আদ-দ্বীন হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ অব্যাহত রাখার দাবি বিদেশি শিক্ষার্থীদের
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৬, ১৭:১১ আপডেট : ২২ জুন ২০২৬, ১৮:২৬

ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাওয়া আদ-দ্বীন হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ চালিয়ে যাওয়াসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন ৩২ বিদেশি শিক্ষার্থী।
আদ দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের এসব শিক্ষার্থী সোমবার সকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে গিয়ে মহাপরিচালক বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়ে এসেছেন।
স্মারকলিপিতে তারা বলেছেন, বর্তমানে আদ-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ২০৯ জন ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর থেকে এসেছেন।
“আমাদের অনেকেই ইতোমধ্যে চিকিৎসাশিক্ষার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বছর সম্পন্ন করেছি। আমরা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন ৩২ জন কাশ্মীরি শিক্ষার্থীর অবস্থা নিয়ে, যারা বর্তমানে এই হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ করছেন।”
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, “তারা সফলভাবে তাদের একাডেমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেছে এবং বর্তমানে নিবন্ধন ও ভবিষ্যৎ চিকিৎসা পেশায় প্রবেশের জন্য বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন।
“ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করার পর এসব শিক্ষার্থী ভারতে ফিরে গিয়ে চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করতে চান। তবে ভারতে চিকিৎসা স্নাতকদের জন্য প্রযোজ্য নিয়ন্ত্রক কাঠামো অনুযায়ী, ইন্টার্নশিপ অবশ্যই একই প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করতে হয়, যেখানে চিকিৎসা শিক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। একটি প্রতিষ্ঠানে আংশিক এবং অন্য প্রতিষ্ঠানে আংশিক ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন হলে তা নিবন্ধনের ক্ষেত্রে স্বীকৃত নাও হতে পারে।”
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ কাজে কার্যালয়ের বাইরে ছিলেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাতের কোনো সূচি না থাকায় তাদের দেখা হয়নি।
বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি ইলিয়াহ মনসুর বলেন, “ভারতের ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশনের (এনএমসি) নিয়ম অনুযায়ী, দুটি ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করা যায় না।
“যদি আমাদের এখন অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হয়, তাহলে আমাদের পুরো ইন্টার্নশিপই অবৈধ বলে গণ্য হতে পারে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক রুবীনা ইয়াসমীন গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা বিদেশি শিক্ষার্থীদের কোনো দাবির বিষয় এখনো জানি না। তারা যেকোনো বিষয় জানালে আমরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।”
ঈদের আগের দিন ২৭ মে সকালে মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে একে একে ছয় নবজাতক মারা যায়। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ‘অবহেলার’ প্রমাণ পাওয়ার কথা বলা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি; দীর্ঘক্ষণ এসি বন্ধ থাকা এবং বিকল্প কোনো ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা না থাকা; বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াই শিশুগুলোর মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ।
এ ঘটনায় দেওয়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা ‘সন্তোষজনক না হওয়ায়’ লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম










