ঢাকা, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ১৬ কার্তিক ১৪২৭ আপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:৪৪

প্রিন্ট

সেই আউয়াল ও তার স্ত্রীর নামে অরো দুই মামলা

সেই আউয়াল ও তার স্ত্রীর নামে অরো দুই মামলা
পিরোজপুর প্রতিনিধি

পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল ও তার স্ত্রীর লায়লা পারভীনের নামে হিসাব বর্হিভূত অবৈধ সম্পদ থাকার অভিযোগে আরো দু’টি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

বুধবার দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ সংস্থাটির উপ-পরিচালক মো. আলী আকবর বাদী হয়ে মমালা দু’টি দায়ের করেছেন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য বাংলাদেশ জার্নালকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এমপি আউয়ালের বিরুদ্ধে ৩৩ কোটি ২৭ লাখ ৮৯ হাজার ৭৫৫ টাকা এবং তার স্ত্রী লায়লা পারভীনের বিরুদ্ধে ১০ কোটি ৯৮ লাখ ৯০ হাজার ৫০ টাকা অবৈধ সম্পদের উল্লেখ করে মামলা দু’টি দায়ের করা হয়।

এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বর দুদকের উপ-পরিচালক মো. আলী আকবর বাদী হয়ে এমপি আউয়ালের নামে ২টি ও তার স্ত্রী লায়লা পারভীনের নামে পৃথক ৩টি মামলা দায়ের করেন।

প্রথম মামলার অভিযোগে বলা হয়, সাবেক এমপি আউয়াল অবৈধভাবে ৩৩ কোটি ২৭ লাখ ৮৯ হাজার ৭৫৫ টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। তবে তিনি দুদকে দাখিককৃত সম্পদের বিবরণীতে ১৫ কোটি ৭২ লাখ ৪৮ হাজার ৪৩ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।

দ্বিতীয় মামলার অভিযোগে তার স্ত্রী লায়লা পারভীনের বিরুদ্ধে ১০ কোটি ৯৮ লাখ ৯০ হাজার ৫০ টাকার অবৈধ সম্পদের মালিকানার তথ্য রয়েছে। এ ছাড়াও এর আগে তার ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে খাস জমি দখলের অভিযোগ করে ৩টি মামলা দায়ের হয়।

ওইসব মামলা সূত্রে জানা গেছে, জেলার নাজিরপুর থানার সামনে ও উপজেলা সদরের ভূমি অফিসের পেছনের ১৩ শতাংশ সরকারি খাস জমি নিজের দখলে নেন। পরে সেখানে তিনি দ্বিতল পাকা ভবন তৈরি করে পল্লী বিদ্যুৎকে অফিস হিসাবে ভাড়া দেন। এতে চুক্তি করেন এমপি স্ত্রী লায়লা পারভীন।

জালিয়াতির এ ঘটনার অনুসন্ধানের পর স্থানীয় সহকারী কমিশনার (ভূমি) দুদক কর্মকর্তাকে বলেছেন, তিনি ছয় ব্যক্তির কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাননি। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসা ৬ ব্যক্তির অস্তিত্ব না থাকলেও সাবেক এমপি আউয়ালের স্ত্রী লায়লা পরভীনের নামে বাড়ির বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হচ্ছে। এ সংক্রান্ত সব ধরনের প্রমাণ পাওয়ার পর দুদক অনুসন্ধান শেষ করে মামলা দায়ের করে।

প্রায় একই প্রক্রিয়ায় জেলার নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলার ডাক বাংলোর কাছে একটি সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করে সেখানে তিন তলার একটি ভবন নির্মাণ করেছেন। যা পরে আউয়াল ফাউন্ডেশন নামে নামকরণ করা হয়। এমপির ক্ষমতা প্রয়োগ করে তিনি এ জালিয়াতির আশ্রয় নেন। ওই অপরাধে একেএমএ আউয়ালের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০/৪০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় আরো একটি মামলা দায়ের করে দুদক।

এছাড়া পিরোজপুর শহরের খুমুরিয়া মৌজার রাজার পুকুর নামে পরিচিত (জেএল-৪৬, খতিয়ান নং-২৯৩) ৪৪ শতক সরকারি জমি চতুর্দিকে দেয়াল নির্মাণ করে দখলে নিয়ে নেন আউয়াল। এই অপরাধে আউয়ালের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০/৪০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় তৃতীয় মামলা দায়ের করে দুদক।

উল্লেখ্য, সাবেক এমপি আউয়াল ও তার স্ত্রী মিসেস লায়লা পারভীনের নামে দায়ের হওয়া ৩টি মামলার জামিন নিতে তারা গত ৩ মার্চ পিরোজপুর জেলা ও দায়রা জজ মো. আব্দুল মান্নানের আদালতে যান। আদালত ওইদিন দুপুর ১২টায় তাদের জামিন নামঞ্জুর করেন। এ ঘটনার জের ধরে ওইদিনই আদালতের বিচারক মো. আব্দুল মান্নানকে বদলি করা হয়।

একইদিন দুপুর ৪টার দিকে ওই আদালতের অতিরিক্ত দায়রা জজ নাহিদ নাছরিনকে আদালতের বিচারকের (ভারপ্রাপ্ত) দায়িত্ব দেয়া হয়। পরে ৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনি (বিচারক নাহিদ নাছরিন) এমপি আউয়াল তার স্ত্রীকে জামিন প্রদান করেন। ওই জামিন ও বিচারক মো. আব্দুল মান্নানকে বদলি নিয়ে দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

উল্লেখ্য, এমপি একেএমএ আউয়াল ২০০৮ ও ২০১৪ সালে পিরোজপুর-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন। এ সময়ে সরকারদলীয় এই এমপি এসব দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত