ঢাকা, বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ৯ আষাঢ় ১৪২৮ আপডেট : ৩ মিনিট আগে

প্রকাশ : ১৫ মে ২০২১, ২০:৩৪

প্রিন্ট

লোকে লোকারণ্য পতেঙ্গা, নেই স্বাস্থ্যবিধি

লোকে লোকারণ্য পতেঙ্গা, নেই স্বাস্থ্যবিধি
ছবি- প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে গতবারের ন্যায় এবারও ঈদের ছুটিতে বন্ধ রয়েছে চট্টগ্রামের বিনোদন কেন্দ্রগুলো। তবে চট্টগ্রামের উন্মুক্ত বিনোদন স্পট পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে ছিল উপচেপড়া ভিড়। সরকারি বিধি-নিষেধ উপেক্ষা করে হাজারো নারী-পুরুষের মিলন মেলায় পরিণত হয় পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত।

ঈদের দ্বিতীয় দিন শনিবার দুপুর থেকে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। একইসঙ্গে ঈদের দিন শুক্রবারও উপচেপড়া ভিড় ছিল। পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করে ভিড় না করার অনুরোধ করলেও দর্শণার্থীরা তা মানেনি। তবে সন্ধ্যার পর সৈকতের মূল পয়েন্ট থেকে সবাইকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

জানা যায়, নগরীতে উন্মুক্ত বিনোদন স্পট ও দর্শনীর বিনোদন স্পটসহ প্রায় ১৬টি স্পট আছে। এর বাইরেও অনানুষ্ঠানিক কয়েকটি স্পট আছে, যেগুলো প্রচলিত অর্থে স্পট হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। বিনোদন স্পটগুলোর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো- পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত, বাটার ফ্লাই পার্ক, ফয়’স লেক, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা, আগ্রাবাদ-জাম্বুরি পার্ক, কর্ণফুলীর শিশু পার্ক, স্বাধীনতা পার্ক, ওয়ার সিমেট্রি, সিআরবির শিরীষতলা, রেলওয়ের কাঠের বাংলো, ডিসি হিল পার্ক, বাটালি হিল, নেভাল টু, কর্ণফুলী সেতু, কাট্টলী সৈকত, বায়েজিদ-ফৌজদারহাট সড়ক ইত্যাদি।

অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ঈদের ছুটিসহ বিভিন্ন ছুটির দিন এলেই নগরবাসী পরিবার-পরিজন নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। ছুটে যান বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে। উন্মুক্ত ও নিয়ন্ত্রিত- উভয় ধরনের বিনোদন স্পট ছুটির দিনে লোকে-লোকারণ্য হয়ে যায়। আর ঈদ এলে তো এই অবস্থা আরো বেসামাল হয়। ঠিক এমন পরিস্থিতিতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি আরো বাড়বে এই আশংকায় সরকার এবার বিনোদন স্পটসমূহে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। কিন্তু নগরীর অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকলেও পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের ভিন্ন চিত্র। পুলিশের সতর্ক অবস্থান এবং বাধাকে উপেক্ষা করে দুপুরের মধ্যে পুরো সৈকতের আশপাশ এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বিপুল সংখ্যক মানুষের তুলনায় পুলিশের সংখ্যা ছিল নগণ্য। তাই পুলিশকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়।

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. আলমগীর জানান, লকডাউনের কারণে অনেকদিন ধরে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে দোকান, ভাসমান দোকানগুলো বন্ধ। ঈদের ছুটির দিনগুলোতে লোকজন আসবে অনেকদিন পর। তাই দোকান খোলার জন্য এলেও পুলিশ কাউকে বসতে দিচ্ছে না। দুপুরের পর থেকে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। পুলিশ সমুদ্র সৈকতে প্রবেশ না করার জন্য মাইকিং করলে মানুষের ভিড় ঠেকাতে হিমশিম খেতে হয় তাদের। পরে সবাইকে সমুদ্র সৈকত থেকে পশ্চিম পাশে চর পাড়া এলাকায় সরিয়ে দেয়।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে ঈদের সময় সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী চট্টগ্রামের সব বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। ঈদের ছুটিতে উন্মুক্ত বিনোদনকেন্দ্রগুলোতেও ভিড় করার সুযোগ নেই। মানুষ যাতে এ ধরনের বিনোদনকেন্দ্রে ভিড় করতে না পারে সেজন্য জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে রয়েছে। ঈদের দিন শুক্রবার (১৪ মে) দিনব্যাপি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ২৫ মামলায় দুই হাজার ১৮০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এসময় বিতরণ করা হয় ৩০০ পিস মাস্ক।

এদিকে, করোনাকালের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে শপিংমল, বাজার, গণপরিবহণসহ প্রায় সবকিছুই খোলা হলেও বিনোদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ।

ফয়’স লেক অ্যামিউজমেন্ট পার্ক পরিচালনাকারী সংস্থা কনকর্ডের উপ-ব্যবস্থাপক (মার্কেটিং) বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, করোনার মধ্যে গতবছর টানা ৭ মাস বন্ধ ছিল। এবছরও প্রায় দুই মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিনোদন স্পটগুলো শুধু আর্থিকভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা নয়, আমাদের সবগুলো রাইডসহ শিশুদের বিনোদনের সব মেশিনারি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ফয়েজ লেক কমপ্লেক্সে বর্তমানে কর্মীদের বেতনসহ আনুষঙ্গিক খাতে মাসে খরচ হচ্ছে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা। ঈদ উপলক্ষে বোনাসসহ খরচ বেড়েছে। পার্ক বন্ধ থাকায় এবার লোকসান গুণতে হয়েছে।

এ বিষয়ে ভায়া মিডিয়া বিজনেস সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন করোনার মধ্যেও জীবন ও জীবিকা দুটিই চালিয়ে নিতে হবে আমাদের। দেশে ঈদ উপলক্ষে সবকিছুই খোলা হয়েছে। কিন্তু খোলা হচ্ছে না বিনোদন কেন্দ্র। সারাদেশে বিনোদন স্পটে প্রায় পাঁচ লাখের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি করে। বৈশ্বিক এ মহামারীতে বিনোদন স্পট বন্ধ থাকায় মালিক পক্ষ থেকে শুরু করে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী আর্থিকভাবে বিপদে আছি। করোনার কারণে সরকার সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে প্রায় সব সেক্টরে অনুদান দিলেও পর্যটন খাতে এখনো পর্যন্ত অনুদান দেয়নি।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিনোদন স্পটগুলো বন্ধ থাকায় আমরা ঋণগ্রস্ত হয়েছি। এছাড়া যেসব স্পটে দর্শনীর বিনিময়ে দর্শনার্থীরা আসেন তাদের কাছ থেকে করোনা ছড়ায় না। কারণ এখানে টিকেট কেটে যারা আসে তারা সবাই একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে চলে।

অপরদিকে, পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের মতো নগরীর উন্মুক্ত বিনোদন কেন্দ্র সিআরবি এলাকায় দুপুর থেকে উঠতি তরুণ-তরুণীদের ভিড় বাড়তে থাকে। নিচের সমতল এলাকা থেকে বিভিন্ন পাহাড়ের চূড়ায় অসংখ্য তরুণ-তরুণীর ভিড় লক্ষ্য করা যায়। এখানেও পুলিশ মাইকিং করে সবাইকে সরিয়ে দিতে দেখা যায়।

এদিকে চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ৫১ হাজার ৭৬৫ জন। তার মধ্যে ৪১ হাজার ৪১৩ জন নগরের ও ১০ হাজার ৩৫১ জন উপজেলা পর্যায়ের বাসিন্দা। এছাড়া এখন পর্যন্ত করোনায় মারা গেছেন মোট ৫৭৭ জন। এর মধ্যে ৪২৭ জন নগরের ও ১৫০ জন উপজেলার বাসিন্দা। পরিসংখ্যানে দেখা যায় গ্রামের চেয়ে শহরে সংক্রমণ ও মৃত্যু উভয় বেশি।

তাই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি মানার বিকল্প নেই। মাস্ক পরতে হবে। হাত ধোয়ার অভ্যাস থাকতে হবে। ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে। তা না হলে আবারও সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত