ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ আপডেট : ১৯ মিনিট আগে
শিরোনাম

পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে করা আপিলের ওপর রায় আজ

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৫  
আপডেট :
 ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:১৪

পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে করা আপিলের ওপর রায় আজ

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয় পরিবর্তন করে আনা সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের ওপর রায়ের জন্য আজ বৃহস্পতিবার দিন ধার্য রয়েছে।

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ গতকাল বুধবার তৃতীয় দিনে শুনানি শেষে রায়ের এ দিন ধার্য করেন।

পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে তিনটি আপিল হয়েছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চার ব্যক্তি একটি এবং নওগাঁর বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেন পৃথক আপিল করেন। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার একটি আপিল করেন।

এক ব্রিফিংয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে মূলত দেশের সংবিধানের আমূল পরিবর্তন করা হয়েছিল। এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের বাক্‌স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, আগামী দিনের অগ্রযাত্রা, দেশের অগ্রযাত্রা, গণতন্ত্রের অভিযাত্রা—সবকিছুই বাধাগ্রস্ত ছিল।

আর পঞ্চদশ সংশোধনীর যেসব বিষয় বেসিক স্ট্রাকচারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, সেগুলোর ব্যাপারে আদালত সিদ্ধান্ত দিতে পারেন বলে শুনানিতে উল্লেখ করেছেন বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন এনে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী এনেছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। ২০১১ সালের ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধনী আইন সংসদে পাস হয়। সংশোধনীতে সংবিধানে ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছিল। অবৈধ ক্ষমতা দখল করলে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান, জাতির পিতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বীকৃতির পাশাপাশি সংবিধানে জাতীয় চার মূলনীতি—জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনা হয়।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরো আইন ও আইনের কয়েকটি ধারার বৈধতা নিয়ে ২০২৪ সালে হাইকোর্টে আলাদা দুটি রিট হয়।

চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং গণভোট বাদ দেওয়া-সংক্রান্ত সেই সংবিধান আইনের ২০ ও ২১ ধারা বাতিল ঘোষণা করা হয়। ওই দুটিসহ পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭ক, ৭খ, ৪৪(২) অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিলও ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা পৃথক আপিলের ওপর গত সোমবার শুনানি শুরু হয়।

গত মঙ্গলবার ও গতকাল শুনানি শেষে আপিল বিভাগ রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।

অপর আপিলকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির। রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও অনীক আর হক এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্যাহ আল মাসুদ শুনানিতে ছিলেন। এ ছাড়া লিভ টু আপিলকারী সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইমরান এ সিদ্দিক শুনানিতে অংশ নেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/জে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত