ঢাকা, সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ২৯ চৈত্র ১৪২৭ আপডেট : ৭ মিনিট আগে

প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০২১, ১৭:২৩

প্রিন্ট

শিশু আরিফার জীবনে আলো ফেরাতে মানবিক আবেদন

শিশু আরিফার জীবনে আলো ফেরাতে মানবিক আবেদন

উত্তম হাওলাদার, কলাপাড়া প্রতিনিধি

ছোট্ট শিশু আরিফা। বয়স মাত্র ৩ বছর। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের তাজেপাড়া গ্রামের দরিদ্র ভ্যানচালক কাওছার মুসুল্লীর একমাত্র মেয়ে। কিন্তু ছোট্ট এই মেয়ের শরীরের থেকে মাথার ওজন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এ মাথার ভার সইতে না পেরে শিশুটি প্রতিনিয়তই যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে।

আরিফার বাবা নিজের সর্বশেষ সম্বল বসতভিটাটুকুও বিক্রি করে বরিশালসহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকৎসা করিয়েছেন। তারপরও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি।

একমাত্র কন্যা সন্তানকে সুস্থ করে তুলতে মা-বাবা ব্যাকুল। তাদের পক্ষে মেয়ের ব্যয়বহুল এই চিকিৎসা তো দূরের কথা, এখন এই পরিবারের ঠিকমতো দুবেলা খাবারও জোটে না। সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে ছোট্ট শিশু আরিফা স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাবে, এমন আশা অনেকেরই।

জানা গেছে, ২০১৮ সালে ১০ এপ্রিল আরিফার জন্মের পর কাওছার ও ডালিয়া দম্পতির স্বপ্ন ছিল আকাশছোঁয়া। কিন্তু তিন মাস যেতে না যেতেই আরিফার শরীরের তুলনায় মাথা বড় হতে থাকে। এরপর হতদরিদ্র ভ্যানচালক বাবা কাওছার মুসুল্লী একমাত্র কন্যার চিকিৎসায় সর্বস্ব হারিয়েছে। কিন্তু এই শিশুর মাথা স্বাভাবিক হচ্ছে না। ক্রমশই মাথা বড় হতে থাকে। ২৪ ঘণ্টাই বিছানায় শুইয়ে রাখতে হয় তাকে। বর্তমানে শিশুটির মাথার ওজন প্রায় ১০ কেজি। এ অবস্থা দেখে ব্যথিত প্রতিবেশীরাও।

আরও পড়ুন: শরীরের থেকে মাথার ওজন দ্বিগুণ ছোট্ট শিশু আরিফার

আরিফার মা ডালিয়া বেগম বলেন, জন্মের পর বেশ কিছুদিন ভালোই ছিল। এরপর দিন যতই যাচ্ছে, ততই মাথার ওজন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বরিশাল ও ঢাকায় চিকৎসাও করিয়েছি। তারপরও অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। ডাক্তারা বলেছেন, আরিফা হাইড্রোসেফালাস রোগে আক্রান্ত। এ রোগটি জটিল। তবে অপারেশন করে তাকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব।

আরিফার বাবা কাওছার মুসুল্লী বলেন, ছিল নিজ বসতভিটা। মেয়ের চিকিৎসার করাতে গিয়ে ধারদেনা হয় যায়। তাই সেটাও বিক্রি করে দিয়েছি। এখন অন্যের বাড়িতে থাকতে হচ্ছে। চিকিৎসায় যে পরিমাণ টাকার প্রয়োজন, তা জোগার করার আর কোনো উপায় নেই। তাই মেয়ের চিকিৎসায় জন্য সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

মুসুল্লিয়াবাদ সরকারি প্রাথমি বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. ইউনুস বলেন, এখন শিশু আরিফার চিকিৎসা তো দূরের কথা, অর্থাভাবে ওই পরিবারের ঠিকমতো দু'বেলা খাবার জোটে না। একমাত্র কন্যার চিকিৎসায় সর্বস্ব হারিয়ে অনেকটা ভিখারীর দশা বাবা-মায়ের।

শিশুটির চিকিৎসায় সরকারের পাশাপাশি এগিয়ে আসবে সমাজের বিত্তবানরা, এমন প্রত্যাশা করেছেন এই শিক্ষক।

কলাপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার জুনায়েদ খান লেলিন বলেন, শিশুটি হাইড্রোসেফালাস রোগে আক্রান্ত। রোগটি জটিল। অপারেশন করে তাকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব বলে তিনি জানিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক বলেন, উপজেলা পরিষদ থেকে কিছুটা সাহায্য করা হয়েছিল। আমার কাছে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকেরাও এসেছিলেন। এখানে যারা সামর্থবান ব্যক্তি আছে যাদের আমরা শিশু আরিফার দিকে এগিয়ে যেতে অনুরোধ করবো। আমরাও ১০ হাজার টাকা দিয়েছি, আমাদের সামর্থ অনুযায়ী দেয়ার সুযোগ থাকলে আরও দেবো।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত