মতিঝিল এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী বাপ্পি গ্রেফতার
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০২৬, ১৬:১৫

ঢাকার কমলাপুরে এক ব্যবসায়ীর অফিসে গুলির ঘটনায় তানিম রেজা বাপ্পি নামে একজনকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ বলছে, তিনি মতিঝিল এলাকার ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’।
মতিঝিলের হোটেল পূর্বাণী সংলগ্ন এলাকা থেকে শুক্রবার(১৭ জুলাই) বাপ্পি ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে তাদের দেওয়া তথ্যে কমলাপুর থেকে আরো একজনকে গ্রেপ্তারসহ তিনটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশের ভাষ্য।
বাপ্পি বাদে গ্রেপ্তার বাকি চারজন হলেন- মোহাম্মদ জুয়েল, শাকিল, মো. মানিক কাজী, রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে রিজন।
পুলিশ বলছে, গত ১৯ মে দক্ষিণ কমলাপুরে কোরবানির পশুর হাটের এক ইজারাদার ব্যবসায়ীর অফিস লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়। ১৫ মে একই ব্যবসায়ীর কাছে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
শনিবার (১৮ জুলাই) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ ওসমান গণি বলেন, “ওই ঘটনায় মতিঝিল থানায় হওয়া একটি মামলার তদন্তে তানিম রেজা বাপ্পি ও তার সহযোগীদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকায় তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।”
তার ভাষ্য, শুক্রবার সকালে হোটেল পূর্বাণী সংলগ্ন এলাকা থেকে বাপ্পি ও তার তিন সহযোগী জুয়েল, শাকিল ও মানিক কাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুপুরে উত্তর কমলাপুর থেকে আরেক সহযোগী রিজন গ্রেপ্তার করা হয়।
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতে দক্ষিণ কমলাপুরে বাপ্পির অফিসে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি রিভলভার, দুটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড রিভলভারের গুলি, দুই রাউন্ড পিস্তলের গুলি, দুইটি ম্যাগাজিন, একটি ইলেকট্রিক শক গান এবং একটি বিদেশি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় অস্ত্র আইনে আরেকটি মামলা হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ কর্মকর্তা ওসমান গণি বলেন, “বাপ্পি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত, বিভিন্ন গুলিবর্ষণের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে। এছাড়া মতিঝিল এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে।”
তার বিরুদ্ধে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি, দস্যুতা, অপহরণ, হত্যা চেষ্টা, নারী ও শিশু নির্যাতন, মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট সাতটি মামলার তথ্য রয়েছে। তবে ইতোপূর্বে সে কখনোই গ্রেপ্তার হননি বলেও ভাষ্য এই পুলিশ কর্মকর্তার।
বাপ্পি আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের সহযোগী বলে প্রচলিত আছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তাদের সহযোগী কে বা কার আন্ডারে কাজ করতো এগুলো আমরা বিস্তারিত তদন্ত করে দেখতেছি। এটা সময় সাপেক্ষ বিষয়, এখনো বিষয়টি নিশ্চিত নয়।”
মতিঝিল-সবুজবাগ এলাকায় নানা ধরণের অপরাধমূলক কার্যক্রমে বাপ্পি জড়িত দাবি করে তিনি আরো বলেন, “রিমান্ডে এনে ব্যপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে আর কোন কোন ঘটনার তার সম্পৃক্ততা রয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
গেল এপ্রিলে ঢাকার নিউ মার্কেট এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে গুলি করে হত্যার ঘটনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এটা নিয়ে আমরা সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছি, আশা করি দ্রুত ভালো রেজাল্ট দিতে পারব।”
বাংলাদেশ জার্নাল/এসআইপি











