ঢাকা, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ আপডেট : ১৮ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১:৫৯

প্রিন্ট

আকাশ ছুঁতে চান যে আফগান সুন্দরী

আকাশ ছুঁতে চান যে আফগান সুন্দরী
অনলাইন ডেস্ক

আফগানিস্তানে সম্প্রতি এক অভিনব ফ্যাশন শোয়ের আয়োজন করা হয়। কোনও হল বা ঘেরা জায়গাতে নয়, কাবুলের রাজপথে প্রকাশ্য দিবালোকে অনুষ্ঠিত হয়েছে ওই ফ্যাশন শো। সেখানে পুরুষদের পায়ে পা মিলিয়ে হেঁটেছেন নারী মডেলরাও। ভাবা যায়?

দীর্ঘদিন ইসলামি চরমপন্থী দল তালেবানের শাসনে থাকা দেশটিতে এখনও খুব বেশি স্বাধীনতা পায়নি নারীরা। এখনও সেখানে বোরখা ছাড়া কোনও নারী রাস্তায় বেরুলে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন পথচারীরা। সেখানে গত বছরের শেষ নাগাদ এই ব্যতিক্রমী ফ্যাশন শোতে অংশ নেন ৩০ মডেল। এদের মধ্যে পাঁচজন ছিলেন নারী। তারা আফগানিস্তানের ঐতিহ্যবাহী ড্রেস পড়ে সেখানে হেঁটে বেড়ান।

ওই পাঁচ নারী মডেলের একজন ইয়ালদা হাইদারি। তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত তারা এই ফ্যাশন শো করতে পারবেন কিনা তা নিয়ে আয়োজকদের মনে ভয় ছিলো। কিন্তু সরকার অনুমতি দেয়ায় শেষ পর্যন্ত নির্বিঘ্নেই শেষ হয় এই ব্যতিক্রমী ফ্যাশন শোটি।

গত ৪ বছর ধরে মডেলিং করছেন ২৫ বছর বয়সী ইয়ালদা। তার স্বপ্ন একদিন বিখ্যাত মডেল হয়ে বিশ্বের বড় বড় র‌্যাম্প শোতে অংশ নেয়া। অনেকটা আকাশ ছুঁয়ে দেখার মতই তার এই স্বপ্নটা। কেননা তিনি যে আফগান নারী। যেখানে দেশটির বেশিরভাগ এলাকাতে নারীদের বাইরে বেরুনোর অনুমতি নেই সেখানে মডেলিং করে খ্যাতি অর্জনের চিন্তা করাটাও তো এক ধরনের দৃষ্টতা (!)। এই সত্যটা নিজেও জানেন ইয়ালটা। তাই তো আক্ষেপ করে চীনা সংবাদ মাধ্যম সিনহুয়াকে বলেন, ‘আফগানিস্তানে মডেলিং খুব ঝুঁকিপূর্ণ পেশা। কেননা এখনও দেশের পুরুষেরা নারীদের কোনো পাবলিক প্লেসে দেখতে অভ্যস্ত নয়।’

তারপরও ইয়ালদা একজন সাহসী নারী বলেই এরকম স্বপ্ন দেখার সাহস পান। । হুম, আফগানিস্তানের মতো দেশে যে নারী মডেলিং করেন তাকে তো সাহসী বলতেই হয়।

কেননা দেশটির উল্লেখযোগ্য অংশ এখনও জঙ্গি গোষ্ঠী তালেবানদের দখলে। সেখানকার গ্রামীণ এলাকাগুলোতে বোরখা ছাড়া তো দূরের কথা, কোনও পুরুষ সঙ্গী ছাড়া একা বাইরে বেরোনোর অনুমতি পর্যন্ত পায় না নারীরা। লেখাপড়া করার জন্য স্কুলে যাওয়ারও অনুমতি নেই মেয়েদের।

তবে গত ১৮ বছরে পরিস্থিতি অনেকখানি বদলেছে। যে কারণে মডেলিং পেশায় আসার সাহস করছেন ইয়ালদার মতো তরুণীরা। শুধু মডেলিং নয়; রাজনীতি, ব্যবসা, সঙ্গীত, চিত্রকলাসহ নানা পেশায় নারীদের অংশগ্রহণ ক্রমশ: বাড়ছে।

আর আফগানিস্তানে যার হাত ধরে ইয়ালদার মতো নারীরা স্বপ্নে ভাসছেন তিনি আর কেউ নন, আজমল হাকিকি। ৩০ বছর বয়সী এই যুবক দেশটির ফ্যাশন জগতে নতুন নতুন ধারণা যুক্ত করছেন। গত বছরের ৫ নভেম্বর কাবুলে যে ব্যতিক্রমী ফ্যাশন শো হয়ে গেল তারও উদ্যোক্ত ছিলেন কাবুলের বাসিন্দা এই আজমল। তবে বাস্তবতা অস্বীকার করেন না তিনিও। আজমলের ভাষায়, ‘আসলে আফগানিস্তানের মতো দেশে মডেলিং করা খুব ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। মডেলিং ছেড়ে দেয়ার জন্য আমাকে তো এখনও নিয়মিত হুমকি দেয়া হচ্ছে।’

কিন্তু আজমলের মতো সাহসী যুবক কোনও হুমকি ধামকিতে যে ভয় পাওয়ার নয় তিনি সেটা কাবুলে প্রকাশ্য রাজপথে ফ্যাশন শো করে দেখিয়ে দিয়েছেন।

‘দৃঢ় সংকল্প নিয়ে আমরা এসব সাংস্কৃতিক বাধাগুলো অতিক্রম করে এখানে ফ্যাশন শিল্পকে বিকশিত করার চেষ্টা করছি। যে কারণে আজ অনেক নারী তাদের পরিবারের সমর্থন নিয়ে ফ্যাশন শোতে অংশ নিতে প্রস্তুত।’বলছিলেন আফগান মডেলিং টিমের নেতা আজমল হাকিকি।

সিনহুয়া অবলম্বনে মাহমুদা আকতার

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত