ঢাকা, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ আপডেট : ৫ মিনিট আগে
শিরোনাম

চাঁদপুরে গভীর রাতে বাড়িতে ঢুকে গৃহবধূকে হত্যা

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৬, ১২:১৩

চাঁদপুরে গভীর রাতে বাড়িতে ঢুকে গৃহবধূকে হত্যা
ছবি: সংগৃহীত

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে ‘ডাকাতরা’ বাড়িতে ঢুকে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। তাদের হাতুড়ির আঘাতে আহত হয়েছেন আরেক নারী।

মঙ্গলবার রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে শাহরাস্তি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাত্তলা গ্রামের বেপারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন শাহরাস্তি থানার ওসি মীর মাহবুবুর রহমান।

নিহত রিগান আক্তার মিম (২৬) ওই গ্রামের মৃত সেলিম বেপারীর ছেলে রনির স্ত্রী। আহত হয়েছেন সেলিম বেপারীর আরেক পুত্রবধূ সুমাইয়া আক্তার (২৪)।

ঘটনার সময় বাড়িটিতে দুই গৃহবধূ, তাদের দাদা শ্বশুর নুরুল ইসলাম এবং তিনটি শিশু ছিল। মিমের স্বামী রনি ঢাকায় চাকরি করেন। সুমাইয়ার স্বামী বাড়িতে ছিলেন না।

আহত গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার বলেন, ‘‘রাত ১২টার দিকে তিনি তিন মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। আরেক কক্ষে তার বড় জা মিম আড়াই বছর বয়সী মেয়ে ও চার মাস বয়সী ছেলেকে নিয়ে ঘুমাতে যান।’’

সুমাইয়া বলেন, ‘‘গভীর রাতে মুখ বাঁধা দুই ব্যক্তি তাকে ও তার শিশুকে ছুরির মুখে জিম্মি করে ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান জিনিসপত্র দিতে বলে।’’

তিনি আলমারিতে থাকা জিনিসপত্র নিয়ে যেতে বললে ডাকাতরা তার ওড়না দিয়ে হাত বেঁধে ফেলে এবং হাতুড়ি দিয়ে মাথায় দুই দফা আঘাত করে। পরে তার কানের দুল, আলমিরা থেকে আরেক জোড়া দুল ও একটি আংটি নিয়ে যায়।

সুমাইয়া আরও বলেন, ‘‘একপর্যায়ে ডাকাতরা পাশের কক্ষে প্রবেশ করে। পাশের কক্ষ থেকে বড় জায়ের কান্নার শব্দ শুনতে পেলেও বাঁধা অবস্থায় তাকে সাহায্য করতে পারেননি।’’

প্রতিবেশী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘‘গভীর রাতে মিমের ঘর থেকে আর্তচিৎকার শুনে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ঘরের ভেতর ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে জানালায় ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া পাননি। তখন ডাকাতির সন্দেহ হলে কয়েকজন প্রতিবেশীকে খবর দেন।’’

পরে মসজিদের মাইকে ডাকাত পড়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। স্থানীয়রা বাড়িটি ঘিরে পূর্ব পাশের একটি জানালার কপাট খোলা দেখতে পান। ভেতরে তাকিয়ে মিমকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

আনোয়ার হোসেন আরও বলেন, ‘‘চেয়ারম্যান (নুরুল ইসলাম) গেট খুলে দিলে তারা ঘরে প্রবেশ করেন। ছোট গৃহবধূকে হাত বাধা অবস্থায় কান্নারত দেখতে পান। পরে অপর কক্ষে গিয়ে বড় গৃহবধূ মিমকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার গলায় ওড়না পেঁচানো ছিল।’’

স্থানীয়রা ওড়না খুলে তাকে জাগানোর চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া মেলেনি। খবর পেয়ে চিকিৎসক এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবারের প্রবীণ সদস্য নুরুল ইসলাম বলেন, ‘‘রাতে তিনি বাড়ির লোহার গেটে তালা লাগিয়ে চাবি টেবিলের ওপর রেখে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। চিৎকার শুনে জেগে উঠে গেট খুলতে গিয়ে দেখেন গেটটি ভেতর থেকে আটকানো থাকলেও তালাটি নেই। পরে বাড়ির বাইরে অক্ষত অবস্থায় তালাটি পাওয়া যায়।’’

এদিকে খবর পেয়ে নিহতের বাবা-মা, ভাই-বোন ও স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। দুই শিশু সন্তানকে বুকে জড়িয়ে তাদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

খবর পেয়ে শাহরাস্তি থানার ওসি মীর মাহবুবুর রহমান এবং সিনিয়ার সহকারী পুলিশ সুপার (কচুয়া সার্কেল) মো. আব্দুল হাই চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

ওসি মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, “পুলিশ আলামত সংগ্রহ ও মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

“ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।”

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হাই চৌধুরী বলেন, ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত