ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১, ১০ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ৮ মিনিট আগে

প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৫:৪৮

প্রিন্ট

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে মৃত্যুর বিভীষিকা

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে মৃত্যুর বিভীষিকা
ছবি- নিজস্ব

সৈয়দ রাসেল, সিলেট প্রতিনিধি

একের পর এক দুর্ঘটনায় দিনে দিনে মরণফাঁদ হয়ে উঠেছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক। প্রায় প্রতিদিনই ছোট-বড় অসংখ্য দুর্ঘটনায় হতাহত হচ্ছেন শত শত মানুষ।

দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে যানবাহনের বেপরোয়া গতি, অপ্রশস্ত রাস্তা আর ট্রাফিক আইন অমান্য করাকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চার লেনে রূপান্তরসহ হাইওয়ে ও ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতা বাড়ানোর দাবি স্থানীয়দের।

শুক্রবার সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমা থানাধীন রশিদপুর এলাকায় দ্রুতগামী দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে চিকিৎসকসহ ৮ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় আরও একবার আলোচনায় এ মহাসড়কটি। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছেন আরও অনেকে।

শুধু এই পয়েন্টেই নয়, দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার, নাজির বাজার, ওসমানীনগর, সাদিপুরসহ বেশকিছু স্থানে প্রায়ই ঘটছে ছোটবড় দুর্ঘটনা। প্রাণহানির পাশাপাশি অনেকেই অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হারিয়ে সারাজীবন বয়ে বেড়াচ্ছেন দুর্ঘটনার ক্ষত। এসব স্থানে গত এক বছরে প্রায় শতাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। যেসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত অর্ধশতাধিক। তবে দুর্ঘটনার সঠিক কোন হিসেব দিতে না পারলেও প্রতিদিন অন্তত ২টি করে দুর্ঘটনা হচ্ছে বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ সিলেট জোন।

আজও নিহত হয়েছেন ৮ জন

এমন বাস্তবতায় আলোচনা-সমালোচনার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে সংকীর্ণ রাস্তা, বেপরোয়া গতি আর চালকদের অসচেতনতার বিষয়টি।

জনতার অভিযোগের মাঝে নিজেদের অসচেতনতার দায়ও কিছুটা স্বীকার করলেন পরিবহন শ্রমিক নেতারা। দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাবেক কোষাধ্যক্ষ শামসুজ্জামান মানিক বলেন, ঠিকঠাকভাবে গন্তব্যে পৌঁছানোর লক্ষ্যেই চালকরা গাড়ি চালান। এর মাঝেও কিছু দুর্ঘটনা ঘটে যায়। তবে কিছু অসচেতনতার দায় তো চালকদের আছেই।

চালকদের প্রশিক্ষণের ঘাটতি আছে কিনা- এমন প্রশ্নে এই শ্রমিক নেতা বলেন, হাইওয়েতে যেসব যানবাহন চলাচল করে সেগুলোর চালক আলাদাভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। এছাড়া বড় বড় কোম্পানির বাস চালকদের জন্য নিজস্ব প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রয়েছে।

এদিকে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় যানবাহনের গতির বিষয়টি। চালকরা মানছে না ট্রাফিক আইন। যদিও হাইওয়ে পুলিশ বলছে, নিয়মিত অবৈধ যানবাহন ও আইন অমান্যকারীর বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। তবে বেপরোয়া গতির গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান থাকলেও চালকদের অসেচতনতা, সমীহার অভাবসহ নানা কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন হাইওয়ে পুলিশ।

হাইওয়ে পুলিশ সিলেট জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মাসুদ করিম বলেন, আমরা সড়কে নিয়মিত অভিযান চালাই। সিলেট জোন প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ৬ মাসে অসংখ্য মামলা হয়েছে। তাছাড়া স্পিডগান ব্যবহার করে বেপরোয়া জানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হয়।

‘কিন্তু চালকরা কেউ কাউকে সমীহা করতে চায় না। এক গাড়ি ওপর গাড়িকে সুযোগ দিতে চায় না। এছাড়াও রাতে চালকরা বেশি বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। আর অসচেতনতাতো আছেই। তারা সুযোগ পেলেই ইচ্ছেমতো গাড়ি চালান। এজন্য দুর্ঘটনাগুলো হয়।’

এদিকে কয়েকদিন আগেই একনেকে চারলেনের অনুমোদন পেয়েছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক। সড়ক দুর্ঘটনায় এড়াতে চালকদের সচেতনতার পাশাপাশি দ্রুত চারলেনের কাজ শুরু করে তা শেষ করার দাবি সচেতন মহলের।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত