ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ আপডেট : ১২ মিনিট আগে

‘আমি সব সময় ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করি’

  পলিয়ার ওয়াহিদ

প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০২১, ২২:৫৭

‘আমি সব সময় ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করি’
পলিয়ার ওয়াহিদ

পঞ্চম ধাপের ইউপি নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী আনিছুর রহমান। তিনি যশোরের কেশবপুর উপজেলায় ১নং ত্রিমোহিনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। এবারও পদপ্রার্থী হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত করছেন। বর্তমান দেশের রাজনীতি, নির্বাচন ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজের চিন্তা-ভাবনার কথা জানালেন তরুণ এই রাজনীতিবিদ। জনপ্রিয় অনলাইন পত্রিকা বাংলাদেশ জার্নাল-এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় রাজনীতি ছাড়াও উঠে এসেছে দেশের নানান বিষয়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন পলিয়ার ওয়াহিদ।

বাংলাদেশ জার্নাল: গতবারও আপনি চেয়ারম্যান ছিলেন। আবার কেন চেয়ারম্যান হতে চান? ইউনিয়ন পরিষদ ঘিরে আপনার লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

আনিছুর রহমান: আমার ৫ বছরের দায়িত্ব পালনকালে যে সকল কাজ অসমাপ্ত রয়েছে পুনরায় নির্বাচিত হয়ে সে সকল কাজ সমাপ্ত করার লক্ষ্যেই জাতির জনকের তনয়া প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করে যাব। গ্রাম হবে শহর প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সার্বিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবো এবং ইউনিয়ন পরিষদকে একটি আধুনিক যুগোপযোগী এবং ডিজিটাল ইউনিয়ন হিসাবে গড়ে তুলব। ইউনিয়ন পরিষদকে একটি গ্রিন এবং ক্লিন ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করবো।

বাংলাদেশ জার্নাল: আগামী ৫০ বছর পর স্বপ্নের বাংলাদেশকে কেমন দেখতে চান?

আনিছুর রহমান: বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্র হিসাবে দেখতে চাই।

বাংলাদেশ জার্নাল: ‘কেশবপুর’ কী জন্য বিখ্যাত? আপনার প্রিয় মানুষ কে? ও প্রিয় রং কী?

আনিছুর রহমান: কেশবপুর কালোমুখো হনুমান এবং খেজুরের গুড়ের জন্য বিখ্যাত। বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং লাল সবুজ।

বাংলাদেশ জার্নাল: চেয়ারম্যান কিংবা কোনো পদবী ছাড়া কি সমাজসেবা কিংবা সমাজ সংস্কার করা যায়? আপনার মতামত কী?

আনিছুর রহমান: হ্যাঁ যারা সত্যিকারের মানুষ এবং সুন্দর মনের অধিকারী। যার হৃদয়ে দেশপ্রেম আছে। সেই মানুষ কোনো পদ-পদবীর আশা না করে সমাজসেবা এবং সমাজ সংস্কারের ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারেন।

বাংলাদেশ জার্নাল: গত ৫ বছরে কোন ধরনের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কী? জানালে খুশি হবো।

আনিছুর রহমান: হ্যাঁ অনেকগুলো সামাজিক সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত আছি। এলাকাবাসী এ বিষয়ে খবর ভালো রাখেন।

বাংলাদেশ জার্নাল: আপনার ইউনিয়নের শিক্ষিত বেকার ও অশিক্ষিত যুবকদের নিয়ে আপনার ভাবনা কী?

আনিছুর রহমান: আমার ইউনিয়নে শিক্ষিত এবং বেকারদের জন্য আমি সাধ্যমত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব ৷ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংক বা এনজিও থেকে স্বল্প সুদে কিংবা বিনা সুদে ঋণ গ্রহণ করে যাতে তারা স্বাবলম্বী হতে পারে তার ব্যবস্থা করব আর অশিক্ষিত বেকারদের জন্য বিভিন্ন প্রকার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে তাদেরকে প্রশিক্ষিত করে জীবন জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা নিশ্চিত করবো। শিক্ষিত-অশিক্ষিত বেকাররা যাতে আত্মকর্মসংস্থান এবং সমাজ বিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত না হয় তার জন্য মাসে একদিন তাদের সাথে মত বিনিময় করব।

বাংলাদেশ জার্নাল: আপনি কি কোনো ক্রীড়া সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন? থাকলে সে সংগঠনের নাম, স্থাপিত ও কার্যক্রম কী?

আনিছুর রহমান: চাদড়া পাষানীপাড়া যুব উন্নয়ন ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত আছি। এবং ক্রীড়া সংগঠনগুলো যাতে তাদের কার্যক্রম বেগবান রাখতে পারে তার জন্য সর্বদা সচেষ্ট আছি।

বাংলাদেশ জার্নাল: আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সম্পর্কে আপনার ধারণা কী? যদি আপনি নির্বাচিত না হন আপনার ভূমিকা কী হবে?

আনিছুর রহমান: প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী যে বা যারাই চেয়ারম্যান হোক না কেন তাদের সঙ্গে আমি সব সময় ইতিবাচক ভাবনা পোষণ করি।

বাংলাদেশ জার্নাল: ‘ত্রিমোহিনী’ নামকরণের ইতিহাস কী? সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এ এস এইচ কে সাদেক সম্পর্কে কিছু বলুন।

আনিছুর রহমান: তিন নদীর মোহনার নাম অনুসারে ত্রিমোহিনী নামকরণ করা হয়েছে। মরহুম এ এস এস কে সাদেক সাহেব দেশ-বিদেশে প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। সরকার এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব সরকারের শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

বাংলাদেশ জার্নাল: বাংলাদেশের ১০ জন বিখ্যাত রাজনীতিবিদের নাম বলুন, যাদের আর্দশে আপনি অনুপ্রাণিত হন?

আনিছুর রহমান: সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা, জিল্লুর রহমান, বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, আব্দুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু, আব্দুর রাজ্জাক, মতিয়া চৌধুরী, সৈয়দ আশরাফ, মোহাম্মদ নাসিম, সাজেদা চৌধুরী উনাদের আদর্শে আমি অনুপ্রাণিত হই।

বাংলাদেশ জার্নাল: গত এক মাসে কোনো বই পড়েছেন? পড়লে লেখক ও বইটির নাম কী? মাইকেল মধুসূদন দত্ত কে, তার একটি বইয়ের নাম বলুন।

আনিছুর রহমান: হ্যাঁ গত মাসে আমি বাংলাদেশের গণহত্যা নামক বইটি পড়েছি বইটির লেখক শেখ ফজলুল হক মনি। মাইকেল মধুসূদন দত্ত যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার সন্তান এবং বাংলা সাহিত্যর মহাকবি তাঁর রচিত একটি বই হল ‘মেঘনাথবধ কাব্য’

বাংলাদেশ জার্নাল: সময় দেয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

আনিছুর রহমান: আপনাকেও আমার এবং আমার ইউনিয়নের পক্ষ থেকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত