অর্থমন্ত্রী
দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে আইএমএফের কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেবে না সরকার
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৬, ১৭:৫০ আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৬, ২০:২৩

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে করা ঋণ চুক্তি থেকে সরে এসে নতুন কর্মসূচি নেওয়ার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রোববার (১২ জুলাই ) সচিবালয়ে আইএমএফ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, জনস্বার্থ ও দেশের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে আইএমএফের সাথে নতুন প্রোগ্রাম হবে। দেশের মানুষের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে আইএমএফের কোনো কর্মসূচিতে সরকার অংশ নেবে না।
নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করতে ঢাকায় আসা ১২ সদস্যের আইএমএফ প্রতিনিধিদল এদিন অর্থমন্ত্রী ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
সরকারের এক তথ্য বিবরণীতে মন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, “পূর্ববর্তী সরকারের নেওয়া আইএমএফ-এর আগের প্রোগ্রামটি ছিল সম্পূর্ণ জনস্বার্থবিরোধী। একটি নির্বাচিত সরকার হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের এবং দেশের অর্থনীতির স্বার্থ সুরক্ষিত রাখাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।”
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আর্থিক সংকট সামাল দিতে কয়েক দফা আলোচনা শেষে ২০২৩ সালের প্রথম দিকে আইএমএফের সঙ্গে ৪৭০ কোটি (৪.৭০ বিলিয়ন) ডলারের ঋণ চুক্তি করে বাংলাদেশ।
এর মধ্যে পাঁচ কিস্তিতে ৩৬৪ কোটি ডলার হাতে পেয়েছে বাংলাদেশ। শর্ত পূর্ণ না হওয়ায় ষষ্ঠ কিস্তির অবশিষ্ট অর্থ আইএমএফ ছাড় করেনি। সরকারও এখন আর ওই কর্মসূচিতে থাকতে আগ্রহী নয়।
তার বদলে নতুন কর্মসূচির আওতায় ঋণ চেয়ে গত জুন মাসে আবেদন করে বাংলাদেশ। এর আওতায় তিন বছরে ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ পাওয়ার আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
অর্থমন্ত্রী এর আগে একাধিকবার বলেছিলেন, আগের ঋণ কর্মসূচি নেওয়ার সময়ের অর্থনৈতিক ও নীতিগত বাস্তবতা বদলে গেছে।
রাজনৈতিক পালাবদল, অর্থনীতির নীতিগত কাঠামো পরিবর্তন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও নতুন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণে কিছু সংস্কার নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি, যা নতুন করে বাস্তবায়নের কথা ভাবছে সরকার।
নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করতে ঢাকা আসায় আইএমএফ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সংস্থার মুদ্রা ও পুঁজিবাজার বিভাগের ডেপুটি ডিভিশনের প্রধান ইভো ক্রজনার।
রোববার সকালে তারা বাংলাদেশ ব্যাংকে গিয়ে ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান ও কবির আহাম্মদের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে আলোচনার সূচনা করেন। সেখানে অধা ঘণ্টার মত বৈঠক করে তারা অর্থ মন্ত্রণালয়ে যান।
তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দেশের চলমান রাজনীতি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক সহযোগিতা বিষয়ে সরকারের অবস্থান ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।
আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আস্থা বাড়াতে বর্তমান ভিসা নীতিতে পরিবর্তন আনা হবে।
তিনি বলেন, একটি আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে আমাদের বর্তমান ভিসা নীতি রিভাইজ বা সংশোধন করা দরকার। এই নীতিকে আরও সহজ ও আধুনিক করা হবে।
বাংলাদেশের ভিসা নীতি আধুনিকীকরণের কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ভিসা নীতি আধুনিকীকরণের ফলে দেশে বিদেশি পর্যটকদের আগমন বাড়বে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে বিনিয়োগ করতে পারবেন এবং বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের ওপর আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও সুদৃঢ় হবে।
বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম










