ঢাকা, শনিবার, ০৬ মার্চ ২০২১, ২১ ফাল্গুন ১৪২৭ আপডেট : ৯ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২১, ১৪:৫১

প্রিন্ট

ধনী হবার আশায় ভারতীয় সন্ত্রাসী পরিচয়ে চাঁদা দাবি

ধনী হবার আশায় ভারতীয় সন্ত্রাসী পরিচয়ে চাঁদা দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারতের মাফিয়া ডন খ্যাত দাউদ ইব্রাহীমের সহযোগী পরিচয়ে রাজধানী গুলশানের এক ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগ। তবে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় ওই তরুণের নাম ও ছবি প্রকাশ করেনি ডিবি পুলিশ।

ডিবি পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার কিশোর ভারতীয় সিরিয়াল বিশেষ করে ক্রাইম পেট্রোলের মতো হিন্দি সিরিয়াল দেখে ভারতীয় শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোটা শাকিলের পরিচয়ে ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি করে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জে। গ্রেপ্তার কিশোর ওই ব্যবসায়ীর বাড়ির কেয়ারটেকারের ছেলে

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার।

তিনি বলেন, গুলশান গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম বিশেষ অভিযান চালিয়ে ভারতীয় সন্ত্রাসী পরিচয়ে গাড়িতে নকল বোমা রেখে চাঁদা দাবির অভিযাগে বুধবার ওই তরুণকে মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং থানা এলাকা হতে গ্রেপ্তার করে। এসময় তার কাছ থেকে চাঁদা দাবির ঘটনায় ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

হাফিজ আক্তার বলেন, গত ১১ জানুয়ারি রাত ৪টার দিকে ভারতীয় কুখ্যাত সন্ত্রাসীর পরিচয়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ঢাকার গুলশানস্থ ঢালী সুপার স্টোরের মালিক ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিনের কাছে পরিবারের সবাইকে হত্যার হুমকি দিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। দাবিকৃত চাঁদার টাকা না দিলে বোমা মেরে তার পরিবারের সদস্যদের উড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়। পরদিন ১২ জানুয়ারি বিকেলে ওই ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর প্রাইভেটকারটি পার্কিং করা অবস্থায় চালক গাড়ির নিচে বোমা সদৃশ বস্তু দেখতে পান। বিষয়টি বাড্ডা থানা পুলিশ সিটিটিসির বোম ডিসপোজাল টিমকে জানায়। পরে বোম ডিসপোজাল ইউনিট ওই বস্তুটি অপসারণ করে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, ওই বস্তুটি একটি অকার্যকর বোমা ছিল। ওই ব্যবসায়ীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাড্ডা থানায় একটি মামলা হয়। ওই ঘটনাটির তদন্ত ও রহস্য উদঘাটনে তৎপর হয় ডিবি টিম। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ শেষে ঘটনার মূলহোতাকে শনাক্তের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

হাফিজ আক্তার বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার তরুণ পুলিশকে জানিয়েছে, সে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর গ্রামের বাড়ির কেয়ারটেকারের ছেলে। সে এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর একটি কাপড়ের দোকানে ৪ হাজার টাকা বেতনে সেলসম্যানের কাজ নেয়। কিন্তু বেতন অল্প হওয়ায় দ্রুত ধনী হবার আশায় সেখান থেকে পালিয়ে আসে।

মহানগর গোয়েন্দা প্রধান বলেন, ধনী হওয়ার জন্য পূর্ব পরিচিত ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিনের পরিবারকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে চাঁদা আদায়ের পরিকল্পনা করে ২ মাস আগ থেকে। এজন্য সে হিন্দি সিনেমা, সিরিয়াল, ইউটিউব দেখে নকল বোমা বানানো ও সন্ত্রাসী পরিচয়ে হুমকি ধমকি দেয়ার কৌশল রপ্ত করে। হিন্দি সিনেমা দেখার কারণে সে হিন্দি ভাষায় কথা বলার দক্ষতা অর্জন করে।

ওই তরুণ লাল স্কচটেপ, পাইপ, ইলেকট্রিক তার, পেন্সিল ব্যাটারি ও আনুসঙ্গিক উপকরণ দিয়ে বোমা সদৃশ বস্তুটি বানিয়ে রাখে। ব্যবসায়ী তার প্রাইভেটকার নিয়ে ঢাকা থেকে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে এক আত্মীয়ের জানাজায় যোগ দিতে যান। সেই সুযোগে গ্রেপ্তার ওই তরুণ প্রাইভেটকারের নিচে বোমা সদৃশ বস্তুটি টেপ মেরে আটকে দেয়।

বিত্তবানদের উদ্দেশ্যে হাফিজ আক্তার বলেন, শীর্ষ সন্ত্রাসী পরিচয়ে বা কোনো চাঁদাবাজ হুমকি দিলে বা চাঁদা চাইলে নিকটস্থ থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশকে জানান, আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।

বাংলাদেশ জার্নাল/এফজেড/কেআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত