ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ৯ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ১৮:২৭

প্রিন্ট

বাবরি মসজিদ রায়: মোদীর হিন্দু মৌলবাদের প্রতিফলন

বাবরি মসজিদ রায়: মোদীর হিন্দু মৌলবাদের প্রতিফলন
পলিয়ার ওয়াহিদ

আজ (শনিবার) বাবরি মসজিদ মামলার চূড়ান্ত রায়ে অযোধ্যার বিতর্কিত ওই ভূমিতে একটি মন্দির নির্মাণের নির্দেশনা দিয়েছেন ভারতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। নির্দেশনা অনুযায়ী, বিতর্কিত স্থানটি সরকারি ট্রাস্টকে দেওয়া হবে। বাবরি মসজিদের ওই ২ দশমিক ৭৭ একর জমি পাবে হিন্দুরা। আগামী তিন মাসের মধ্যে একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করবে সরকার। পরে সেখানে মন্দির প্রাঙ্গণ নির্মাণ করবে তারা। পরিবর্তে অযোধ্যার অন্য স্থান থেকে মসজিদ নির্মাণের জন্য ৫ একর জমি দেওয়া হবে মুসলমানদের।

জানিয়ে রাখতে চাই, অযোধ্যায় মোগল আমলে তৈরি বাবরি মসজিদটি ভেঙে ফেলার পর ভারতে মুসলিমবিরোধী দাঙ্গায় কমবেশি দুই হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়। মসজিদটির জমির মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সেটি গুঁড়িয়ে দেয় কট্টরপন্থী হিন্দুরা। তাদের দাবি, বাবরি মসজিদের জায়গাতেই ভগবান রামের জন্ম হয়েছিল। রামমন্দির ভেঙে সেখানে মসজিদ তৈরি করা হয়েছিল। তবে এই দাবিকে অসত্য বলে মুসলিমরা বলছেন, মন্দির ভেঙে মসজিদ তৈরির কোনও প্রমাণ নেই। তাদের দাবি, ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে বলপূর্বক ঐতিহাসিক মসজিদটি ভেঙে দেয় উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। তাই সেখানে মসজিদটি পুনঃস্থাপনই যৌক্তিক। পরে বিষয়টি আদালতে গড়ায়। ওই সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন নরশিমা রাও।

দীর্ঘ সাতাশ বছর ধরে এই বিষয়টি নিয়ে ভারতের বিভিন্ন সরকার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে রায় দিতে যেকোনোভাবে হোক ততটা সাহসীকতার প্রমাণ দিতে পারিনি যতটা পারলেন কট্টরপন্থি হিন্দু মৌলবাদী মোদি সরকার। এখানে অবশ্য ভোটের রাজনীতিও বড় একটা ফক্টর ছিল বলে বুদ্ধিজীবীদের মত।

ইতোমধ্যে এই রায় নিয়ে বিভিন্নমহলে পক্ষে বিপক্ষে সমালোচনা শুরু হয়েছে। ভারতের বর্তমান ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক টুইট বার্তায় লিখেছেন, সুপ্রিম কোর্ট অযোধ্যা নিয়ে রায় ঘোষণা করেছে। এই রায়কে কারও জয় বা কারও পরাজয় হিসাবে দেখা উচিত নয়। ‘রামভক্তি হোক বা রহিমভক্ত’ এই সময় আমাদের সকলের ভারত ভক্তির চেতনাকে শক্তিশালী করা উচিত। দেশবাসীর কাছে শান্তি, সম্প্রীতি ও ঐক্য বজায় রাখার জন্য আবেদন করছি।

এদিকে শীর্ষ আদালতের রায়ের পর প্রতিক্রিয়া দিয়েছিল কংগ্রেস। সাংবাদিক বৈঠক করে রায়কে স্বাগত জানান দলের মুখপাত্র রণদীপ সিং সূরজেওয়ালা। ‌রাহুল গাঁন্ধী তার টুইট বার্তায় লিখেছেন, সুপ্রিম কোর্ট অযোধ্যা ইস্যুতে রায় ঘোষণা করেছে। আদালতের এই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে আমাদের সকলকে পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। এই সময় আমাদের সকল ভারতীয়দের কাছে ভ্রাতৃত্ব, বিশ্বাস এবং ভালবাসার সময়।

ভোটের রাজনীতি ও ক্ষমতার পালাবদলে তারা সবাই তাল গাছটি আমার এরকমটাই বলছে পছন্দ করেছেন।

অযোধ্যা জমি বিতর্কের মধ্যস্থতাকারী হিসাবে নিযুক্ত হয়েছিলেন শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর। সুপ্রিম কোর্টের এই রায় নিয়ে এ দিন রবিশঙ্কর বলেন, এটা একটি ঐতিহাসিক রায়, আমি রায়কে স্বাগত জানাই। এই মামলা অনেক দীর্ঘ সময় ধরে চলছিল এবং শেষ পর্যন্ত এটার পরিসমাপ্তি ঘটল। সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখা উচিত।

ধর্মীয় নেতারাও তাদের ধর্মে ত্যাগের যে মহান বাণী প্রচার করেন এ ক্ষেত্রে তা দিতে তারা ব্যর্থ হয়েছেন বলেও অভিমত জানিয়েছেন অনেকে।

এদিকে অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন ও লোকসভার এমপি আসাদুদ্দিন ওয়াইসি বাবরি মসজিদ মামলার রায়ের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, মুসলমানদের দানের পাঁচ একর জমির প্রয়োজন নেই। তিনি এই রায়ে সন্তুষ্ট নন। সুপ্রিম কোর্ট সর্বোচ্চ কিন্তু একেবারে অব্যর্থ না। সংবিধানের প্রতি আমাদের আস্থা রয়েছে। আমরা নিজেদের অধিকারের জন্য লড়াই করছি। আমাদের পাঁচ একর দানের জমি প্রয়োজন নাই। পাঁচ একর জমির প্রস্তাব আমাদের প্রত্যাখ্যান করা উচিত। আমাদের পৃষ্ঠপোষকতা করতে যাবেন না।

সর্বশেষ রায়ে এটা প্রমাণিত সত্য যে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নিয়েও সবোর্চ্চ রায়েও হিন্দু মৌলবাদীর কর্তৃত্ব ভারতজুড়ে এখনো বলবৎ।

লেখক: কবি ও সংবাদকর্মী

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত