের ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নিত্য নতুন চ্যালেঞ্জ।

চলছে করোনা টেস্টের নামে করোনা সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য। মহামারীতে সেবার নামে চলছে বাণিজ্য। মানুষ মানবিকতাবর্জিত অমানুষে পরিণত হয়েছে। মৃত্যুকে মূলধন করে রোগীদের অসহায় মুহূর্তের সুযোগে পদে পদে হাতিয়ে নিচ্ছে অর্থ কড়ি। সামর্থ্য আছে বা নেই সেটি যেমন বিষয় না তেমনি রোগীর স্বজনেরাও ধার কর্জের টাকা বিনা বাক্যব্যয়ে দিয়ে চলেছেন তবুও প‌্রিয় মুখ, প‌্রিয় স্বজন বেঁচে থাকুক অনন্ত পৃথিবীর আলো বাতাস গ‌্রহণ করে আপনজনদের বুকজুড়ে সেই প‌্রত্যাশা নিয়ে।

করোনা টেস্টের লাইন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয় কিন্ত ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকেও প‌্রকৃত রোগীরা লাইনে ঢুকতে পারেন না। সময়ের সাথে, কোভিডের সাথে পাল্লা দিয়ে তৈরি হয়েছে হাসপাতাল এলাকাকেন্দ‌্রিক সিন্ডিকেট ; কলাওয়ালা, ডাবওয়ালা, চা বিক্রেতা, বাদাম বিক্রেতা সকলে মিলে ভোর রাত থেকে নিজেরা থেকে অথবা ক্ষেত্রবিশেষে ইট পাটকেল দিয়ে লাইনের জায়গা জবর দখল করে রেখেছে।

সেই লাইন চড়াদামে বিক্রি হয় কোভিড টেস্ট করতে আসা অসহায় কাতর রোগীদের কাছে। কোনোরকম রিসিট ছাড়াই রোগীদের কাছ থেকে টেস্টের নামে যেমন টাকা নেয়া হচ্ছে তেমনি ফল পেতেও গুনতে হচ্ছে টাকা । সারাবংলার- একটি রিপোর্টেও বিস্তর অনিয়মের প‌্রমাণসহ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

তাছাড়াও কোভিড টেস্টের নামে সারাদেশে যা হচ্ছে সেটি ইতিমধ্যেই মিডিয়ার কল্যাণে সকলেই অবগত আছেন। সরকারি হাসপাতালগুলোতে ফ্রি টেস্টের নির্দেশনা থাকলেও দালালচক্রের সক্রিয়তায় সুবিধা করতে পারছেন না সাধারণ রোগীরা।

করোনা মানে না ধনী- নির্ধন, উচ্চবিত্ত - মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত ... সীমান্তরেখা অথবা নো মেনসল্যান্ড। সব শ‌্রেণি-পেশার মানুষই সমানভাবে আতঙ্কিত , উৎকন্ঠিত-দিশেহারা। উপসর্গ যার রয়েছে তিনি যেমন শঙ্কিত উপসর্গবিহীনরাও সমান শঙ্কিত। এ যেনো মৃত্যুর মিছিলে এক অনাকাঙ্ক্ষিত প‌্রতিযোগিতা। বেসরকারী হাসপালগুলোতে ফল পেতে বিড়ম্বনা না থাকলেও থাকছে চড়া ফি- র বাধ্যবাধকতা। কোভিড- ১৯ টেস্টের ঝামেলা এড়াতে টেস্টে অনীহা বেড়েছে উপসর্গ রয়েছে তাদের মাঝে যেমন, তেমনি স্বল্প উপসর্গধারীদের মাঝেও।

কেননা, মধ্যরাত থেকে লাইন ধরে শুয়ে থেকেও কাঙিক্ষত সেবা না পেয়ে রোগীরা অদৃষ্টের ওপরই সব ছেড়ে দিয়েছেন। কেউ কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে করে ক্ষুধা-পিপাসা-অসুস্থাতায় কাতর হয়ে এখানে সেখানে গা এলিয়ে দিচ্ছেন।

বিড়ম্বনা বাড়ছে রোগীর সাথে হেলপার হয়ে আসা স্বজনদেরও। একদিকে করোনা আতঙ্ক অন্যদিকে অনাহারে-অর্ধাহারে থেকে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন সুস্থ স্বজনেরা। লাইনে মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব।

একদিকে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা অন্যদিকে করোনা টেস্ট রিপোর্টের দীর্ঘসূত্রিতা সামাজিক সংক্রমণ যেমন তরান্বিত করছে তেমনি প‌্রতিটি হাসপাতাল এলাকা হয়ে উঠছে করোনার হটস্পট।

স্বজন-প‌্রিয়জনদের মমতায় অনেকেই সাদরে গ‌্রহণ করে চলেছেন এমন নিশ্চিত স্বাস্থ্যঝুঁকি। সমানতালে বিক্রি হচ্ছে করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেটও। বিদেশ গমনেচ্ছু নাগরিকরা এসব ভূয়া সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন পর্যায়ে ধরা পড়ে দেশের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে প‌্রশ্নবিদ্ধ করছেন।

মৃত্যু উপত্যকায় দাঁড়িয়ে পৃথিবীতে এখনও বেঁচে যাওয়া মানুষগুলো জীবন নাটকের শেষ দৃশ্যের জন্য আতঙ্কগ‌্রস্থ হয়ে উর্ধ্বশ্বাসে অপেক্ষমান। বড়ো নির্মমভাবে প‌্রতিদিন-প‌্রতিনিয়ত হারিয়ে চলেছি কতো শত আপনজন-পরিজন, দেশ বরেণ্য রাজনীতিক, চিকিৎসক, গণমাধ্যমকর্মী, প‌্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ, বিজিবি, ব্যাংকারসহ প‌্রতিটি সেক্টরের পেশাজীবীদেরকে।

বড়ো নির্মমভাবে হারাতে হলো বর্ষীয়ান রাজনীতিক, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী সিরাজগঞ্জের কৃতি সন্তান জনাব মোহাম্মদ নাসিমকে। একই পথ অনুসরণ করলেন আরেক সহযোদ্ধা আওয়ামী পরিবারের বিশ্বস্ত বর্ষীয়ান নেতা চলমান সংসদের সম্মানিত ধর্ম প‌্রতিমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ। সিলেটের গণমানুষের নেতা, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানও সকলকে কাঁদিয়ে করোনার করাল থাবায় জীবনের কাছে অবশেষে হেরে গেলেন।

থেমে নেই সম্মুখযোদ্ধাদের অসহায় প‌্রাণহানি। অস্থির পৃথিবী মৃ্ত্যুভারে ভারাক্রান্ত তবুও এরই মাঝে চলছে সামাজিক সহিংসতা। বড়ো দুঃখজনকভাবে আমাদের দেখতে হলো খুলনার চিকিৎসক ডা. মো: রাকিব খানের বিক্ষুব্ধ রোগীর স্বজন কর্তৃক প‌্রহৃত হয়ে মৃত্যুবরণ করার দৃশ্যটি।

ঘটনাটিতে আহত চিকিৎসক সম্প‌্রদায় ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটামে কর্তব্য- কর্মে ফিরেছেন। দেশের এহেন নাজুক এবং মহামারী কবলিত বিশ্বে চিকিৎসকদের এমন মানবিক সিদ্ধান্তগ‌্রহণ নিঃসন্দেহে প‌্রশংসনীয় একটি বিষয় হলেও অন্যপক্ষের অসহিষ্ণুতার ঘটনাটাও বড়ো মর্মপীড়ার কারণ।

এ প‌্রসঙ্গে বিশিষ্ট ‘মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ মুহিত কামাল গণমাধ্যমকে বলেন, এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসক এবং উৎকন্ঠিত রোগী উভয়কেই উভয়ের সমস্যা বুঝিয়ে দিয়ে সহিষ্ণুতার সাথে পদক্ষেপ গ‌্রহণ করতে হয়।’

একই দিনে (১৭.০৬.২০২০)করোনা পজিটিভ হয়ে তিনজন চিকিৎসকের মৃত্যুকে কেন্দ‌্র করে আবারও বিষাদের চাদরে আবৃত হলো গোটা দেশ। উক্ত তিনজন কোভিড যোদ্ধা হলেন, ডা. মো: আশরাফুজ্জামান (ঢাকা ), ডা. শাহ আব্দুল আহাদ ( দিনাজপুর ), ডা. নুরুল হক ( চট্টগ‌্রাম )।

অ্যাপোলো হাসপাতালে করোনা পজিটিভ হয়ে ভর্তি আছেন সাবেক তিতুমীরিয়ান এবং বর্তমান সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী জনাব টিপু মুনশি। আমরা সকলের সুস্হতা কামনা করছি। শারিরীক অবস্থার উন্নতি হয়েছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ‌্রের প‌্রতিষ্ঠাতা বর্ষীয়ান চিকিৎসক ও রাজনীতিক ডা. জাফরুল্লাহ।

চীনের উহান নগরীতে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছিলো ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ; ০৮ মার্চ ২০২০ বংলাদেশে প‌্রথম শনাক্ত রোগীর সন্ধান মেলে। করোনার ভয়াবহতা বিবেচনায় শুরু হয় দীর্ঘ লকডাউন, ধাপে ধাপে বাড়ানো সাধারণ ছুটি শেষে বৃহত্তর স্বার্থে পুনরায় জীবন-জীবিকা চলমান রেখে অর্থনীতির চাকাকে সচল করে জনগণের জীবনমানের তাগিদে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা দেশে বিদেশে বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে লকডাউন তুলেও নিয়েছিলেন সীমিত পরিসরে। কিন্ত বিস্ময়করভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে, এই চলমান সীমিত লকডাউনের সময়গুলোতে কোভিড- ১৯ দৈনিক শনাক্ত ও মৃত্যুতে বৈশ্বিক দেশগুলোর মধ্যে বাংলদেশ ওপরের কাতারে চলে আসে।

ফলশ্রুতিতে, পাড়া মহল্লা, ওয়ার্ড-এলাকাভিত্তিক জোনিং কার্যক্রম শুরু হয়ে এখনও সেটি চলমান রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় লাল, সবুজ ও হলুদ এই তিন অঞ্চলে ভাগ করে চলবে জোনিং লকডাউন কার্যক্রম। ইতিমধ্যে সরকার রেড জোনে ১৬ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে।

সংক্রমণের উর্ধ্বগতিতে জনমনে শঙ্কা বিরাজ করছে; লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত এবং মৃত্যুহার। স্বাস্হ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে প‌্রকাশ বাংলাদেশ কোভিড আক্রান্তের তালিকায় কানাডাকে পেছনে ফেলে বিশ্বে ১৭ নম্বর অবস্হানে পৌঁছেছে। গত ১৬ দিনে (জুন , ২০২০) ৫০ হাজারের বেশি শনাক্ত এবং গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ২৩. ৫৬ (১৯ জুন )। ১০ জুন| ২০ থেকে- ১৯ জুন| ২০ পর্যন্ত ৪৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় নতুন মৃত্যু ৪৫, মোট মৃত্যু ১৩৮৮; মোট আক্রান্ত ১০৫৫৩৫ (১৯ জুন , ২০২০)। সারাদেশে প‌্রতিদিন গড়ে আক্রান্ত হচ্ছে প‌্রায় চার সহস‌্রাধিক মানুষ।

এমতাবস্থায় প‌্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণকে আস্হা ও বিশ্বাসে অবিচল থাকার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ কোনোকিছুর কাছেই হার মানবে না এমন প‌্রত্যয়দীপ্ত আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আন্দোলনে-সংগ‌্রামে, সাহসে-সহিষ্ণুতায় সারাজীবন এগিয়ে চলা এই মানুষটিকেই বাংলাদেশ ভরসা করে।

যুগে যুগে কালে কালে অনাকাঙ্ক্ষিত এসব মৃত্যু-মহামারী পৃথিবীতে এসেছে , যার সাক্ষ্য বহন করে ইতিহাস-ঐতিহ্য, বিভিন্ন চিত্রশিল্প, দেশে- বিদেশে বিভিন্ন ম্যুরাল-ভাস্কর্যে প‌্রতিফলিত প‌্রতিলিপি। সময়ের নিরিখে কোন কোন মহামারী দীর্ঘায়িতও হয়েছে।

জানা যায়, এক সময়কার কনস্টান্টিনোপল বর্তমানে তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুল খ্যাত দেশটিতে ইঁদুরবাহিত প্লেগ প‌্রায় ৫০ বছর টিকে ছিলো। এই মহামারীতে আড়াই কোটি মতান্তরে প‌্রায় ১০ কোটি মানুষের মৃত্যু ঘটেছিলো।

অবশ্য এর যৌক্তিক কারণও রয়েছে, তখনকার সময়ে বিজ্ঞান আজকের পর্যায়ে ছিলো না; তদুপরি সমসাময়িক যুগ বিজ্ঞান প‌্রযুক্তির ক্ষেত্রে সর্বাধিক আশীর্বাদ পুষ্ট হয়েও গবেষণা সক্ষমতার অপ‌্রতুলতার কারণে বিশ্ব আজ মৃত্যুর মিছিলে সয়লাব। বিশ্বনেতাদের উদাসীনতাই এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের জন্য দায়ী।

তবুও সুড়ঙ্গের শেষ মাথায় আলো দেখতে পাচ্ছেন আশাবাদীরা। দেশে দেশে ভ্যাকসিন আবিষ্কারে গবেষণা কর্ম দ‌্রুতই এগিয়েছে বলে জানাচ্ছেন দ্য সায়েন্টিষ্ট, সিএনএনসহ বিভিন্ন বিজ্ঞান বিষয়ক জার্নাল। যদিও ভ্যাকসিন আবিষ্কারে কয়েক ধাপ পরীক্ষা চালাতে হয় যা যথেষ্ট সময় সাপেক্ষ।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালের নেতৃত্বাধীন ভ্যাকসিন এবং চীনের আবিষ্কৃত ভ্যাকসিনটির গবেষণা এগিয়ে রয়েছে বলে তারা দাবি করছেন। অচিরেই হয়তো বিশ্বকে চমকে দেবেন যে কেউ, সাড়া জাগবে প‌্রাণে প‌্রাণে। শুরু হবে ভ্যাকসিন প‌্রাপ্তির লড়াই অথবা উৎসব। সে পর্যন্ত নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিজেদেরকেই সচেতন থাকতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব অ্যালার্জি এন্ড ইনফেকশাস ডিজিসেস বা সিডিসির পরিচালক অ্যান্থনি ফাউসি সম্প‌্রতি দ্য টেলিগ্রাফকে বলেছেন, ‘এ মহামারী শেষ হবে যতো ভয়ানকই হোক না কেনো, এটা শেষ হবে। একটি বৈশ্বিক সম্প‌্রদায় হিসেবে আমরা সবাই একত্র এবং আমি সুড়ঙ্গের শেষ মাথায় আলোর নিশানা দেখতে পাচ্ছি। (নিউইয়র্ক পোস্ট , বণিক বার্তা, ১৬জুন ২০)।’

বিশ্বজুড়ে বিদ্যমান এ মহামারীতে বিশ্বের প‌্রতিটি দেশই নিজের শক্তির ওপর, জনতার শক্তির সর্বময় সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে অদৃশ্য অণুজীবের সাথে লড়াইটা প‌্রাণপণ চালিয়ে যাচ্ছে; আমাদের প‌্রিয় বাংলাদেশ কেনো পারবে না? সরকারের চলমান কঠোর সদিচ্ছাপ‌্রসূত কার্যক্রমের সাথে স্বাস্থ্যবিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মপরিকল্পনার একটি সুশৃঙ্খল সমন্বয় সাধনই পারে জনবহুল বাংলাদেশের কোভিড, নন কোভিডসহ সব ধরণের চিকিৎসাসেবায় অনিয়ম-অসঙ্গতি-অব্যবস্হাপনা দূর করে ভঙ্গুর-বিষাদগ‌্রস্ত-বিপন্ন মানুষের মনে সাহস আর স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে। প‌্রয়োজনে আইনগত প‌্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ‌্রহণ করে সর্বক্ষেত্রে চলমান অচলাবস্থার অবসান ঘটানো জরুরী।

‘তীরে এসে তরি যেন না ডোবে’ শিরোনামে বিশিষ্ট কলামিস্ট - সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরীর লেখার দু’ লাইন তুলে ধরছি ...’ শেখ হাসিনার এতো চেষ্টা এবং তার সরকারের এতো তৎপরতা সত্বেও তীরে এসে তরি যেন না ডোবে। অর্থাৎ ভাইরাসের দৌরাত্ম্যে সারাদেশ যেন বিপর্যস্ত না হয় । শেখ হাসিনার কাছে আমার প‌্রার্থনা, আমার অনুরোধ--- হাসিনা আরো কঠোর হোন, আরো সতর্ক হোন।’ (২০ মে , কালের কন্ঠ)।

পরিশেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সেই কথাটির উদ্ধৃতি করেই আজকের লেখাটির ইতি টানতে চাই ... ‘প‌্রতিটা মানুষের জীবনই মূল্যবান’।

লেখক: অধ্যাপক দর্শন বিভাগ ও শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক, সরকারি তিতুমীর কলেজ​।

প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। এই লেখার জন্য বাংলাদেশ জার্নাল কোনো দায় নেবে না

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত
best