ঢাকা, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ আপডেট : ৫ মিনিট আগে
শিরোনাম

বাবা বলেছিলেন চুপ করতে, লাকড়ির আঘাতে মেয়েকে চিরতরে চুপ করালেন গর্ভধারিণী মা

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ১৪:১৪

বাবা বলেছিলেন চুপ করতে, লাকড়ির আঘাতে মেয়েকে চিরতরে চুপ করালেন গর্ভধারিণী মা
ছবি: সংগৃহীত

খুলনা সরকারি ইকবাল নগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী আরফান হোসেন নির্জনা (১৬) হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন মা সীমা আক্তার। গতকাল শুক্রবার (১০ জুলাই) খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইব্রাহীম খলিল মুহিম তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে গত বুধবার রাতে পুলিশ নগরীর নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকা থেকে নির্জনার রক্তাক্ত বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে।

আদালত সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে নির্জনার মা সীমা আক্তার জানিয়েছেন যে ঘটনার দিন বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয় এবং এক পর্যায়ে তিনি মেয়েকে কয়েকটি চড়-থাপ্পড় মারেন। ঘরের ভেতর শোরগোল শুনে নির্জনার বাবা আলীম হোসেন আকাশ এসে তাদের উভয়কে চুপ করতে বলেন। কিন্তু মেয়ে চুপ না থাকায় তিনি একটি কাঠের চলা (লাকড়ি) দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন, যার ফলে ঘটনাস্থলেই মেয়ের মৃত্যু হয়। এরপর নির্জনার বাবা ঘরের ভেতরে থাকা ছেঁড়া লুঙ্গি ও একটি প্লাস্টিকের বস্তায় লাশটি ভরে মোটরসাইকেলে বেঁধে নিরালার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় ফেলে রেখে আসেন।

হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সূত্র আরও জানায়, পরিবারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তেরখাদা আজগড়া এলাকার একটি ছেলের সঙ্গে বিয়ে করায় নির্জনার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল তার পরিবার। গত ২১ এপ্রিল আরফান হোসেন নির্জনা স্বেচ্ছায় তেরখাদা উপজেলার আজগড়া গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমানকে বিয়ে করেছিলেন। এর ১৭ দিন পর তাকে বুঝিয়ে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। ঘটনার দিন সকালেও মেয়েটি শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হলে তাকে আবারও বুঝিয়ে বাড়িতে আনা হয়েছিল, কিন্তু বিকেলে এই ঘটনা ঘটে যায়।

এদিকে সদর থানা সূত্র জানায়, ঘটনার পর থেকে নির্জনার বাবা মো. আলীম হোসেন আকাশ পলাতক রয়েছেন এবং তার অবস্থান জানতে বিভিন্ন স্থানে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার সকালে নির্জনার মা স্বেচ্ছায় হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে চাইলে দুপুরের পর তাকে আদালতে নেওয়া হয়। এর আগে সকালে পুলিশ বাদী হয়ে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম এ ব্যাপারে বলেন, হত্যাকাণ্ড নিয়ে আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার তুলে ধরবেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/জে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত