ঢাকা, রোববার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭ আপডেট : ২০ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২১, ০০:৪৫

প্রিন্ট

বক্তৃতায় আছে ভোটের মাঠে নেই

বক্তৃতায় আছে ভোটের মাঠে নেই

কিরণ শেখ

দ্বিতীয় ধাপে বেশীভাগ পৌরসভার নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। এই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়ার পরও অনেক পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী ও দলটির নেতারা মাঠে ছিলেন না। তারা এদিন মাঠে না থেকে বক্তৃতায় ভোট বর্জন ও এজেন্টদের ভোট কেন্দ্রে যেতে না দেওয়া, এজেন্টদের ভোট কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া এবং বিএনপি সমর্থকদের ভোট কেন্দ্রে যেতে না দেওয়ার অভিযোগ করেছে দলটি। তবে এসব বক্তৃতা দিয়ে বিএনপি দেশের জনগণের সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তারা বলছেন, দ্বিতীয় ধাপের ৬০টি পৌরসভার নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। আর বিএনপি ভোট বর্জন ও ভোট কেন্দ্র দখলের অভিযোগ করে দেশের জনগণের সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করছে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, পৌর সভার নির্বাচনে ক্ষমতাসীনরা বিএনপির এজেন্টদের কেন্দ্রে যেতে দেয়নি। আবার অনেক জায়গায় এজেন্টদের বের করে দিয়েছে এবং বিএনপি সমর্থকদের ভোট কেন্দ্রের কাছেও যেতে হয়নি।

এদিকে দ্বিতীয় ধাপে ৬০টি পৌরসভার নির্বাচনে ৫৯টিতে অংশগ্রহণ করেছে বিএনপি। কিন্তু নির্বাচনে দুই বিদ্রোহীসহ ছয়টিতে জিতেছে দলটি। আর প্রায় ৩০টি পৌরসভায় দলটির প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় ছিলেন না। বিজয়ী বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা হলেন: দিনাজপুরে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, বগুড়ার সান্তাহারে তোফাজ্জল হোসেন, মাধবপুরে হাবিবুর রহমান এবং নবীগঞ্জে ছাবির আহমদ চৌধুরী। আর দলটির মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন জগন্নাথপুরে আক্তার হোসেন এবং শেরপুরে জানে আলম।

ভোটের দিন ৬০টি পৌরসভা থেকে বাংলাদেশ জার্নালের প্রতিনিধিদের সংবাদ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ১৬ জানুয়ারি শেষ হওয়া ৬০টি পৌরসভার বেশীভাগ ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের লম্বা সারি লক্ষ্য করা গেছে। তবে এসব ভোট কেন্দ্রগুলোতে পুরুষ চেয়ে নারী ভোটারের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশী ছিল।

প্রতিনিধিদের সংবাদের তথ্য মতে, নির্বাচনী প্রচারণায় এবং ভোটের দিন বেশীভাগ পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল না। তবে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা যেমন নির্বাচনী প্রচারণায় ছিলেন তেমনি ভোটের দিন সকাল থেকেই তাদের কর্মী ও সমর্থকদের সংক্রিয় উপস্থিতিও ছিল দেখার মতো। আর কয়েকটি পৌরসভায় সংঘর্ষ, প্রকাশ্য সিল মারা এবং ভোট কেন্দ্রের কক্ষে প্রবেশ করে নৌকায় ভোট দিতে বাধ্য করার ঘটনাও দেখা গেছে।

বগুড়ার শেরপুর ও সান্তাহার: বগুড়ার শেরপুর ও সান্তাহারে সকাল থেকেই ভোটারদের ভীড় ছিল চোখে পড়ার মতো। দিন শেষে এই পৌরসভায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়।

গাইবান্ধা পৌরসভা: গাইবান্ধা পৌরসভার জুবলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। দুপুর আড়াইটা মধ্যে এই ভোট কেন্দ্রে ভোট পড়ে ১ হাজার ৪০২টি। আর কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ৫৮৯টি।

কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রাম নাগেশ্বরীতে ভোটারদের ভীড় ছিল অনেক। এদিন ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়। এছাড়া ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা ও ফুলবাড়িয়া, গাজীপুরের শ্রীপুর, দিনাজপুর সদর এবং নেত্রকোনার কেন্দুয়া ও মোহনগঞ্জে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হয়েছে।

নোয়াখালী: নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আবদুল কাদের মির্জা জয়ী হয়েছেন। তিনি ১০ হাজার ৭৩৮ ভোট পেয়েছেন। আর বিএনপির প্রার্থী মাত্র ১ হাজার ৭৭৮ ভোট পেয়েছেন।

শরীয়তপুর: শরীয়তপুর পৌরসভার নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীকে সক্রিয় দেখা যায়নি। এমনি বেশিভাগ কেন্দ্রে তার এজেন্ট দেখা যায়নি।

রাজশাহী: রাজশাহীর আড়ানী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী শহীদুজ্জামান ৪ হাজার ৩০০ ভোট পেয়েছেন। আর বিএনপির প্রার্থী তোজাম্মেল হক ১ হাজার ২৭৬ ভোট পেয়েছেন।

এছাড়া পাবনার ঈশ্বরদী, বাগেরহাটের মোংলা পোর্ট পৌরসভা, মেহেরপুরের গাংনী, রাজশাহীর বাগমারার ভবানীগঞ্জ পৌরসভা, কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন বিএনপির প্রার্থীরা। এসময় তারা ভোট কেন্দ্র থেকে তাদের এজেন্টদের বের করে জাল ভোট ও মারধরের অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচনগুলো কি হচ্ছে? পৌরসভা নির্বাচন শনিবার হয়ে গেলো। প্রত্যেকটি নির্বাচনে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তারা (ক্ষমতাসীন) দখল করে নিয়ে গেলো, ডাকাতি করে নিয়ে গেলো। এমনকি সিরাজগঞ্জে একজন কমিশনার খুন পর্যন্ত হয়েছে, তিনি প্রায় ৮৫ ভাগ ভোট পেয়ে জিতেছেন। তাকে হত্যা করা হয়েছে।

তবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর বলেন, দ্বিতীয় ধাপের ৬০টি পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে।

পৌর নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে দেশের যে ৬০ পৌরসভায় মেয়র পদে ৬২ শতাংশ ভোট পড়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক যুগ্মসচিব এসএম আসাদুজ্জামান জানান, এ ধাপে ২০ লাখ ৯১ হাজার ৬৮১ ভোটের মধ্যে ১২ লাখ ৯৫ হাজার ২৩৬ ভোট পড়েছে। সে হিসাবে ভোটের হার হচ্ছে ৬১ দশমিক ৯২ শতাংশ।

প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় ধাপের ৬০টি পৌরসভার মধ্যে ২৮টি পৌরসভায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ করা হয়। আর বাকি ৩২টিতে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট হয়।

আরও পড়ুন- ডাকাতি করে পৌরসভা দখল করেছে ক্ষমতাসীনরা

ভোটে বিএনপির ভরাডুবির কারণ জানালেন কাদের

বাংলাদেশ জার্নাল/কেএস/আর

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত