ঢাকা, রোববার, ০৭ মার্চ ২০২১, ২২ ফাল্গুন ১৪২৭ আপডেট : ১০ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২১, ২০:৩৭

প্রিন্ট

বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে হলুদের সমুদ্র

বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে হলুদের সমুদ্র
দিনাজপুরে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সরিষা ক্ষেত

সুলতান মাহমুদ চৌধুরী, দিনাজপুর

বিস্তীর্ণ মাঠ যেদিকে তাকাই শুধু হলুদ আর হলুদ এ যেন হলুদের সমুদ্র। সেই হলুদের সমুদ্রের মধ্যে ডিঙ্গী নৌকার মত ছুটাছুটি করছে মৌমাছি। দিনাজপুরের বীরগঞ্জ খানসামা মহাসড়কটি যেন হলুদ সরিষা ক্ষেতের মাঝ দিয়ে ছুটে চলছে। সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধ আর বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে হলুদ রঙের সমারোহ। দৃষ্টি নন্দিত এ দৃশ্যে যেন জুড়িয়ে যায় মন। মননে ধারণ করে আছে সরিষা ফুলের গন্ধে ভরা সুঘ্রাণ।

জেলার বীরগঞ্জে এই সরিষার আবাদ অনেক বেশি হয়। বীরগঞ্জ থেকে খানসামা যাওয়ার পথে মহাসড়কের দু-পাশে যেন সরিষার আবাদ অনেক বেশি হয়েছে।

দিনাজপুরের চাষিরা আমন ধান কেটে ঘরে নেয়ার সাথে সাথে বাড়তি চাষের জন্য সেই জমিতেই সরিষার চাষ করে থাকেন। আবার সেই জমিতেই বোরো ধানের আবাদের আগেই সরিষা উঠে যায় চাষিদের ঘরে। তাই এখানে বাড়তি ফসল হিসেবে সরিষা চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

ঘন কুয়াশা ও শৈত্য প্রবাহে প্রতিকুল আবহাওয়া স্বত্বেও এ অঞ্চলে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে সরিষার। মাটি’র সুরক্ষায় চাষ হচ্ছে এ সরিষা’র। সরিষা ক্ষেত থেকে মধু আহরণে অনেকটা বাড়তি আয়ের পাশাপাশি ফলন বৃদ্ধি’র সহায়তা পাচ্ছে কৃষক।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে দিনাজপুর জেলাতে ১১ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করেন এই এলাকার চাষিরা। কিন্তু ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে তা বেড়ে গিয়ে প্রায় ১৩ হাজার ৯৯৮ এ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে, দিনাজপুরে সরিষা চাষের সাথে সাথে চাষ করা হচ্ছে মৌমাছি। এতে করে সরিষার উৎপাদনও বেশি হচ্ছে এবং কৃষকরা অধিক লাভবান হচ্ছেন।

কৃষক মকবুল হোসেন জানান, আমন এবং বোরো চাষের মধ্যবর্তী সময়ে সরিষা চাষ করলে মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পায়। পরের ফসলের জন্য খুব বেশি চাষ করতে হয় না। জৈব সারও দিতে হয় না। অন্যদিকে মাত্র দুটি চাষ দিয়েই সরিষা চাষ করা যায়। সরিষা আবাদে কোনো প্রকার সেচ লাগে না। সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয় না। ফলে কম খরচে বেশি লাভ পাওয়া যায়। কম সময়ে সরিষার ফসল ঘরে তোলা যায় বলে একটি জমিতে তিন বার আবাদ করা যায়। আর এসব কারণেই দিন দিন সরিষার আবাদ বাড়ছে।

কৃষক রফিকুল ইসলাম জানায়, সরিষা শাক হিসেবেও বেশ সুস্বাদু। এক একর জমিতে সরিষা আবাদ করতে খরচ হয় মাত্র ১৫ হাজার টাকা। প্রতি একরে ১৫ মণ সরিষা উৎপাদন করেন তারা। বাজারে ২ হাজার টাকা মণ দরে সরিষা বিক্রি হয়। ফলে খরচের দ্বিগুণ লাভ হয় চাষিদের। এ বছর আবহাওয়া অত্যন্ত ভাল থাকায় ফলনও ভালো হবে বলে আশা করছেন চাষিরা।

কৃষাণি ফুলমতি বেগম জানান, গতবার এক বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করেছিলাম। এবার তিন বিঘা জমিতে আবাদ করেছি। এ ফসলটা বোরো এবং আমন চাষের জন্য উপকারী। তাছাড়া বাড়তি আয়ও হচ্ছে। তৃতীয় ফসল হিসেবে সরিষা চাষ করে বাড়তি আয় করতে পারছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর ফলন বৃদ্ধি পাবে।

বীরগঞ্জ কৃষক আলী আকবর বলেন, সরিষা চাষে তেমন কোন রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হয় না। বোরো আবাদের আগেই এই সরিষা আমি গত বছর ৪ বিঘা জমিনে সরিষা চাষ করে বাড়তি ৩০ হাজার টাকা আয় করেছি।

কৃষিবিদ মো. আব্দুল হামিদ জানিয়েছেন, মাটির সুস্বাস্থ্য রক্ষায় সরিষা চাষ লাভজনক বলে জানিয়েছেন কৃষিবিদরা। মাটি’র স্বাস্থ্য রক্ষায় অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষা চাষে কৃষককে পরামর্শ প্রদান ও সহায়তা প্রদান ও কৃষকেরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণের উপ পরিচালক মো. তৌহিদুল ইকবাল জানান, কৃষি বিভাগ থেকে এ বছর উপজেলাগুলোতে প্রায় ২৫ হাজার চাষিকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রণোদনা সহায়তা দেয়া হয়েছে। কৃষকদেরকে উন্নত জাতের বীজ ও সার সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়াও সরিষা ক্ষেতে মৌমাছি চাষ করলে ১৫ থেকে ২০ ভাগ ফলন বেড়ে যাবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত