মাধবদী পৌরসভার ৩ গাড়ি বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০২৬, ২২:৫১ আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৬, ২৩:০৫

নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভার গ্যারেজে হদিস মিলছে না কয়েকটি সরকারি গাড়ির। সম্প্রতি প্রশাসনের অভিযান চালিয়ে তিনটি গাড়ি উদ্ধার করেছে। তবে হদিশ মিলছে না আরও তিনটি গাড়ির। এ ঘট্নায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা বলেছেন মাধবদী পৌরসভার প্রশাসক ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা জাহান সরকার।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া গাড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে দুটি ডাম্প ট্রাক ও একটি পে-লোডার। এ ছাড়া দুটি ট্রাক ও একটি অ্যাম্বুলেন্সের হদিশ মিলছে না।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি মাধবদী পৌরসভার গাড়িচালক মো. মোস্তফা ও মো. কামাল হোসেনসহ একটি চক্র পৌরসভার গাড়ি বিক্রি করে দিয়েছেন এমন তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নজরে এলে নড়েচড়ে বসে পৌর কর্তৃপক্ষ। তারপরই গাড়ির খোঁজ-খবর নেওয়া শুরু হয়।
পরে বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে ১০ জুলাই শিবপুরের ইটাখোলার একটি গ্যারেজ হতে উদ্ধার করা হয় দুটি ডাম্প ট্রাক ও একটি পে লোডার।
ওই গ্যারেজের মালিক তাইজুল ইসলাম বলেন, তৎকালীন পৌর মেয়র মোশাররফ হোসেন মানিক অকেজো পাঁচটি গাড়ি মেরামতের জন্য গ্যারেজে পাঠান। মেরামত করার পর দুটি গাড়ি তৎকালীন মেয়র বুঝে নেন। বার বার বলার পরও তিনটি গাড়ি আর নেননি। বিলও পরিশোধ করা হয়নি। ফলে গাড়িগুলো গ্যারেজেই রেখে দেওয়া হয়। ১০ জুলাই জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে তিনটি গাড়ি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে পৌরসভার একটি অ্যাম্বুলেন্স মেরামত করার জন্য শেখেরচরের একটি গ্যারেজে পাঠানো হয়েছিল।
শেখেরচরের ওই গ্যারেজের মালিক মনিরুজ্জামান মনু বলেন, দুই বছর আগে গ্যারেজের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি পৌরসভার একটি অ্যাম্বুলেন্স দেখতে পান। একাধিকবার গাড়িটি নেওয়ার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ৫ অগাস্টের পরবর্তী সময়ে পৌরসভার গাড়ি চালক আল আমিন ও কামাল হোসেনের মাধ্যমে গাড়িটি পৌরসভায় ফেরত দেওয়া হয়। তবে অ্যাম্বুলেন্সটি গ্যারেজ থেকে বের করে পৌরসভায় আনার কথা বলা হলেও আদতে তার কোনো হদিশ নেই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাড়িচালক কামাল হোসেন নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তৎকালীন মেয়রের ব্যক্তিগত গাড়িচালক দুলালের মাধ্যমে অ্যাম্বুলেন্সটি গ্যারেজ থেকে বের হয়েছে জানলেও এরপর তিনি আর কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে শাস্তি মাথা পেতে নেবেন বলেও জানান তিনি।
গাড়ির বিষয়ে জানতে চাইলে মাধবদী পৌরসভার স্টোর কিপার রহিমা বেগম বলেন, গাড়ির কোনো রেজিস্ট্রার কখনও তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। ফলে কয়টা গাড়ি আছে বা নেই সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
গাড়ির বিষয় পৌরসভার কার দায়িত্বে ছিল তাও জানা নেই বলে জানান স্টোর কিপার রহিমা বেগম।
নিখোঁজ গাড়ির বিষয়ে পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা ইউএনও আসমা জাহান সরকার বলেন, দুটি ট্রাক ও একটি অ্যাম্বুলেন্সের হদিশ মিলছে না। সরকারি সম্পত্তি বেহাত হওয়ার বিষয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সূত্র: বিডি নিউজ
বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম










