ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬ আপডেট : ১১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ৩০ জুন ২০১৯, ১৪:৪৫

প্রিন্ট

শুনতে কি পান?

শুনতে কি পান?
ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী সজীব

শতবর্ষ ছুঁই ছুঁই প্রাণের প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দিবস আগামীকাল। চিরচেনা ক্যাম্পাস শত রঙে রেঙেছে। উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে সর্বত্র। আমাদেরও এ রঙে রাঙার কথা ছিল। কথা ছিল আনন্দে ভেসে বেড়ানোর। অনেক স্বপ্ন নিয়ে পা রেখেছিলাম এ প্রাঙ্গণে। জীবনের সোনালী সময়টুকু কাটিয়েছি এ প্রতিষ্ঠানের অলি-গলিতে। শতবর্ষী এ প্রতিষ্ঠান ঋণী করেছে আমাদের। এ ঋণ শোধ করার নয়। একাডেমিক, প্রাতিষ্ঠানিক, পরিবেশগত এবং রাজনৈতিকভাবে এর বুকে ভর করেই আমাদের পথচলা। মধুর ক্যান্টিন, টিএসসি, রাজু ভাস্কর্য, অপরাজেয় বাংলার ধূলিকণা তার নীরব স্বাক্ষি। এখানকার বাতাসে মিশে আছে জয় বাংলা স্লোগানে নির্গত নিঃশ্বাস।

যখন আমি এ লেখাটা লিখছি তখন আমার থাকার কথা হলের চৌকি, পড়ার টেবিল নতুবা বাসার তুলতুলে নরম বিছানায়। সময়ের নিষ্ঠুরতায় খোলা আকাশের নিচে পিচঢালা রাজপথে বসে জীবনের গল্প লিখছি। যে গল্পের অন্যান্য চরিত্র হয়ে আমারই পাশে আরো ৩০ তরুণ প্রাণ অধিকার আদায়ে তপ্ত রাজপথকে বেছে নিয়েছে বিছানা হিসেবে।

এ মানুষগুলোর প্রত্যেকেরই একটা গল্প আছে।

দূর্ভাগ্য, স্বপ্নের রঙে রঙ্গিন হওয়ার কথা থাকলেও গল্পগুলো আজ বেদনায় নীল। এ বেদনা কোন প্রতিপক্ষ হতে প্রাপ্ত নয়। একই পরিবার ভেবে যে সংগঠনের জন্য রাজপথে ঘাম ঝরিয়েছি, মুহুর্মুহু করতালি আর স্লোগানে গলা ফাটিয়েছি দিনের পর দিন, কাঁধে কাঁধ রেখে প্রগতিশীলতার কেতন উড়িয়েছে দৃঢ় পায়ে দীপ্ত শপথে সে সংগঠনের দায়িত্বে থাকা অভিভাবকগণ হতে প্রাপ্ত উপহার।

আচ্ছা, আমরা তো ভীনগ্রহী কোন প্রাণী নই। আপনাদের সাথেই মেতেছিলাম বাঙালিত্বের উৎসবে। আমাদের মনেও খেলা করেছিল ছোট ছোট স্বপ্নরা। হতে চেয়েছিলাম প্রেম, গান, জারুল গাছের ফুল। হতে দিলেন কই? ছুঁড়ে ফেলে দিলেন রাস্তায়।

আপনারা না অভিভাবক!!!

আমাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরে আপনারা ঠিকই মা-বাবার পা ছুঁয়ে সালাম করলেন। বোনের হাতে গুঁজে দিলেন ভালবাসার ঈদ উপহার। মায়ের হাতে মিষ্টিমুখ করে দিব্যি আনন্দে কাটালেন ঈদ সেশন। একটিবারের জন্যও ভাবেননি আমাদের কথা। প্রয়োজন মনে করেননি সংকট সমাধানের।

অথচ আমাদেরও পরিবার আছে। আছে বাবা-মা, ভাই-বোন। শব-ই-কদর পেরিয়ে যখন ঈদের বারতা দরজায় কড়া নাড়ে তখন আমাদের মায়েরাও গাঁয়ের মেঠো পথ ধরে তাকিয়ে ছিল সন্তানের বাড়ি ফেরার পদধ্বনি শুনবে বলে। আমাদের বাবারা ঠিকই ইস্ত্রি করা পাঞ্জাবিটার সাথে এক জোড়া টুপি আর সুগন্ধি নিশ্চয়ই যত্নে তুলে রেখেছিল ছেলেকে নিয়ে একত্রে ঈদগাহে যাবে বলে। প্রতীক্ষার অভিমানি চোখে বোনগুলো নিশ্চয় মেহেদীর রঙে হাতদুটো সাজিয়েছিল ‌‘ভাইয়া ১০০ টাকা দে’ আহ্লাদী কন্ঠে বলবে বলে।

জানি, কিছুই অনুভূত হয়নি আপনাদের। তবে দু’জন মানুষের হয়েছে। যারা মানবিক, নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে আমাদের খোঁজ নিয়েছেন। পাশে ছিলেন ঈদের মত বিশেষ দিনে। বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপনের পূর্বমূহুর্তে সে দু’জন মহান শিক্ষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান স্যার এবং ঢাবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান, অমর একুশে হলের মাননীয় প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম স্যারের প্রতি আবারো ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘তোমরা প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করিও, ছাত্রলীগকে ভেঙে ফেলে দিও না, সকলকে আমার সালাম দিও, ঐতিহ্যবাহী এই ছাত্র প্রতিষ্ঠান আমি গড়েছিলাম কয়েকজন নিঃস্বার্থ ছাত্রকর্মী নিয়ে, প্রত্যেকটি আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে এই প্রতিষ্ঠান....... এই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গোলমাল হলে আমার বুকে খুব আঘাত লাগে’।

জাতির পিতার এ আহবান শুনতে কি পান?

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে যে ছেলেগুলো মাসব্যাপী প্রখর রোদ, ঝড়, বৃষ্টি উপেক্ষা করে নিজেদের সঁপে দিয়েছে তাদের চাপা কান্না শুনতে কি পান?

অনাহারে, অনশনে অনিশ্চিত পথের যাত্রী জয় বাংলার কর্মীদের বোবা আর্তনাদ শুনতে কি পান?

প্রশ্ন রইলো.......!

ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী সজীব, সাবেক পরিবেশ বিষয়ক উপ-সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত