ঢাকা, শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০১৯, ১৩:২৯

প্রিন্ট

ডেঙ্গু নিধনে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা মন্ত্রী-মেয়রের

ডেঙ্গু নিধনে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা মন্ত্রী-মেয়রের
নিজস্ব প্রতিবেদক

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বাহক এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত অভিযান চলবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি বলেছেন, এটি আমাদের কাছে এক প্রকার যুদ্ধ।

একইসঙ্গে এই মশা নিয়ন্ত্রণে নগরবাসীর সচেতনতার ওপরও জোর দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম।

তারা বলছেন, এডিস মশা ঘরে স্বচ্ছ পানিতে জন্ম নেয়। এজন্য পানি জমিয়ে রাখা যাবে না। এডিস মশা নিধন এটা এখন এক প্রকার যুদ্ধ বলা চলে। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে আমাদের যা কিছু করা দরকার তার সব কিছুই করা হচ্ছে। এডিস মশার উৎপত্তিস্থল বন্ধ করতে পারলে এই যুদ্ধে জয়ী হওয়া সম্ভব।

শুক্রবার রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে আয়োজিত মশক নিধন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মন্ত্রী ও মেয়র।

অনুষ্ঠানে মশা নিধন কার্যক্রম তরান্বিত করতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীদের ছুটি বাতিলের ঘোষণাও দেন ঢাকা উত্তরের নগর পিতা।

এক দশক ধরেই বছরের এই সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ে উদ্বেগ ছড়াচ্ছে। চলতি বছর নতুন ধরনের ডেঙ্গুর কথা জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন মারা গেছেন হাসপাতালে। এই পরিস্থিতিতে মশা নিধনে নগর কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম নিয়েও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

নানা সময় দেখা গেছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তদের সিংহভাগই উচ্চবিত্ত বা উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেণির। এর কারণ এডিস মশার জীবনাচরণ। নালা, নর্দামায় জন্ম হওয়া কিউলেস মশার তুলনায় এই মশাগুলো অন্য রকম। এডিসের জন্ম পরিস্কার ও স্বচ্ছ পানিতে। তারা খায় ফলের রস জাতীয় খাবার।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বৃষ্টি হলে, কোথাও পানি জমে থাকলে এই মশা সহজে বিস্তার লাভ করে। তাই আমাদের নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখতে হবে। নিজেদের আগে সচেতন হতে হবে। তাহলেই এই রোগ ও মশা থেকে আমরা মুক্তি পাব।’

সরকারও হাত গুটিয়ে বসে নেই জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এডিস মশা নিধনে আমাদের যার যার অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে। ২০০০ সালের প্রথম দিক থেকেই এ রোগের সঙ্গে আমাদের পরিচয় হয়। গেল বছরের আগ পর্যন্ত এটি নিয়ে আমরা তেমন একটা চিন্তিত ছিলাম না। কিন্তু এবার চিন্তার বিষয় আছে। আর তাই এই এডিস মশা নিধনে সরকারের যে সকল প্রচেষ্টা ছিল। সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

জনসচেতনতায় জোর দিয়ে মেয়র আতিকুল বলেন, ‘বাসায় কোনোভাবেই পানি জমিয়ে রাখা যাবে না। পরিষ্কার পানিও তিন দিন জমিয়ে রাখলে এডিস মশার জন্ম হয়। জমে থাকা স্বচ্ছ পানি নিজ দায়িত্বে পরিষ্কার করতে হবে। ডেঙ্গু নিধনে এ মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি জনসচেতনতা সৃষ্টি।’

নগর কর্তৃপক্ষ কেবল বাড়ির বাইরের মশা মারতে পারে জানিয়ে আতিকুল বলেন, ‘বাসা-বাড়ির বাইরে মশক নিয়ন্ত্রণে ডিএনসিসির মশক নিধন কর্মী, সুপারভাইজাররা নিয়মিত কাজ করছে। প্রতিটি এলাকার মশক কর্মী, সুপারভাইজার ও মনিটরিং কর্মকর্তার নাম ও মোবাইল নম্বর ডিএনসিসির ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে। যে কেউ তাদেরকে ফোন করে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে পারেন।’

‘এডিস মশা নিধন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কার্যক্রম চলবে। এ কাজ যেন নির্বিঘ্নে চলে সেই জন্য, ডিএনসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও মশক নিধন বিভাগের সকল কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। মশা নিধন না হওয়া পর্যন্ত এই আদেশ বহাল থাকবে।’

অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে এডিস মশা ও ডেঙ্গু জ্বর নিধনে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য শোভাযাত্রায় অংশ নেন সবাই।

বাংলাদেশ জার্নাল/ওয়াইএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত
close
close