দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন হওয়া উচিত: ফরাসউদ্দিন
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৬, ১৮:২৯

দলীয় সরকারের অধীনেই সংসদ নির্বাচন হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। রোববার (১২ জুলাই) ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে ‘নেহরীন খান স্মৃতি বক্তৃতায়’ তিনি এমন অভিমত তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, একটি শক্তিমান ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে উপযুক্ত রক্ষাকবচে পৃথিবীর অন্যান্য গণতন্ত্রের মতই দলীয় সরকারের অধীনেই সাধারণ নির্বাচন হওয়া উচিৎ এবং সেটা নিরপেক্ষ ও ন্যায়নিষ্টভাবেই করা সম্ভব।
পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ২০১১ সালে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত করার পাশাপাশি সংবিধানের ৫৪টি ক্ষেত্রে সংযোজন, পরিমার্জন ও প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ কয়েকজনের করা একটি রিট আবেদনের নিষ্পত্তি করে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু অংশ বাতিল ঘোষণা করে হাই কোর্ট।
ওই রায়ের ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরার পথ তৈরি হয়।
ফরাসউদ্দিন মনে করেন, ২০১৪ সালের ভোটের মাধ্যমে দলীয় সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন করার সুযোগ ‘হাতছাড়া’ হয়ে যায়।
তিনি বলেন, আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য না হলেও রাজনীতি সচেতন একজন বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য এবং আমার মূল্যায়নে আমি নিশ্চিত ছিলাম যে, ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি জোট জয়লাভ করবে অথবা খুব শক্তিশালী বিরোধী দল হয়ে সংসদে যাবে। কিন্তু দলীয় সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেল।
অর্থনীতিবিদ আকবর আলি খানের মেয়ে নেহরীন খান ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন। তার স্মরণে প্রতিবছর এই বক্তৃতা আয়োজন করা হয়।
এতে ‘সাংবিধানিক সংস্কার ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা: বাংলাদেশ প্রেক্ষিত’ শিরোনামে বক্তব্য দেন ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করে আসা ফরাসউদ্দিন। বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ট্রাস্টিবোর্ডের সভাপতির দায়িত্বে আছেন তিনি।
তত্বাবধায়ক সরকারপদ্ধতি নিয়ে ফরাসউদ্দিন বলেন, কেয়ারটেকার সরকার রাজনীতির উপর অনাস্থাজনিত আমলাতান্ত্রিক একটি অগ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা। নির্বাচনের ৯০ দিন আগে দলীয় সরকারের পরিধি ছোট করে রুটিন ওয়ার্কের নির্বাচনি সরকারে রূপান্তর ঘটতে পারে। সংসদ সদস্যদের ক্ষমতা ও প্রটোকল সে সময় স্থগিত থাকতে পারে। এনইসি সে সময় কার্যকর থাকবে না; আর যথারীতি প্রশাসনিক ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের হাতে চলে যাবে।
দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়েও কথা বলেন ফরাসউদ্দিন।
তার মতে, স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে যে অহেতুক বাকবিতণ্ডা দেশের রাজনীতিকে এক চরম অস্বস্তিতে রাখছে। এর সমাধান কিন্তু জিয়াউর রহমানের ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ দেওয়া ঘোষণার মধ্যেই নিহিত।
রাজধানীর আফতাবনগরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুর এলাহী মিলনায়তনে এ স্মারকবক্তৃতা হয়, যেখানে ওয়ান-ইলেভেনের প্রসঙ্গও তোলেন ফরাসউদ্দিন।
তার দাবি, সে সময় সংস্কারের নামে আওয়ামী লীগে শেখ হাসিনার ক্ষমতাকে খর্ব করার একটি জোরালো প্রচেষ্টা হয়। তবে তাকে মাইনাস করার অপচেষ্টা জিল্লুর রহমান ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ব্যর্থ করে দেন।
একই প্রচেষ্টা বিএনপিতেও হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মান্নান ভূইঞার নেতৃত্বে সংশোধনবাদী মহলটি বিরাজনীতিকরণের অংশ হিসেবে খালেদা জিয়াকে দেশত্যাগে প্রচণ্ড চাপ দিতে থাকেন। আপসহীন নেত্রী জীবন মরণে বাংলাদেশ সংকল্পে অটুট থাকেন।
বক্তৃতায় ব্যাংক খাত সংষ্কারের কথাও তোলেন এই অর্থনীতিবিদ।
তিনি বলেন, আয়, সম্পদ ও সুযোগে বৈষম্য বেড়েছে। অর্থনীতি সে কারণে কিছুটা হলেও গতিহারা হয়েছে। রাজস্ব জিডিপির অনুপাত নেমেছে আটের ঘরে। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ সর্বনিন্ম ৬ দশমিক ৭ ভাগে নেমেছে।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সাংবাদিক সোহরাব হাসান, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক শামস রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ফকরুল আলম ও ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির কোষাধ্যক্ষ ইশফাক ইলাহী চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।
বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম










