ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬ আপডেট : ১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২১ মে ২০১৯, ১৯:৫০

প্রিন্ট

পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলন স্থগিত

পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলন স্থগিত
খুলনা প্রতিনিধি

বকেয়া মজুরি পরিশোধসহ তিন শর্তে এক সপ্তাহের জন্য আন্দোলন স্থগিত করেছেন খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকেরা। মঙ্গলবার খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বৈঠক শেষে পাটকল শ্রমিক লীগের খুলনা ও যশোর অঞ্চলের আহ্বায়ক মুরাদ হোসেন আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন।

জানা যায়, বকেয়া মজুরি পরিশোধসহ নানা দাবিতে গত ১৬ দিন ধরে আন্দোলন করে আসছিলো খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকেরা। কর্মসূচি স্থগিতের জন্য শ্রমিকনেতারা বৈঠকে শর্ত দিয়েছেন, আন্দোলনকালীন অন্যান্য খাতের যেসব শ্রমিক কাজ করে গেছেন, তাদের নাম ও পর্যায়ক্রমে কাজে যোগ দেওয়া অন্য শ্রমিকদের নামও মজুরি কমিশনের খাতায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত খুলনার জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি), শ্রম অধিদপ্তর ও শ্রমিকদের নিয়ে এই বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে পাটকল শ্রমিক লীগের খুলনা ও যশোর অঞ্চলের আহ্বায়ক মো. মুরাদ হোসেন বলেন, চলতি সপ্তাহে দুটি বকেয়া এবং এক সপ্তাহের মধ্যে পুরো বকেয়া প্রদানের পাশাপাশি বুধবার বন্ধ মিলগুলোতে জরুরিভাবে কর্মরত শ্রমিকদের হাতে মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন করে পে স্লিপ দেওয়ার শর্তে আন্দোলন এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হলো।

খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকল রয়েছে। এই মিলগুলোতে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে শ্রমিক কাজ করেন প্রায় ৩০ হাজার। সব শ্রমিকের মজুরি বকেয়া রয়েছে ৯ থেকে ১২ সপ্তাহের। দীর্ঘদিন মজুরি না পেয়ে ৫ মে দুপুর থেকে খুলনা অঞ্চলের মিলগুলো একে একে বন্ধ করে শ্রমিকেরা কর্মস্থল থেকে বেরিয়ে আসেন। পরদিন তাদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে প্রথম রোজা থেকে বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খুলনা নগরের নতুন রাস্তা মোড় ও অন্যান্য মিলের সামনের সড়ক অবরোধ করার কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগ ও সিবিএ-নন সিবিএ পরিষদের নেতারা। প্রথম রোজা থেকে তাঁরা সড়কের ওপরই ইফতার করেন।

বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) সূত্র জানায়, বিগত ১৫ দিনে খুলনা-যশোর অঞ্চলের নয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে উৎপাদন ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১৫ মেট্রিকটন পাটজাত পণ্য। অর্থাৎ যার বিক্রয়মূল্য হিসাব করলে দাঁড়ায় ১৫ কোটি টাকা। খুলনা-যশোর অঞ্চলের নয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে এ পর্যন্ত শুধুমাত্র শ্রমিকদের মজুরি বকেয়া পড়েছে ৪২ কোটি আর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এপ্রিল মাস পর্যন্ত বকেয়া বেতনের পরিমাণ ১৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রায় ৬০ কোটি টাকা বকেয়া পড়েছে শুধুমাত্র মজুরি ও বেতন। তবে নয়টি মিলের উৎপাদিত পণ্য মজুদ রয়েছে তিন শ কোটি টাকারও বেশি।

কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করার পরও সরকার ও বিজেএমসি থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে আরও কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেন শ্রমিকনেতারা। তাদের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী কাল বুধবার সকাল ৮টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত নতুন রাস্তা মোড় অবরোধ ও পাশের রেলপথ অবরোধের কথা ছিল।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন। সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘ আলোচনার পর অনেক দিন ধরে চলা সংকটের অবসান হলো। শ্রমিকদের দ্রুত মজুরি পরিশোধ করা হবে। পাশাপাশি মজুরি কমিশন বাস্তবায়নের কাজও চলবে। ওই আলোচনার পর শ্রমিকেরা আবার মিলে ফিরে যাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ডিপি/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত