ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০১৯, ১৬:০৫

প্রিন্ট

কান পেতে রই

কান পেতে রই
জার্নাল ডেস্ক

চলতি বছরের মে মাসে সদ্য সাবেক দুই ‘মনস্টার’ ভাইয়ের হাত ধরে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়। সে গল্প বিস্তারিত লিখব না। রাজনীতি সংশ্লিষ্ট এবং রাজনীতি সচেতন সবার জানা ঘটনা বারংবার উপস্থাপনে পাঠকের ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটতে পারে। তবে কিয়দংশ উপস্থাপন এই লেখার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আমরা যারা রাজু ভাস্কর্যে দিনের পর দিন আন্দোলন করেছি। বাবা-মায়ের ইচ্ছা, সাধ-আহ্লাদকে মাটি চাপা দিয়ে পিচঢালা রাস্তায় ঈদ উদযাপন করেছি তাদের এতশত আর্জি, দিনের পর দিন আন্দোলন-অনশনেও টনক নড়েনি ভাইদের। বারংবার আমাদের সামনে প্রতিশ্রুতির মূলো ঝুলিয়েছেন। আমাদেরকে ভেবেছেন দলের উচ্ছিষ্ট। সময়ে অসময়ে উপহাসের টিপ্পনি কেটেছেন। তবুও আমরা দমে যাইনি।

আমাদের আশা ভরসার একমাত্র আশ্রয়স্থল, আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবক, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য তনয়া জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার ওপর অবিচল আস্থা রেখে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হয়ে আমরা চালিয়ে গেছি আমাদের অভিষ্ট লক্ষ্যার্জনের যুদ্ধ। সে লক্ষ্য কখনোই ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থের জন্য ছিল না। সে লক্ষ্য প্রাণের সংগঠনকে বিষফোঁড়ামুক্ত করার জন্য।

আমাদের দাবির প্রেক্ষিতে, মিডিয়ায় পূঙ্খানুপুঙ্খরুপে উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ‘মানবতা আর সরলতার অপূর্ব সম্মিলন’ দুই ভাই কেন্দ্রীয় কমিটির ১৯টি পদ শূন্য ঘোষণা করেন। এমনকি মধ্যরাতে সংবাদ সম্মেলন করে মিডিয়ার সামনে ১৭ জনের নামসহ আমলনামা উপস্থাপন করেন। ব্যস...! তাদের দায়সারা কাজে ফুলস্টপ।

তারপর সেই ঐতিহাসিক ঘুম। ঘুমে ঘুমে তাহাদের প্রস্থান। আর বিতর্কিতরা বহাল তবিয়তে।

তাদের স্থলাভিষিক্ত হলেন প্রিয় জয়-লেখক ভাই। কিন্তু তাদের সাথে মধুর টেবিল, রাজনৈতিক প্রোগ্রামে মনস্টার উত্তরসূরী অনেকেই নেই! আমরা পদহীন উচ্ছিষ্টরা কিন্তু নিয়মিতই আছি।

জয়-লেখক ভাই দৃঢ়চিত্তে চালিয়ে যাচ্ছেন সংগঠন। আমরা তাঁদের নেতৃত্বকে সাধুবাদ জানাই। আমরা বিশ্বাস করি জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার আস্থার যথার্থ প্রতিফলন ঘটাচ্ছেন আপনারা আপনাদের সাদামাটা চলন-বলন আর নিত্যনৈমিত্তিক কর্মকাণ্ডে।

কিন্তু-প্রশ্ন থেকে যায়? আপনার পাশের দেয়ালটায় জনতার ফিসফিসানি প্রতিধ্বনিত হয়। চায়ের কাপে ঝড় তোলা টং দোকানের আনাড়ি রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সুশীল, অর্ধসুশীল, কিঞ্চিৎ রাজনীতি উৎসুক আম জনতা কিংবা ক্যাম্পাসে ফেরি করা হাওয়াই মিঠাইওয়ালার মনেও কিন্তু প্রশ্ন জাগে জয়-লেখক ভাই পূর্বসূরী ‘মনস্টারদের’ পথেই হাটছেন নাতো?

আমার মত যারা আপনাদের দেখে স্বস্তি পাই। ভরসা রাখি দু’চোখ বন্ধ করে। তারা দেয়ালের কানে ফিসফিসিয়ে জবাব দিই ইতিবাচক সুরে। আমাদের সুদৃঢ় বিশ্বাস সে ইতিবাচক বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটবে আপনাদের কলমের কালিতে। ইতিহাস সৃষ্টি করে আপনারা দায়িত্বে এসেছেন। বিতর্কিতদের অপসারণের মাধ্যমে সে ইতিহাস পরিপূর্ণতা পাবে।

তাইতো আমরা কান পেতে রই সুসংবাদ শুনব বলে। দীর্ঘ অপেক্ষার সে প্রহর। দীর্ঘদিনের সাধনা, যাতনা, বেদনার সে আর্তি। তবুও আমরা ভীষণভাবে আশাবাদি। কারণ জয়-লেখকে প্রত্যাশার পারদটা বরাবরই ঊর্ধ্বগামী...

লেখক: ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী সজীব, সাবেক পরিবেশ বিষয়ক উপ-সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদ।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত